মহিউদ্দিন তালুকদার
মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে দন্ত চিকিৎসার কোনো বৈধ সনদ বা কাগজপত্র দেখাতে না পারায় দুই ভুয়া চিকিৎসককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
নিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে পৌর শহরের স্টেশন রোড এলাকার ‘মৌ ডেন্টাল কেয়ার’ নামক একটি ডেন্টাল চেম্বারে অভিযান চালিয়ে এ দণ্ড প্রদান করেন মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমেনা খাতুন। অভিযানকালে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) স্বীকৃত নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জন না হয়েও সরাসরি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অপরাধে সোহানুর রহমান সুরাপকে ১০ হাজার টাকা এবং এস এম রাহীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের সিরিয়াল দেওয়ার সহকারী (কম্পাউন্ডার/টেকনিশিয়ান) হিসেবে দাবি করলেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম হাতেনাতে তাঁদের সরাসরি রোগীদের দাঁতের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো বৈধ সনদপত্র দেখাতে না পারায় এ দণ্ড দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতারক চক্র বিএমডিসি সনদধারী প্রকৃত চিকিৎসকের নাম ও ডিগ্রি সাইনবোর্ডে ব্যবহার করে আসছে। বাস্তবে মূল চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না; তাঁদের নাম ভাঙিয়ে অনভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান ও সহকারী নিজেরাই চেম্বারে রোগী দেখে আসছিলেন। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) আইন, ২০১০ অনুযায়ী বিএমডিসি-র নিবন্ধন বা স্বীকৃত ডেন্টাল ডিগ্রি ছাড়া কোনো ব্যক্তি নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে বা সরাসরি রোগীদের চিকিৎসাসেবা, ব্যবস্থাপত্র কিংবা কোনো প্রকার ইনভেসিভ প্রসিডিউর পরিচালনা করতে পারেন না। এ ছাড়া মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে— ডেন্টাল টেকনিশিয়ান, সহকারী বা ডিপ্লোমাধারীরা কেবল মাত্র নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জন বা চিকিৎসকের অধীনে সহায়তামূলক কাজ করতে পারবেন; কিন্তু স্বাধীনভাবে কোনো চেম্বার খুলে বা একা একা রোগী দেখে দাঁতের কোনো প্রকার চিকিৎসা প্রদান করতে পারবেন না। এই আইন ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
জনস্বার্থে ও ভুয়া ডাক্তার প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।