মোঃ রাফি হোসেন | নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁ সদর উপজেলার তিলেকপুর ইউনিয়নের তিলেকপুর হাটে খাজনা আদায়ের নামে নির্ধারিত অর্থের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া এবং এর প্রতিবাদ করায় হামলা, মারধর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে হাটে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ঘটনায় হাটের ইজারা বা খাজনা আদায়ের নামে সাধারণ ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিলেকপুর হাটে প্রকাশ্যে খাজনা আদায়ের নামে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা দাবি করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে এবং ঘটনাটি ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হন। এ সময় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো এবং গুম ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও জানান, ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। হাটে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টির প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে তাদের ওপরও অভিযুক্তরা চড়াও হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটে পণ্য বিক্রি করতে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছ থেকে খাজনার নামে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনেকেই ঝামেলা এড়াতে প্রতিবাদ না করে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে হাটে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি পরবর্তীতে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীর দাবি, খাজনা আদায়ের নামে এ ধরনের অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি হাটে খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও হার স্পষ্টভাবে জানানো এবং সে অনুযায়ী অর্থ আদায় নিশ্চিত করা জরুরি। এর ব্যত্যয় ঘটলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়। আর এ ধরনের অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে কেউ হামলা, ভয়ভীতি বা হুমকির শিকার হলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা। একই সঙ্গে হাটে খাজনা আদায়ের নির্ধারিত হার, ইজারা সংক্রান্ত নিয়ম এবং আদায়ের প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে প্রদর্শনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে তিলেকপুর হাটের সংশ্লিষ্ট ইজারাদার বা খাজনা আদায়কারীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখবে এবং খাজনা আদায়ের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভয়ভীতি কিংবা কোনো ধরনের হয়রানি হয়ে থাকলে তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি হাটে আইনশৃঙ্খলা ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।