সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন স্তরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক আচরণ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার সন্নিকটবর্তী গাজীপুরের মতো শিল্প ও শিক্ষাসমৃদ্ধ অঞ্চলের কিছু উচ্চশিক্ষালয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা এবং তদারকি নিয়ে সচেতন নাগরিক মহলে নানা প্রশ্ন উঁঠিছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল পুথিগত বিদ্যা অর্জনের স্থান নয়, বরং এটি চরিত্র গঠন এবং সুস্থ সামাজিক মূল্যবোধ চর্চার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ।
যেকোনো শিক্ষার্থীর অতীত বা পারিবারিক প্রেক্ষাপট যা-ই হোক না কেন, মূলধারার শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় পা রাখার পর প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত কোড অব কন্ডাক্ট বা আচরণবিধি এবং সামাজিক নৈতিকতা মেনে চলতে হয়। যখন কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ শিক্ষার পবিত্র পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করে কিংবা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তখন স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে—সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ কী ভূমিকা পালন করছেন?
একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণ প্রজন্মের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক বিকাশের ওপর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যদি যথাযথ তদারকি, কাউন্সেলিং এবং কঠোর শৃঙ্খলা বজায় না রাখা হয়, তবে তা সামগ্রিকভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। জনস্বার্থে এবং সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের স্বার্থে, উচ্চশিক্ষালয়গুলোর নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় প্রশাসনের এখনই সময় আরও বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার। তরুণ প্রজন্মকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই।