♦মোঃ মাহবুবুর রহমান খান :
আইনি ফাঁদে আটকে অসংখ্য নারীর চরিত্র হরণ সহ তাদের সাজানো গোছানো সংসার এবং টাকা-পয়সা স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ কারী বিবাহ বহি:র্ভূত অনৈতিক সম্পর্কের খলনায়ক নরসিংদী জেলা ও দায়রাজজ আদালতের সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নয়ন মোল্লা এবার আটকে গেছেন আইনি বেড়াজালে।
জানাগেছে,রায়পুরা থানাধীন আমিরগঞ্জ ইউনিয়নস্হ হাসনাবাদ গ্রামের কুয়েত প্রবাসী জনৈক লুৎফর রহমান ভুঁইয়া জমি সংক্রান্ত একটি বিরোধ নিস্পত্তির জন্য উকিল নয়নের দ্বারস্থ হন।নয়ন তাকে ( লুৎফর) জানায়, এখন আপনাকে ৭ ধারা মোতাবেক একটি দেওয়ানি মামলা করতে হবে।এখন আপনি যেহেতু প্রবাসে থাকেন তাই আপনার পরিবর্তে ভাবীকে (লুৎফর এর স্ত্রী) বাদী করলে ভাল হবে।প্রবাস থেকে মামলা পরিচালনা করা সম্ভব হবেনা বিধায় তার স্ত্রী হাফসা বেগম কে বাদী করে ২/৩ দিন পর সে তার কর্মস্থল কুয়েত ফিরে যায়।
নয়ন তার সুন্দরী স্ত্রীর প্রতি লোভাতুর হয়ে পড়ে।আইনি।সহায়তার নামে ঘন ঘন বাসায় যাওয়া আসা শুরু হয়। নয়ন জানতে পারে প্রবাস থেকে তার স্বামী লুৎফর প্রতিমাসে তাকে লাখ খানেক টাকা দেয় তাছাড়া হাফসার অনেক স্বর্ণালংকার আছে।
একটা সময় দুজনের সম্পর্ক গভীর হতে শুরু করে।একপর্যায়ে চলতি আগস্টের ১ তারিখ নয়ন মোল্লা লুৎফর এর স্ত্রী হাফসা বেগম কে নিয়ে পালিয়ে যায়।লুৎফর এর অভিযোগ হাফসা তখন তার ২২ বছরের জমানো সঞ্চিত ১ কোটি ১০ লাখ নগদ টাকা এবং ৩৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে নয়নের হাত ধরে ঘর ছাড়ে।
লুৎফর জনতার দেশ কে জানায়,সংগে তার ১২ বছরের একটি পুত্র তাওহিদ এবং ৮ বছরের একটি কন্যা তাসনিম সাথে নিয়ে যায়। স্ত্রীকে তিনি তালাক দিয়েছিলেন কী,না জানতে চাইলে লুৎফর বলেন, আমি তাকে তালাক দেইনি। আমার স্ত্রী আমাকে ৩১ জুলাই ফোন দিয়ে বলে তুমি দেশে এসো তাড়াতাড়ি, আমাদের কেনা জায়গায় মাটি ফেলে বাড়ি করতে হবে। তারপর আমার বোন ১ আগস্ট আমাকে ফোনে জানায় আমার বাসা তালাবদ্ধ কেউ দুদিন ধরে ফোন ধরছেনা।
তারপর জরুরি টিকেট কেটে আমি ২ আগস্ট দেশে এসে জানতে পারি, উকিল নয়ন আমার বউকে নিয়ে পালিয়ে গেছে এবং তড়িঘড়ি করে ব্যাকডেটে একটা ভূয়া তালাক নামা তৈরি করে ভূয়া ম্যারেজ রেজিস্ট্রি করে তারা স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে অন্যত্র সংসার করছে। অথচ আমি তাকে তালাক দেইনি।
সে চলে গেছে যাক,কিন্ত আমার দুই অবুঝ সন্তান কে নয়ন জিম্মি করে রেখেছে কোন ক্ষমতা আর অধিকারে?
জানা গেছে,ইতোপূর্বে নয়ন এমন আরো ৪/৫ প্রবাসীর স্ত্রীকে ফাঁদে ফেলে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
নয়ন বিবাহিত সংসার সন্তান আছে।ওকালতির আড়ালে প্রবাসী এবং ধনাঢ্য নারীদের বিভিন্ন কৌশলে ব্ল্যাক মেইল।করাই তার আসল পেশা।
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এডভোকেট নয়ন মোল্লাকে তার নৈতিক স্খলনতার দায়ে তাকে এপিপির পদ ( নরসিংদী দায়রা ও জজ আদালত) থেকে বহি:স্কারাদেশ পত্র প্রেরণ করেছে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বহি:স্কারাদেশ পত্র:
গত ২৫ আগস্ট, মঙ্গলবার, মো: ফারুক হোসাইন, সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি)আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রেরিত যার স্মারকনং – সলিসিটর / জিপি-পিপি( নরসিংদী) -১৫/২০২৪ (অংশ-১)-১৪১ আদেশ পত্রে জানা গেছে, মো: নয়ন মোল্লা পিতা:মো: রকিব উদ্দিন মোল্লা, এ পি পি, নরসিংদী জেলাদায়রা ও জজ আদালত তার নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো।
‘ঠেলার নাম বাবাজি’ এবার নয়ন মোল্লা বুঝবে কত ধানে কত চাল। তার ওকালতির সনদ ও বাতিল হওয়ার প্রক্রিয়াধীন।
ভূয়া ‘ডিভোর্স লেটার’ তৈরি করে পরস্ত্রী নিয়ে ঘর সংসার করার অপরাধে এখন নিজের আত্ম সম্মান,পদ-পদবি সবই হারাতে হচ্ছে এডভোকেট নয়ন মোল্লাকে।
পরকিয়ার পরিণতিতে নিজের সংসারেও ফাঁটল দেখা দিয়েছে বলে একটি নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে,লুৎফর রহমান জনতার দেশ কে জানিয়েছেন,আসল খেলাটা শুরু হবে আমি দেশে আসার পর।আমি কিছুদিনের ভেতর দেশে আসতেছি।তখন আমার আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্হা নেব।তিনি বলেন,আপনাদের মত সৎ,নীতিবান কিছু সাংবাদিক আছে বলেই মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছে। আমিও এর ব্যতিক্রম নই।
প্রতিবেদক-
সম্পাদক-প্রকাশক,দৈনিক জনতার দেশ
(ডিজটাল অনলাইন পোর্টাল).