নরসিংদী থেকে মাহবুব আলমঃ
নরসিংদীর বাংলা মদের দোকানে বিনা টাকায় মদ চাওয়ার পরও মদ না দেওয়ায় দোকানের কর্মচারী রাব্বিকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার পর জেলার ‘টপ অব দ্যা টাউন’ এখন রাব্বি। রাব্বি’র প্রতি সমর্থন জানিয়ে কথা বলছেন বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশার মানুষ। নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা আরও বেশি। লেখালেখিও হচ্ছে প্রচুর। এই ঘটনায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী জেলা যুবদল’র সভাপতি মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ। ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার তিনি তার ফেসবুকে লিখেন-‘
শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে রাব্বিকে হত্যাকারী নরপশুর দৃস্টান্তমুলক বিচার চাই,শাস্তি চাই। সেই সাথে মদ বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করে মদ নিষিদ্ধ করার দাবী জানাচ্ছি। “ইসলামে মদ পান করা এবং মদ বিক্রি করা উভয়ই সম্পূর্ণ হারাম(নিষিদ্ধ)। এটি একটি কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ।। হাদিসে মদের সাথে জড়িত ১০শ্রেনির মানুষকে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে,যার মধ্যে মদ বিক্রেতা,ক্রেতা ও ব্যবসার লভ্যাংশ গ্রহনকারীও অন্তর্ভুক্ত। সেই হিসেবে সরকারের তরফ থেকে মদ বিক্রির ট্রেড লাইসেন্স ও মদের লাইসেন্স প্রদান করে সরকারের কোষাগারে টাকা গ্রহন করাও হারামের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরো বলেন, আপনি বিক্রি ও পান করার লাইসেন্স দিবেন আবার সুশীল সেজে মাদক নির্মুল করতে সেমিনারে লম্বা বক্তব্য প্রদান করবেন -সেটা হাস্যকর ও তামাশা ব্যতিত আর কিছুই না। মদ পান করার উপকারিতা কি কি তা আমার জানা নাই! মদ পান করলে মানুষের মনুষ্যত্ব লোভ পায় আর পশুত্ব বৃদ্ধি পায়,যার পরিপ্রেক্ষিতে সমাজে অপরাধ প্রবনতাও বেড়ে যায়। নরসিংদীতে ১৯৯৯ সালে বিষাক্ত মদ পান করে প্রায় ২০০জনের মৃত্যুর ট্রাজেডি নরসিংদীকে কলংক তিলক একে দিয়েছিল যা অত্যন্ত লজ্জাস্কর। কিছু রাজনীতিবিদ নিজেই মদ পান করে কিংবা মাদকাসক্ত ,তারাই আবার মাদকের বিরুদ্ধে,মাদক নির্মুল করার জন্য লম্বা বক্তব্য প্রদান করেন-যা লজ্জাস্কর।”
নরসিংদী সরকারি কলেজের সাবেক এই জি এস’র বক্তব্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে নরসিংদীতে। নেট দুনিয়ায় এ নিয়ে সমর্থনও পাচ্ছেন বিদ্যুৎ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন-‘ নরসিংদী শহরে এ মদের দোকান বছরের পর বছর ধরে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের লাইসেন্স এর কপি দেখিয়ে নিয়মবহির্ভূত ব্যবসা চালাচ্ছে। এর প্রভাবে হাতের কাছেই মদ পেয়ে অনেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন। আবার নরসিংদী তে রাব্বির গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছেন অনেকেই। কেউ কেউ বলছেন -‘কোন ইঙ্গিতে মদ নিষিদ্ধ নিয়ে কোন আলোচনা নেই তা বুঝতে হবে। তাদের খুঁটির জোর অনেক গভীরে। দল, সরকার বদল হয় ; কিন্তু তাদের কিছুই হয় না। যখন যারা নেতৃত্বে আসে তাদের ম্যানেজ করেই বাঁধাহীন মদ বিক্রির উৎসব চলে এখানে।’
আবার রাব্বির গায়ে আগুন দেওয়ায় অভিযুক্ত জাহিদ সরকার শহরের হোটেল নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে। এই জাহাঙ্গীর সরকারের হোটেল নিরালা নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে। জেলায় অবৈধ আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী হিসেবে হোটেল নিরালার বদনাম সবার মুখে মুখে। একাধিকবার মোবাইল কোর্টে হোটেল নিরালার এসব বিষয় সামনে আসলেও অদৃশ্য ইঙ্গিতে তা আবার শুরু হয়ে যায়। হঠাৎ এমন বৃহৎ দুটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে মদের দোকান বন্ধ এবং রাব্বিকে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত জাহিদ সরকারের বিচার দাবী করায় বিএনপি নেতা মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ’র জন্য রিস্ক হিসেবেই মনে করছেন কেউ কেউ।
অনেকেই বলছেন এমনও হতে পারে এই প্রতিবাদ আর নিজের এমন সাহসী অবস্থানের কারণে জনগন তাকে ভালোবাসলেও স্বার্থবাজ নেতা ও অবৈধ ব্যবসায়ীরা তার বিরুদ্ধে চলে যেতে পারেন।
এই মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ বিএনপির রাজনীতিতে নরসিংদীর অন্যতম মুখ যার শরীরে আমৃত্যু বয়ে বেড়াতে হচ্ছে নির্যাতনের স্টিম রোলার। রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে বারবার পড়তে হয়েছে রোষানলে। বিদ্যুৎ কি আবারও কোন বিপদে পড়তে যাচ্ছেন? নাকি জণগনকে সঙ্গে নিয়ে তিনিই সফল হবেন?
সামনের দিনে চ্যালেন্জ মোকাবেলা করে বিদ্যুৎ কি পারবেন মদ বিক্রি বন্ধ করতে? নাকি তার জন্যই তৈরি হচ্ছে ষড়যন্ত্রের গভীর জাল?
এখন সেটাই দেখার বিষয়!
নোট: ইনসেটে মহসিন হোসাইন বিদ্যুৎ,নরসিংদী জেলা যুগ্মআহ্বায়ক,বিএনপি এবং সভাপতি,যুবদল।