• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
Headline
পরকীয়া সন্দেহে কিশোর ওমর আলীকে হত্যা; দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পিবিআই কর্তৃক হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার-০১, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি! নরসিংদীর শিবপুরে ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর লাইসেন্স না থাকায় ৫০হাজার টাকা অর্থদন্ড! মসজিদের ইমাম থেকে মুকুটহীন সম্রাট আন্ডার ওয়ার্ল্ড ডন দাদা তপনের উত্থান – পতনের নেপথ্য কাহিনি! ‎নাসিরনগরে আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ! মাদারীপুরে মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত, অপরাধ দমনে পুলিশ সুপারের নির্দেশনা! শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন! কেন্দুয়ায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান! ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ৪ জনের কারাদণ্ড! দুর্গাপূজা নিয়ে মন্দির কমিটির সাথে পুলিশের মতবিনিময় সভা! কুমিল্লায় নারীকে পিটিয়ে হত্যা: প্রধান আসামি রহিম গ্রেফতার!

পরকীয়া সন্দেহে কিশোর ওমর আলীকে হত্যা; দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পিবিআই কর্তৃক হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার-০১, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি!

Reporter Name
Update : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

ক্রাইম ডেস্ক |জনতার দেশঃ

দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে কিশোর ওমর আলী (১৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর জেলা। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোঃ নজরুল ইসলাম (৪৮)-কে গ্রেফতার করা হয়। আসামী নজরুলকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

গত ০৪/০১/২০২১ খ্রি. তারিখে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানাধীন ঢোলজানী গ্রামের একটি ঘাসের ক্ষেত থেকে কিশোর ওমর আলীর ধারালো অস্ত্রে আঘাতসহ রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বালিয়াকান্দি থানার মামলা নং-০২, তারিখ-০৫/০১/২০২১ খ্রি.; ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ দায়ের করেন। পুলিশ সুপার রাজবাড়ী জেলার আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে নির্দেশে গত ২২/০২/২০২১ খ্রি. তারিখে পিবিআই ফরিদপুর জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি পুলিশ পরিদর্শক মোঃ তাজুল ইসলাম তদন্ত করছেন।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল (বিপিএম-সেবা) মহোদয় এর তত্ত্বাবধান এবং পিবিআই ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম, পিএসসি-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ তাজুল ইসলাম এর নেতৃত্বে পিবিআই ফরিদপুর জেলার ‘বিশেষ তদন্ত’ টীম দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পর গত গত ০৫/১০/২০২৬ খ্রি. তারিখ রাত আনুমানিক ২০.০৫ ঘটিকায় ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন কাঠগড়া এলাকার লাল মিয়া টাওয়ারস্থ জনৈক মাসুদ রানার ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোঃ নজরুল ইসলাম (৪৮)-কে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী নজরুল ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে। গত ০৬/১০/২০২৬ খ্রি. তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পিবিআই-এর তদন্তে জানা যায়, আসামি মোঃ নজরুল ইসলাম ভিকটিম ওমর আলীর গ্রাম্য সম্পর্কের নানা। ভিকটিম ও অপর আসামিরা পরস্পর বন্ধু এবং নিয়মিত একত্রে মাদক সেবন করত। এক সহযোগী আসামীর স্ত্রীর সাথে ভিকটিমের পরকিয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ভিকটিম অপর আরেকজন সহযোগী আসামীর স্ত্রীর সাথে পরকিয়া চেষ্টা করে। ভিকটিমের সঙ্গে ঐ দুই আসামির বিরোধ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঐ দুই আসামী মিয়ে ভিকটিমকে সরিয়ে দেওয়ার (হত্যার) পরিকল্পনা করে এবং তাদের এক সহযোগী আসামীর সাথে ৫০০০০/- টাকা চুক্তি করে। বিষয়টি অবগত করলে আসামী নজরুলও তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে আসামীরা ভিকটিমকে পথ থেকে ধরে অপর আসামির বাড়ির টয়লেটে নিয়ে যায়। সেখানে আসামী নজরুল ভিকটিমের জামা খুলে তার মুখ ও হাত বেঁধে দেয় এবং অপর আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে আসামীরা ভিকটিমকে একটি মুরগির খামারে নিয়ে পুনরায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে সবাই মিলে লাশ কমল মন্ডল ওরফে বিপুলের গ্যামা ঘাসের ক্ষেতে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পর আসামী নজরুলকে ৫০০০ টাকা দেওয়া হলে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে অটোরিকশা চালাতে থাকে।

পিবিআই ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম, পিএসসি বলেন, “পেশাদার তদন্তের অন্যতম ভিত্তি হলো তথ্য ও আলামতের যথাযথ বিশ্লেষণ। এ মামলায় ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য, বিশ্বস্ত সোর্স এবং অন্যান্য ডকুমেন্টের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও আলামত এবং গ্রেফতারকৃত আসামির স্বেচ্ছা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক উদঘাটিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীরা বিভিন্নভাবে তথ্য ও আলামত গোপন করার চেষ্টা করতে পারে। তবে পেশাদার, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব। এ মামলায়ও তদন্তের প্রতিটি তথ্য ও আলামত যথাযথভাবে যাচাই করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।”

ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ

# পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।

ছবিঃ

# পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category