বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার :
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহাবাগ আবার জন মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর দলে দলে ছাত্র জনতা সেখানে জড়ো হন। হাতে লাল -সবুজের পতাকা, মাথায় জাতীয় পতাকার ব্যান্ড, বুকে শহীদ হাদির ছবি এমন দৃশ্যে এলাকাটি পরিণত হয় শোক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের এক মহাস্রুতে।
গতকাল জুমার নামাজের পর পরই শাহবাগে মিছিল ও স্লোগানের ঢল নামে। সাইন্সল্যাব, চানখাঁরপুল, পলাশীর মোড়, দোয়েল চত্বর সহ বিভিন্ন দিক থেকে মিছিল নিয়ে আসে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। কেউ সংগঠনের ব্যানারে কেউবা নিজ উদ্যোগে এসে সমবেত হন মিছিলে।
এ সময় ‘ তুমি কে’ আমি কে, হাদি; হাদি; এই মুহূর্তে দরকারবিপ্লবী সরকার, আওয়ামী লীগের আস্তানা এই বাংলায় হবে না, হাজী ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না, আমরা সবাই হাদী হব, যুগে যুগে লড়ে যাব, ফ্যাসিবাদের কালো হাত, ভেঙ্গে দাও গুঁড়িয়ে দাও। বিভিন্ন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে শাহবাগ চত্বর।
বিক্ষোভ কারীর আরো স্লোগান দেন, এক হাদী লোকান্তরে- লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে। আমার ভাই মরলো কেন? প্রশাসন জবাব দে। আমার ভাই মরলো কে? স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জবাব দে।
ফার্মগেট থেকে শাহবাগে আন্দোলনে যোগ দেওয়া স্টুডেন্ট রাকিব হাসান বলেন, হাদি ভাইয়ের হত্যার বিচার না হলে পতিত ফেসিস্টরা আরো আমাদের ভাইদের হত্যার সুযোগ পাবে। দ্রুতই হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার না হলে আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করছি।
এদিকে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদীকে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের সেনানি’ আখ্যা দিয়ে তার হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকাল ৩ টায় শাহবাগে ‘আধিপত্যবাদ বিরোধী সমাবেশ ‘ এর কর্মসূচি ঘোষণা করে ডাকসু।
সমাবেশে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির শাহাদাত এর ঘটনায় বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসী ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের মূল উৎপাটন না করা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তিনি বলেন,হাদি ভাই কখনো সহিংসতার মাধ্যমে আদিপত্যবাদী শক্তিকে পরাজিত করতে চাননি। তার আদর্শ ছিল মেধা -মনন ও জ্ঞানের শক্তি দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা। তার এই সংগ্রাম দীর্ঘমেয়াদী।সাময়িক উত্তেজনা বা সহিংসতার মাধ্যমে শহীদ হাদির স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বরং হঠকারী কোন কর্মকান্ড আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোন ফাঁদে পা না দিয়ে হাদী ভাইকে বুকে ধারণ করে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন জারি রাখতে হবে।
শহীদ হাদীর রক্ত জাতির জন্য একটি আমানত উল্লেখ করে ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, এই আমানত হৃদয়ে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী যেকোনো আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই শহীদ হাদির আদর্শ। এজন্য সব ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক শক্তিকে এক কাতারে এসে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দিনভর কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শাহবাগ মোড় ছিল উত্তাল। এদিন সন্ধ্যায়ও সেখানে হাজার হাজার জন মানুষের উপস্থিতি ছিল।
মূলত শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে এ আন্দোলন এখন স্রেফ সাধারণ আন্দোলনে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্র ছড়িয়ে পড়েছে। সমাবেশে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও টকশো ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবীর বলেন, হাদীর মৃত্যু হতে পারে না, হাদীরা মরে না। হাদি দেশের জন্য, মানুষের জন্য, মাটির জন্য, আধিপত্যবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হয়েছে। এখন দেখি সুশীলরা কত কথা বলছে। কিন্ত কুষ্টিয়ায় যখন মাহমুদুর রহমানের উপর হামলা হল তখন সুশীলরা মুখে কুলুপ এটেছিলেন কেন? সেটা কি আমরা
বুঝিনা।
তথ্যসূত্র:
#দৈনিক আমার দেশ।
# দৈনিক নয়াদিগন্ত।
#News24 bd.com.
# দৈনিক ইত্তেফাক।
২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি.