ক্রাইম ডেস্ক|জনতার দেশঃ
কিছু দিন পরপর নতুন কৌশলের আশ্রয় নেয় ছিনতাইকারীরা। মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে, চলন্ত গাড়ি থেকে হ্যাঁচকা টানে হাতের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই এখন পুরোনো কৌশল। ছিনতাইয়ের নতুন ভার্সন ‘সুতা ডাকাতি’ চালু হয়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর ফ্লাইওভারকেন্দ্রিক ভয়ংকর এই ফাঁদের কাহিনি আঁতকে ওঠার মতো। নগরীর ফ্লাইওভারে রাতের অন্ধকারে মৃত্যুফাঁদ হিসাবে চলন্ত মোটরসাইকেলের গতি রোধে টানিয়ে দেওয়া হচ্ছে অদৃশ্য বা কম দৃশ্যমান নাইলনের শক্তিশালী সুতা। দ্রুতগামী মোটরসাইকেলগুলো ওই রাস্তা অতিক্রমের সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই নাইলনের সুতায় আটকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ওতপেতে থাকা ছিনতাইকারীরা দ্রুত ছুটে এসে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তির মোবাইল-ল্যাপটপ-মানিব্যাগ যা পাচ্ছে তাই ছিনিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিচ্ছে। সম্প্রতি এরকম কয়েকটি রোমহর্ষক ঘটনার পর নগরীতে ফ্লাইওভার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ফ্লাইওভারগুলোর অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশ, বিশেষ করে যেখানে সড়কবাতি নষ্ট থাকে বা কম আলো থাকে, সেই স্থানগুলোকে অপরাধীরা বেছে নিচ্ছে। গভীর রাতে ফ্লাইওভারের দুই পাশের রেলিংয়ের সঙ্গে শক্ত নাইলনের মোটা সুতা বেঁধে দেওয়া হয়। দ্রুতগামী মোটরসাইকেলগুলো ওই রাস্তা অতিক্রমের সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারটি তার কপাল, গলা বা বুক বরাবর আঘাত করে। পুরো ঘটনার আকস্মিকতায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়েন চালক। অনেকের আবার টানানো সুতা গলায় প্যাঁচিয়ে যাওয়ায় মারাত্মক জখম হন। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশ থেকে ৫-৭ জন সশস্ত্র ছিনতাইকারী ছুটে আসে। আহত চালক তখন যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, স্বর্ণালংকার এমনকি মোটরসাইকেলটি পর্যন্ত ছিনিয়ে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে পালিয়ে যায়।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ফ্লাইওভারের এই নৃশংস রাহাজানি রোধে কেবল পুলিশের তৎপরতাই যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। প্রতিটি ফ্লাইওভারের প্রতিটি ইঞ্চি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনতে হবে এবং তা নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। রাতের বেলা ফ্লাইওভারগুলোতে কোনো অবস্থাতেই যেন সড়কবাতি বন্ধ না থাকে, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে কঠোর নজর রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইওভারগুলোর প্রবেশ ও প্রস্থান মুখে পুলিশের স্থায়ী বা অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করতে হবে। রাইড শেয়ারিং ড্রাইভার ও মোটরসাইকেল চালকদের সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।