মোঃ আব্দুল বাছির
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
নির্ধারিত হাড়ের চেয়েও বেশি টোল আদায়ের অভিযোগে বিষয়ে দ্রুত গতিতে ব্যাবস্থা নিতে আশ্বস্হ করেছেন উপজেলা নির্বাহ কর্মকর্তা।
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় বিআইডব্লিউটিএর আওতাধীন নদীপথে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়, হয়রানি ও শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয় নৌ-শ্রমিক ও মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিকরা।
রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতি ও নৌ-শ্রমিক সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জামালগঞ্জের সাচনাবাজার থেকে লালপুর-গজারিয়া নৌপথে বিআইডব্লিউটিএর আওতাধীন টোল আদায় কেন্দ্রের ইজারাদার ও তাদের লোকজন নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছেন। এতে নৌযান মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।
বক্তাদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত টোল অনুযায়ী প্রতি ঘনফুট পাথরের জন্য ৫০ পয়সা এবং প্রতি ঘনফুট বালুর জন্য ২৫ পয়সা আদায়ের কথা থাকলেও কোথাও কোথাও এর চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সাচনা বাজার থেকে লালপুর নৌপথের বিভিন্ন এলাকায় চলন্ত বালু-পাথরবাহী নৌযান থামিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে।
শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের হয়রানি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটছে। পাশাপাশি রশিদ না দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগও করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, নদীপথে নির্ধারিত টোল আদায় কেন্দ্রের মাধ্যমে টোল আদায়ের নিয়ম থাকলেও কয়েকটি স্থানে নৌযান থামিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এতে নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে অতিরিক্ত টোল আদায়, শ্রমিক হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বড় ধরনের সমাবেশ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানান আন্দোলনকারীরা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি হুসেন আলী লাল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী জয়দর আলী, বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার-বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, লোকমান হোসেন, রহমগীর, মিল ব্যবসায়ী নবী নূর, নৌ-শ্রমিক রফিকুল ইসলাম, করিম হোসেন কবীর, ওমর ফারুক, জুয়েল, শাহজালাল, আল আমিন, আউশাল আজমসহ আরও অনেকে।
ইজারাদারের বক্তব্যঃ
অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার ওয়াহেদ আলী আফিন্দি বলেন, সরকার যে হার নির্ধারণ করে দিয়েছে, সেই হার অনুযায়ীই টোল আদায় করা হচ্ছে। তার দাবি, প্রতি ঘনফুট পাথরের জন্য ২ টাকা ৮০ পয়সা এবং বালুর জন্য ৩০ পয়সা করে টোল নেওয়া হচ্ছে। তার ঘাটে অতিরিক্ত কোনো টোল আদায় করা হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক বলেন, সাচনা থেকে লালপুর-গজারিয়া নৌপথে টোল আদায়ের বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। তবে কেউ যদি নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায় করে থাকে, তাহলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগের সত্যতা ও নির্ধারিত সরকারি হার যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।