আহমেদ আলী:
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী মেজর এম এ জলিল
ভারতীয় সেনাবাহিনী অস্ত্র শস্ত্র গোলা বারুদ লুটপাট ও খুলনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশের সম্পদ পাচারের তীব্র প্রতিবাদ করাই মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসাবে মেজর এম এ জলিলের ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিল এবং এর বাইরেও তিনি ছিলেন একজন সামরিক কর্মকর্তা। বরিশাল জেলার উজিরপুরে ১৯৪২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নানার বাড়িতে মেজর এম এ জলিলের জন্ম। তাঁর পিতা জোনাব আলী চৌধুরী ও মা রাবেয়া খাতুন। তার জন্মের ৩ মাস আগে বাবা জোনাব আলি মারা যান। উজিরপুরেই তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটে যায়। উজিরপুর ডব্লিউবি ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন থেকে ১৯৫৯ সালে মেজর এম এ জলিল কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক পাস করেন। তিনি ফিশারিজ ডিপার্টমেন্টে চাকরি করেন এবং কিছুদিন পর চাকরি ছেড়ে পড়াশোনা করতে পশ্চিম পাকিস্তানে যান । ১৯৬১ সালে সেখানকার মারি ইয়ং ক্যাডেট ইনস্টিটিউশন থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন এবং পাশাপাশি গ্রহণ করেন সামরিক শিক্ষা। এরপরই মেজর এম এ জলিল
১৯৬২ সালে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে ট্রেনিং অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। সামরিক বাহিনীতে চাকুরিরত অবস্থায় তিনি বি.এ পাস করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি কমিশন প্রাপ্ত হন ও ১২নং ট্যাঙ্ক ক্যাভারলি রেজিমেন্টের অফিসার হিসেবে তৎকালীন পাক-ভারত যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে যুদ্ধ বিরতির পর পাকিস্তান একাডেমি থেকে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরে মুলতানে কর্মরত অবস্থায় তিনি ইতিহাসে এম এ পাশ করেন। ১৯৭০ সালে তিনি মেজর পদে উন্নীত হন।
তিনি ১৯৭১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মায়ের অসুস্থতার জন্য এক মাসের ছুটি নিয়ে বরিশালে আসেন এবং মার্চে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৯নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব লাভ করেন ।মেজর এম এ জলিল সহ কয়েকজন সেক্টর কমান্ডারকে রাষ্ট্র কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধের কোন খেতাব দেয়া হয়নি। মহান মুক্তিযুদ্ধে মেজর এম এ জলিলের অবদান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন
বি.দ্র.৮নং সেক্টর কমান্ডার মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ৭নং সেক্টর কমান্ডার মেজর নাজমুল কে খেতাব দেয়া হয়নি।