• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন
Headline
সাউদিয়ানদের বিলাসী খাবার বনাম ফিলিস্তিনের ক্ষুধার্থ শিশু! রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয়দানকারী গ্রেপ্তার! ফুলবাড়ীতে মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত! সংস্কার না করায় নষ্ট হতে যাচ্ছেফুলবাড়ীর মাইক্রোওয়েভ স্টেশন! দাউদকান্দিতে একদিনে পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার-১৯! কুমিল্লায় ভুয়া সিআইডি পরিচয়ে প্রতারণা, আটক-১! বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী চঞ্চল চৌধুরী এবং বিনোদন সংস্কৃতি! ভ্রমন পিপাসুদের জন্য উত্তম পর্যটন এরিয়া হতে পারে নরসিংদির ‘ হেরিটেজ রিসোর্ট ‘! কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা • হানিফসহ ৪ আসামির মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা! ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে, আমরা সেটাই করব। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশের প্রয়োজন, এটা স্বীকার করে নিয়ে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী আমাকে দায়িত্ব পালন করতে দিন–কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির!

সাংবাদিক সাগর-রুনির মামলায় ফেঁসে যেতে পারেন শো-বিজ তারকা রোকেয়া প্রাচী!

Reporter Name
Update : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

তাসমিনা খন্দকার:

রোকেয়া প্রাচীর জন্ম বাংলাদেশের ফেনী জেলার সোনাগাজীতে। রোকেয়া প্রাচীর বাবা আবদুর রাজ্জাক বঙ্গবন্ধুর আমলে ঢাকা মিরপুর-পল্লবী শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলেন।

তিনি শিক্ষাজীবনে পড়াশোনা শেষ করে আশির দশকের শেষভাগে দেশের অভিনয় ও আবৃত্তি জগতে প্রবেশ করেন।

ব্যক্তিজীবনে তাঁর প্রথম স্বামী ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সার্জেন্ট আহাদ পারভেজ, যিনি ১৯৯৯ সালে মতিঝিলে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন।

প্রথম সংসারে তাঁর একটি কন্যাসন্তান জন্মায়, যাঁর নাম লামিসা রিমঝিম এবং তাঁর বাবা প্রয়াত সার্জেন্ট আহাদ পারভেজ।

বড় মেয়ে লামিসা রিমঝিম উচ্চশিক্ষার জন্য মালয়েশিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটিতে (Curtin University) স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করেছেন।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

আসিফ নজরুলের সাথে রোকেয়া প্রাচীর দীর্ঘ ৯ বছরের সংসার ভাঙার পেছনে প্রধান কারণ ছিল পারস্পরিক বোঝাপড়ার চরম ঘাটতি এবং তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের মাঝেই নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কন্যা শীলা আহমেদের আগমন, যার জেরে ২০১৩ সালে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

দ্বিতীয় সংসারে তাঁর আরেকটি কন্যা সন্তান জন্মায়, যাঁর নাম আস্থা এবং তাঁর বাবা আসিফ নজরুল।

ছোট মেয়ে আস্থা বর্তমানে বড় হয়ে ঢাকায় স্নাতক (অনার্স) পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।

তাঁর সন্তানেরা মূলত প্রচার মাধ্যমের আড়ালে থেকে সাধারণ নিয়মে নিজেদের পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত জীবন পরিচালনা করছেন।

পেশাগতভাবে তিনি একাধারে একজন থিয়েটার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং নাট্য নির্মাতা।

শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন এবং দলের মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য পদসহ নানা রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করেন।

তিনি শেখ হাসিনার সরকারের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও দলীয় প্রচারণায় অংশ নিতে বহুবার সরকারি ও দলীয় খরচে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন।

. রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারে এবং বিভিন্ন দলীয় বা সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি হিসেবে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ,যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ রাষ্ট্রীয় খরচে সফর করেছেন। অথচ যেখানে রোকেয়া প্রাচীর সরকারী অর্থ গ্রহনের কোন অধিকার নেই।

চলচ্চিত্র উৎসব ও দলীয় সাংস্কৃতিক আয়োজনে যোগ দিতে তিনি বিভিন্ন সময়ে লন্ডনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং সেখানে অবস্থান করেছেন।

তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঠিক সংখ্যা এবং মোট সম্পদের নিখুঁত পরিমাণ এখনো কোনো তদন্তকারী সংস্থা বা গণমাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করেনি। তবে খুব শীঘ্রই হয়তো প্রকাশ করা হবে।

তবে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে তাঁর নামে বিপুল সম্পদ ও আর্থিক সুবিধা অর্জনের নানা অভিযোগ উঠছে।

রাজনৈতিক প্রভাবের সুবাদে ঢাকায় তাঁর সম্পদ, আবাসন,তাঁর মালিকানাধীন নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট, জমি বা প্রোডাকশন হাউজের মতো সম্পদ আর কি কি সম্পদ আছে দুদক ও সরকার উভয়ের খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।

সর্বশেষ চাঞ্চল্যকর তথ্যটি হলো, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে তাঁর নাম উঠে এসেছে ।

সাবেক এনটিএমসি মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের একটি গুমের মামলার কল রেকর্ড (CDR) বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডের ঠিক দুদিন আগে জিয়াউল আহসান তাঁর এক সহযোগীকে রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে দুটি সিডি/ডিস্ক সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

জিয়াউল আহসানের সাথে তাঁর গভীর ও বিশেষ রাজনৈতিক যোগাযোগের সূত্র ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের আলামত গায়েব বা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ওই ডিস্ক আদান-প্রদান করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা প্রাথমিক ক্লু পেয়েছেন।

অথচ এই ব্যক্তিরাই বছরের পর বছর ধরে কপালে বিশাল লাল ফোঁটা লাগিয়ে, হাতে মোমবাতি নিয়ে শহীদ মিনার কিংবা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার ভণ্ডামি দেখিয়েছে।

সুযোগসন্ধানী ও ভণ্ড সেজে এরা পর্দার আড়ালে ভয়ঙ্কর অপরাধের সুতা টেনেছে এবং দেশের সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত প্রতারিত করছে।

তথ্যঋণঃ তাসমিনা খন্দকার।

প্রতিবেদক পরিচিতি:

তাসমিনা খন্দকার, যুক্তরাজ্য প্রবাসী একজন অনুসন্ধানী লেখক- প্রতিবেদক এবং একজন সোশ্যাল এক্টিভিস্ট। সম সাময়িক বাংলাদেশ প্রেক্ষিত রাজনীতির হালচাল, বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার প্রতিবেদন গুলো পাঠক মহল সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

ছবিঃ সংগৃহিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category