নিজস্ব প্রতিনিধিঃ জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NIDCH) মহাখালী, ঢাকা পরিচালক, ডা: গোলাম সরোয়ার ও চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মেহদি বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর পাওয়া গেছে।
এখানকার অনেক ভুক্তভোগী ঠিকাদার জানান, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NIDCH) এর পরিচালক ডাঃ গোলাম সরোয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া এর কাছে কোনো ঠিকাদার তাদের নিজস্ব সুবিধা অসুবিধা ও ভালোমন্দ পরামর্শের জন্য এলে উনি সরাসরি চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মেহেদী হাসানের কাছে পাঠিয়ে দেন, সেই সুযোগে ডাঃ মেহেদী ঠিকাদারদের সাথে গোপন আর্থিক চুক্তির প্রস্তাব দেন। চুক্তিতে বনিবনা না হলে তাদের সাথে অসৌজন্য আচরণ করেন এবং টেন্ডার প্রকাশ হওয়ার পূর্বেই উনার কিছু নিজস্ব ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেন। এসব ব্যাপারে তিনি খুব দেমাগ নিয়ে অন্যান্য নতুন ঠিকাদারদের বলেন – “আমি ম্যাটিকিউলাস ডিজাইনে কাজ করি” এসেই কাজ পাবেন এমনটা আশা করেন কেনো? আগে আপনাকে বুঝি, আপনার সাথে আমার সব দিক ম্যাচিং হয় কিনা এবং আপনি আমার অনুগত ও বিশ্বস্থ কতোটুকু সেটা আগে আমার বুঝতে হবে I ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকেন, পরে সময় হলে দেখা যাবে”I এটা একজন অপেশাদার, স্বৈরাচারী মনোভাবের এবং স্যাইকো মেন্টালিটির মানুষব্যতীত অন্যকিছু মনে হয়না।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উনি দিনের বেশিরভাগ সময় ডিরেক্টর সাহেবের রুমে সময় কাটান এবং পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়াটাই মূলত এই ডাঃ মেহেদী তার একক সিদ্বান্তে অন্যান্য সবাইকে পরিচালিত এবং বাস্তবায়ন করান I আপাতত দৃষ্টিতে দেখে মনে হয় পরিচালক সাহেব নামে মাত্র বা ওনি হয়তো দাপ্তরিক অন্যান্য কাজগুলো নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন (যেমন, অফিসের বাহিরে মিটিং সেমিনার বা অন্যান্য) কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মেহেদীই মূলত ঠিকাদারদের সাথে নিগোসিয়েশন করা, তার পছন্দের ঠিকদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কাজ পাইয়ে দিতে সমস্ত ধরণের অপকৌশল, ম্যাকানিজম, পূর্বনির্ধারিত পদ্ধতিতে দরপত্র প্রক্রিয়া কার্যকর করার ছক কষার অপকর্মটি করেন। তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী যেভাবে পরিচালক সাহেবকে বুঝান বা বলেন ওনি সাধারণত তেমনটাই করে থাকেন I
অন্যদিকে জানা যায়, তত্ত্বাবধায়ক এই সব অনিয়ম ও দুর্নীতি করে একেক সময় একেক জনের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দেন I উপরস্থ ব্যাক্তিবর্গের নাম ভাঙ্গান। কিছুদিন পূর্বে ওনার পছন্দের ঠিকাদারকে ক্যামিক্যাল রি-এজেন্ট এর কাজ পাইয়ে দিতে ওনি প্রিন্সিপাল কোম্পানিগুলোকে বলে দেন তারা যেনো একাধিক বা মাল্টি অথরাইজেশন না দেন এবং শুধুমাত্র ওনার ওই নির্দিষ্ট কোম্পানিকেই অথারাইজেশন দেন। সে ক্ষেত্রে ওনি ঊর্ধ্বতন ব্যাক্তিবর্গের নাম বিক্রি করে বলেন যে, উপরের মহলের নিষেধ আছে, “যে ওনি মাল্টি অথরাইজেশন দিতে না করেছ।” যদিও পরবর্তীতে ঠিকাদারদের চাপের মুখে ঊর্ধ্বতন ব্যাক্তিকে ঘটনাটা জানানোর পরে ওনার নির্দেশনায় মাল্টি অথরাইজেশন গ্রহণ করতে বাধ্য হয় I
তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মেহেদীকে একাধিক ঠিকাদারদেরকে বলতে শোনা যায়, শুধু সর্বনিম্ন দরদাতা হলেই বা সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেই কাজ পাওয়া যায় না, এখানে আরো অনেক হিসেব থাকে যেগুলো আপনি বা আপনারা বুঝবেন না I সে তার একচ্ছত্র আধিপত্য ঠিক রাখার জন্য স্থানীয় কিছু মাস্তান ও সন্ত্রাসীদেরকে কিছু ছোটখাটো কাজ দিয়ে হাতে রাখেন এবং বাদবাকি অন্যান্য কাজ মোটা অংকের বিনিময়ে বা বেশী (%) পার্সেন্টেিজ এর বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদার কে পাইয়ে দেন এবং পুরো ব্যাপারটাই ডিরেক্টর ডাঃ গোলাম সরোয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়ার জ্ঞাতেই হয়ে থাকে I বিভিন্ন ঠিকাদারদের কাছ থেকে এমনও শোনা যায় যে, এই তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মেহেদী তার পছন্দের ঠিকাদার যাতে কাজ পায় এজন্য সে সর্বনিম্ন দরদাতকে অনুপযুক্ত বা ডিসকোয়ালিফাইড করার জন্য বলে যে এদের কাজপত্র বা ডকুমেন্টস ঠিক নাই I তার বিরুদ্ধে পঞ্চম ও ষষ্ঠ দরদাতাকে অধিক মূল্যে কাজ পাইয়ে দেওয়ারও প্রমাণ আছে।
তাকে বিভিন্ন ঠিকাদারকে বলতে শোনা গেছে – “ আমি যদি চাই তাহলে কাজ পাবে, অন্যথায় যেকোনো একটা ভুল ধরে আউট করে দিবো।”অমুকে বেশী বাড়াবাড়ি করেছিলো, আমাকে বিভিন্নভাবে তদবির করেছিলো বা বিরক্ত করেছিলো তাই তাকে একটা কাজ দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু পরে দেই নাই I তাতে আমার কি হয়েছে? আমাকে কে কি করতে পারবে? আমি সব কিছু ম্যাটিকিউলাস ডিজাইনে করে থাকিI”
ঠিকদার ওনার অপছন্দের হলে বা তাকে সেইফ ও সিকিউরড মনে না হলে ওনি কোনো কোনো প্যাকেজে ফাস্ট লয়েস্ট বা সেকেন্ড লয়েস্টকে কাজ দেন না এবং এদেরকে বাদ দেওয়ার জন্য ছলচাতুরী করে যে কোনো একটা অজুহাত দাঁড় করান এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ বা বেশি দরদাতাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য সব ব্যবস্থা করেন।
জানা গেছে কোনো টেন্ডারে ফাস্ট লয়েস্ট ও সেকেন্ড লয়েস্ট হয়েও কাজ পায় না, আবার একই ধরনের প্যাকেজে বা কাজে ফাস্ট লয়েস্ট বা সেকেন্ড লয়েস্ট হয়েও কাজ পায় যদি তার পছন্দের পূর্ব নির্ধারিত ঠিকাদর হয়। আসলে – পুরোটাই নির্ভর করে তার মর্জি বা খেয়াল খুশীর উপরে। এটাই হলো ডাঃ মেহেদীর ম্যাটিকিউলাশ ডিজাইনের অংশI
একটা কাজে ফাস্ট লয়েস্ট হয়ে কাজ পায় না, কিন্তু অন্য একটা প্যাকেজে তার নিজের পছন্দের ঠিকাদার বলে কাজ পেয়েছে বা পায় I
একই সাথে তার এই দ্বৈত চরিত্র বা নীতির জন্য দ্বিচারিতা লক্ষ্য করা যায়, যেটা খুবই দৃষ্টিকটু, নীতিভ্রষ্ট ও অপেশাদারী আচরণ। এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের একজন গুরুত্বপূর্ণ পদের ব্যাক্তি যদি এমন অসৎ, একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরাচারী মনোভাবের হয়, সেখানে ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থমন্ত্রী ওনারা স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে এমন একজন অসৎ, দুর্নীতিবাজ ব্যাক্তি কি করে এমন একটা হাসপাতালের কেনাকাটার মতো বা তত্ত্বাবধায়ক এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে মেয়াদের বেশি সময় ধরে একই হাসপাতালের একই পদে থাকে? সেটাই এখন স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের মনে প্রশ্ন। অবিলম্বে এই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী,স্বাস্থ্যসচিব এবং সব শেষে দেশের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।