শাফায়াত হোসেন|প্রতিনিধি ঢাকা মহানগর (উত্তর)♦
পুরনো ঐতিহ্য ও উৎসবের আমেজ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মেলায় স্টল, দোকান ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শনী নিয়ে অংশগ্রহণে আগ্রহী ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আয়োজক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাসব্যাপী এ মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী, নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুমের ব্যবস্থাও রাখার কথা জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
আয়োজক কমিটির সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি মনোয়ার হাসান জীবন বলেন, মেলায় আগত দর্শনার্থী, ব্যবসায়ী ও স্টলমালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সরাসরি আয়োজক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধান করে মেলার পরিবেশ সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে চাই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি সব সময় জনগণের কল্যাণে কাজ করার কথা বলে আসছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছর পর বিএনপি সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের আয়োজনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অতীতেও বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় বাণিজ্য মেলাকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের আগমন ঘটেছিল। সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে এবারও একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল মেলা উপহার দিতে আমরা কাজ করতে চাই।
পরিবারের সবার জন্য থাকছে কেনাকাটা ও বিনোদনের সুযোগ
আয়োজকেরা জানান, মেলায় শিশুদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাইড ও আকর্ষণীয় আয়োজন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের জন্য থাকবে কেনাকাটার বিশেষ সুযোগ।
মেলায় কসমেটিকস, পোশাক, জুতা, গৃহস্থালির সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যাবে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যবসায়ীরা তাঁদের পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনাকাটার সুযোগও থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য।
ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের আহ্বান
মনোয়ার হাসান জীবন বলেন, আমরা চাই, এই মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যবসায়ী ও স্টলমালিক নিরাপদ পরিবেশে তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। তাঁদের পণ্য, মালামাল ও ব্যবসায়িক স্বার্থের সুরক্ষাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকব।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি মেলার আয়োজন করা নয়; বরং মানুষের বিনোদন, কেনাকাটা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা। সবার সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।
মেলায় আসার আমন্ত্রণ
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সর্বস্তরের মানুষকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধা, নিরাপত্তা ও কেনাকাটার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
পাশাপাশি যেসব ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান মেলায় স্টল বা দোকান নিতে আগ্রহী, তাঁদের বিস্তারিত তথ্য ও ভাড়ার শর্ত জানতে সরাসরি আয়োজক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য প্রকাশের আগে মেলার সঠিক নাম, স্থান, উদ্বোধনের তারিখ, প্রবেশমূল্য এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে আয়োজক কমিটির বক্তব্য নিশ্চিত করে নেবেন। রাজনৈতিক বক্তব্য ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিগুলোও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমোদন নিয়ে প্রকাশ করা ভালো।