বশীর আহমেদ:
পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার একান্ত অনুগত এবং ভারতীয় ডিপ টেস্ট তথা গোয়েন্দা সংস্থার রয়ের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদত্ত দুই কর্মকর্তা লেফটেনেন্স জেনারেল বরখাস্ত মোঃ মুজিবুর রহমান জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মোঃ আকবর হোসেন এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশ্রয় রয়েছেন। অধিকাংশেরই ধারণা ছিল বিচারবহির্ভূত হত্যা ঘুম আয়নাগর হাসিনার ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে বিরোধীদল দমনসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই দুই সাবেক জেনারেল হয়তো ভারতেই আশ্রয় নিয়েছেন। একাধিক নিরাপত্তা সূত্র আমার দেশকে নিশ্চিত করেছে খুনের দায়ে অভিযুক্ত এই দুই জেনারেল সপরিবারে এখন কলকাতায় অবস্থান করছেন। দিল্লিতে থাকা শেখ হাসিনার সঙ্গে এই দুই জেনারেলের যোগাযোগ এখন নিয়মিত সে তারা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে কিভাবে আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় ভারতের ডিপ টেস্টের সঙ্গে মিলে সেই ষড়যন্ত্রই করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন ২ জেনারেলের পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া খুবই উদ্বেগের বিষয়। একটা নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি পড়াতে জড়িত এই দুই জেনারেলকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে তাদের স্বার্থে এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যবহারের জন্য। বিশ্লেষকরা আরো বলেন বাংলাদেশ সরকারের উচিত অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত করা একইসঙ্গে অপরাধীদের ভারত যে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে তা আন্তর্জাতিকবিশ্বকে জানানো। এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হবে আন্ত বাহিনীর জনসংযোগ আই এস পি আর এর পক্ষ থেকে আমার দেশকে জানানোহয়েছে এ ব্যাপারে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই।জুলাই বিপ্লবের পর শেখ হাসিনা সহ তার যেসব সহযোগী ভারতে পালিয়ে গেছে তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করেছে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো। সেই ডাটাবেসে জেনারেল মুজিব জেনারেল আকবর এবং তাদের সঙ্গে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যদের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। ৭৩৪ জনের তথ্য সম্বলিত এই ডাটাবেজ টি এখন আমার দেশের হাতে। ডাটাবেসে ব্যক্তিগত পরিচয় বাংলাদেশ এবং ভারতীয় ঠিকানা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর এবং ব্যবহৃত টেলিফোন নম্বর সঙ্গে টাকা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
ভারতের ইন্টেলিজেন্স গরুর দৈত্য অনুযায়ী লেফটেন্যান্ট জেনারেল বরখাস্ত মোঃ মজিবুর রহমান তার পরিবার-পরিজন নিয়ে কলকাতায় অবস্থান করছেন। তার বাংলাদেশী পাসপোর্ট নম্বর ডি-০০০১৩৬৭৫ কলকাতা ব্যবহৃত তার মোবাইল নাম্বার : +৯১৮৪১৪৯৬৭০৩০।১৮ তম লং কোর্সের এই আলোচিত সেনা কর্মকর্তা যার বিএ নং-৩৪২১।তিনি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়েছেন বলে জানানগেছে।
এস এস এফ এর সাবেক বিজি জেনারেল মুজিব রয়ের কোর্ডিনেটর হিসেবে শুধু দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি নড়বড় করে দেননি তিনি নানা অপকর্মের হোতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাপক দুর্নীতি ও করেছেন।
দুর্নীতির অভিযোগে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুজিব মুজিবের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করেছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে গুম গণহত্যার মূল নায়ক ছিলেন জেনারেল মুজিব।
শেখ হাসিনার আরেক অনুগত এবং ভারতের ডিপ টেস্টের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ঘুম খুনের সঙ্গে জড়িত দুটি বয়া নির্বাচনের মূল কারিগর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মোঃ আকবর হোসেন জুলাই বিপ্লবের পর কোন এক সময় ভারতে পালিয়ে যান। তার কাছে থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর :ডি-০০০১১৯০০ কলকাতা তার ব্যবহৃত ফোন নাম্বার +৯১৮৪১৩৯৭২৮৩৪।১৩ তম লং কোর্সের এই সাবেক জেনারেল কার বিএ নম্বর :২৮৯০।ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান এই তিন তারকা জেনারেল বিচার বহির্ভূত হত্যা ঘুম আয়না করে নির্যাতন বিরোধী দল দমনের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার মত নানা অপরাধের অন্যতম প্রধান হতা। জেনারেল মুজিবের মত তিনিও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় ডিপ টেস্ট রয়ের অনুপ্রবেশ গঠনের অন্যতম কারিগর। ২০১৪ সালের একতরফা বিনা ভোটের নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি জামায়াত এবং অন্যান্য বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম অ্যাপ সাধন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন কালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং তখন ঢাকায় এসে জাতীয় পার্টি কে নির্বাচনে যেতে এরশাদের উপর চাপ দেন তবে এরশাদ তাতে রাজি হননি পরবর্তী সময়ে দিল্লির নির্দেশে তৎকালীন ডিজিএফআই প্রদান জেনারেল আকবর এর সাথে তার বাসা থেকে জোর করে তুলে এনে সিএমএইচে বন্দি করে রাখেন এবং জাতীয় পার্টি কে নির্বাচনে যেতে বাধ্য করে।
বহুল আলোচিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার অন্যতম হোতা ছিলেন এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা এখন কলকাতায় বসে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে পুনর্বাসনের জন্য ভারতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপর জোরপূর্বক ঘুমের অভিযোগে সাবেক এই জেনারেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া এই বিতর্কিত দুই জেনারেল সম্পর্কে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে নেতিবাচক বিবৃতি দিয়েছেন।গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন শিষ্টা জেনারেলদের পালিয়ে থাকা নিরাপত্তা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বিরাট হুমকি।
তথ্যসূত্র:
দৈনিক আমার দেশ।