সায়েন্স ডেস্কঃ
প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে প্রথমবারের মতো আর্থিক ফলাফল প্রকাশ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মুখোমুখি হচ্ছেন জন টার্নাস। সোমবার তার প্রথম আয়বিষয়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এতে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে আগামী প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের পূর্বাভাস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে অ্যাপলের পরিকল্পনা এবং মেমোরি চিপের বাড়তি দামের প্রভাবের ওপর।
গত সেপ্টেম্বরে টিম কুকের কাছ থেকে অ্যাপলের দায়িত্ব নেন টার্নাস। তার নেতৃত্বে সম্প্রতি ভাঁজ করা যায় এমন আইফোন, স্মার্ট হোম হাব এবং টাচস্ক্রিন ল্যাপটপ বাজারে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এসব পণ্য চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাজারে এসেছে। তবে একই সময়ে মেমোরি চিপের দাম দ্রুত বাড়ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে অ্যাপলের আয় প্রায় ১১ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার ৩৩৯ কোটি ডলার হতে পারে। একই সময়ে নিট মুনাফা বাড়তে পারে প্রায় ৬ শতাংশ। এর পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৯০৪ কোটি ডলার। মেমোরি চিপের বাড়তি দামের কারণে গত ছয় প্রান্তিকের মধ্যে এবারই মুনাফার প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে ছুটির মৌসুমের বিক্রির পূর্বাভাসের দিকেও। কারণ অক্টোবরের শেষ দিকে বাজারে আসা অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন আইফোন ডুয়ের বিক্রি আগামী প্রান্তিকের হিসাবে প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্রে ফোনটির প্রারম্ভিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। বাজারে আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অনলাইনে ফোনটির প্রাথমিক মজুত শেষ হয়ে যায়।
তবে ফোনটির ভেতরের পর্দার ভাঁজ বরাবর ফাটল ও দাগ দেখা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ক্রেতা। এ কারণে তাদের ফোন বদলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে অ্যাপল। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, পর্দার সমস্যা থাকলেও ফোনটির চাহিদা সরবরাহের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ফোন দ্রুত বদলে দিতে পারবে কি না, সেটিই হবে অ্যাপলের জন্য বড় পরীক্ষা। ব্যাংক অব আমেরিকার হিসাবে, আইফোন ডুয়ের অর্ডার দেওয়ার পর গড়ে ৭৯ দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে ক্রেতাদের।
এআই নিয়েও টার্নাসের বক্তব্য জানতে চাইবেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে ভার্চ্যুয়াল সহকারী সিরির উন্নয়ন এবং অ্যাপলের এআই কৌশল নিয়ে আগ্রহ রয়েছে তাদের। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো যখন এআই প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে তখন অ্যাপল তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এআই সেবা তৈরি করছে।
অ্যাপলের সেবা ব্যবসার প্রবৃদ্ধিও আলোচনায় আসতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এ ব্যবসার আয় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার হতে পারে। তবে এটি তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ধীর প্রবৃদ্ধি।
তথ্য: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম