মো. আরিফুল ইসলাম, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটে শিক্ষক সংকট ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে। এর পাশাপাশি নৈশপ্রহরী, পিয়ন ও বাবুর্চি না থাকায় একাডেমিক ও আবাসিক কার্যক্রম পরিচালনায় দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা। প্রয়োজনীয় ল্যাব, শিক্ষা উপকরণ ও পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউট। ২০২৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। অথচ ১৭টি বিষয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। ফলে নিয়মিত পাঠদান, ব্যবহারিক ক্লাস ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে।
শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে নানা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। প্রয়োজন একটি আধুনিক একাডেমিক ভবন, অডিটোরিয়াম, সাতটি আধুনিক ল্যাব, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, রান্নাঘর ও পর্যাপ্ত শৌচাগার। এ ছাড়া নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, ক্যাম্পাসের পাকা রাস্তা নির্মাণ, মূল ফটক সংস্কার এবং শহীদ মিনার নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আসবাবপত্র ও খেলাধুলার সরঞ্জামেরও সংকট রয়েছে।
নার্সিং শিক্ষা মূলত তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণনির্ভর। আধুনিক ল্যাব, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও দক্ষ শিক্ষকের মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ না থাকলে শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা অর্জন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও প্রশিক্ষণসুবিধার অভাবে বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানপ্রধান মরিয়ম বেগম বলেন, শিক্ষক সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটিতে একজন নৈশপ্রহরীও নেই। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখতে নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকেও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এতে তাঁকে পারিবারিক জীবনেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তবে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের ফলাফলে রয়েছে সাফল্যের চিত্র। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির ৭১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৩ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুরাইয়া ও সোনিয়া আক্তার জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ও যথাযথভাবে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন না তাঁরা। ক্যাম্পাসে নৈশপ্রহরী ও পিয়ন না থাকায় নিরাপত্তা এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বাবুর্চি না থাকায় নিজেদের রান্না করে খেতে হয়। এমনকি ক্যাম্পাসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও নিজেদেরই করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত আসবাবপত্রের অভাব রয়েছে। খেলাধুলার জন্য নেই একটি ক্যারম বোর্ডও। এতসব সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তাঁদের বেশ কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
সচেতন মহলের মতে, নার্সিং শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শুধু শিক্ষার্থী ভর্তি করলেই হবে না; পাশাপাশি পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, আধুনিক ল্যাব স্থাপন, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ এবং সহায়ক কর্মচারী নিয়োগও জরুরি। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা যথাযথ জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে পারেন।
এ অবস্থায় বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষক সংকট নিরসন, প্রয়োজনীয় কর্মচারী নিয়োগ, আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মহল।