♦
(নীলফামারী) প্রতিনিধি:
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি এবং অবহেলিত অঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণে কৃষক ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যাংকসহ দেশের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার জনতা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ৫০০ জন প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বোরো ধানের উচ্চফলনশীল জাত ব্রি ধান১০৩-এর বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচির আওতায় এনসিসি ব্যাংক পিএলসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে নীলফামারী ও রংপুর বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত বৈষম্যের শিকার। আমাদের অঞ্চলকে মঙ্গাপীড়িত বা পিছিয়ে পড়া হিসেবে দেখার দিন শেষ করতে হবে। আমাদের সন্তানেরা যেন অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এ জন্য এনসিসি ব্যাংকের মতো দেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংককেও মেধাভিত্তিক বৃত্তির সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
কৃষি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আমাদের এলাকা কৃষিনির্ভর। কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে জাতীয় অর্থনীতি কখনোই টেকসই হবে না। এনসিসি ব্যাংক দেড় থেকে দুই মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়ে কৃষকদের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করে উন্নত জাতের বীজ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে দিয়েছে। এটি সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দেশের সব ব্যাংক যদি এভাবে আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং মেহনতি মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসত, তাহলে দেশে অভাব-অনটন অনেকটাই দূর করা সম্ভব হতো।
এনসিসি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ সেলিম। তিনি বলেন, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাখতে সরকারের কৃষিনীতি বাস্তবায়নে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এনসিসি ব্যাংক সারা দেশের ২০ থেকে ৩০টি উপজেলায় সরাসরি কৃষি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রান্তিক কৃষকদের শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক রইছুল আলম চৌধুরী, মহিলা দলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী অধ্যাপিকা সেতারা সুলতানা, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য গোলাম রব্বানী প্রধানসহ এনসিসি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি অন্যান্য অতিথিকে সঙ্গে নিয়ে ৫০০ জন প্রান্তিক কৃষকের প্রত্যেকের হাতে ২০ কেজি ডিএপি সার, ১৫ কেজি এমওপি সার, ১০ কেজি জিপসাম, ১ কেজি জিংক এবং ৫ কেজি করে ব্রি ধান১০৩-এর বীজ তুলে দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক কৃষককে নগদ অর্থ সহায়তাও দেওয়া হয়।