কবিরহাট প্রতিনিধিঃ
মোঃ ইয়াহিয়া পারভেজ
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ২০১ নং দয়া রামদী মৌজার ডুঁইয়ার হাট এলাকায় একটি বহু পুরোনো ও জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি পানি নিষ্কাশন খাল দখল করে স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খালটি ভরাট করে পাকা স্থাপনা নির্মিত হলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, যার ফলে সৃষ্টি হবে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও চরম মানবিক ভোগান্তি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ডুঁইয়ার হাট এলাকার কেফায়েত উল্লাহ সুপার মার্কেটের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই খালটি দয়া রামদী ও রামদী গ্রামের বর্ষার পানি বের হওয়ার একমাত্র ও প্রধান মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বিস্তৃত এলাকার পানি এই খাল দিয়েই নিষ্কাশিত হয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম রায়হান ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ও আইন অমান্য করে খালের ওপর সরাসরি পাকা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।
এলাকাবাসীর চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে জানান, গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম না থাকায় পুরো এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পানির নিচে তলিয়ে ছিল। সে সময় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন। এরপরও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে না এনে উল্টো স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করায় বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা আবারও ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রভাবশালী চক্রের এমন অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অনতিবিলম্বে খালের ওপর অবৈধ ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা, দখলমুক্ত করা এবং পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ উন্মুক্ত রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শহীদুল ইসলাম রায়হানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে কবিরহাট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালের জমি দখল করে ভবন নির্মাণের বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ছবি: বাস্তবতার নিরিখে একটি প্রতীকি দৃশ্য।