নড়াইল জেলা প্রতিনিধি :
নড়াইলের লোহাগড়ায় সুমনা ফেরদৌসী(৩৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগে তারই স্বামী লিমন মল্লিককে(২৭) আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রীকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। সোমবার(১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী লিমনকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় ঘটনাটি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী, তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক লিমন মল্লিক জানিয়েছেন, ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। ২০২১ সালে ঢাকাতে লিমনের দ্বিতীয় ও সুমনার চতুর্থ বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে লিমনের দ্বিতীয় স্ত্রী সুমনাকে নিয়ে লিমন বাড়িতে চলে আসেন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা স্বত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। কিছুদিন পর লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটা শ্রমিক হিসাবে কাজ করে সংসার চালান।
আরও জানা যায়, এদিকে লিমনের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করেন, পাশাপাশি অপরিচিত পুরুষদের সাথে সখ্যতা গড়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান প্রদান করেন। বিষয়টি নিয়ে লিমন ও সুমনা দম্পতির মাঝে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। তবে সুমনা এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে করবেনা মর্মে স্বামী লিমনের কাছে ওয়াদা করেন। সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৮ টার দিকে আবারও টিকটিকে কুরুচিপূর্ণ ছবি ভিডিও পোস্ট করা ও পরপুরুষদের সাথে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদান ও কথোপকথনের জেরে আবারও লিমন সুমনার মাঝে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে লিমনের আঘাতে সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাঠিতে পড়ে যান। পরে সুমনাকে তার স্বামী শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে দেন।
পুলিশ আরও জানায়, সকাল ১০ টার দিকে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে পড়েন লিমন। স্বাভাবিক ভাবে সারাদিন কাজ কাম সেরে বিকাল ৫ টার পর বাড়িতে এসে ঘরের দরজা খুলে নিজেই চিৎকার চেচামেচি করে কান্নাকাটি শুরু করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয় এটি কোনো আত্নহত্যা নয়, হত্যাকান্ড। পরে রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনার স্বামী লিমনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ননা দিয়েছেন। মূলত হত্যার পর আত্নহত্যা দেখাতেই সুমনাকে ঘরে ঝুলিয়ে দিয়েছিলো। ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের নিকট খবর পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।