নরসিংদী প্রতিনিধি:
ধারণা করা হচ্ছে,বাংলাদেশে আঘাত হানা ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীতে। এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। শক্তিশালী ভূমিকম্পে পুরো জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন পাঁচ জন আহত প্রায় শতাধিক। নিহতরা হলেন, দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, তার সন্তান হাফেজ ওমর ফারুক ( ৮) এবং কাজমালি ( ৭৫) নাসির উদ্দিন ( ৬৫) ও ফুরকান মিয়া ৩৫।
গতকাল শুক্রবার এ ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্হল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। সরেজমিনে দেখা যায়, ভূমিকম্পের পর জেলার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নরসিংদী শহরের অনেক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং হেলে পড়েছে। পলাশ রায়পুরা, মনোহরদী, বেলাব ও মাধবদীতেও বহু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার নতুন বাজার গ্রামের ইসহাক মিয়ার বাড়ি ভেঙ্গে গেছে। অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাব স্টেশনে। জানা যায়, সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকার হাফেজ ওমর ফারুকের মৃত্যু হয় ভবনের দেয়াল ধসে এর কয়েক ঘণ্টা পর ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবা দেলোয়ার ও মারা যান। এ তথ্যটি নিশ্চিত করেন ওমর ফারুকের চাচা জাকির হোসেন। তিনি বলেন ভূমিকম্পের কারণে দেয়াল ধ্বসে আহত আমার ভাই দেলওয়ার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে মারা গেছেন। সকালে ভাতিজা হাফেজ ওমর ফারুক ঘটনাস্থলেই মারা যায়, আহত ভাতিজি নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে মাটির ঘরের দেয়াল চাপায় পলাশ উপজেলার মালিতা গ্রামের রুস্তমালি ৭৫ নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। তথ্যটি নিশ্চিত করেন তার চাচাতো ভাই আওয়াল মিয়া। এছাড়া ভূমিকম্পের সময় ধানক্ষেত থেকে দৌড়ে বাড়ি ফেরার পথে গর্তে পড়ে গিয়ে নাসির উদ্দিন ৬৫ নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। তিনি উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজির চর গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ( পিআইও) কাউসার আলম সরকার। এদিকে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস। ইতোমধ্যে আহত ও নিহতদের তথ্য সংগ্রহে জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্যমতে, জেলা ও উপজেলায় শতাধিক মানুষ আহত হয়ে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। এছাড়া ভূমিকম্পের পর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
পলাশ ফায়ার সার্ভিস এর সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুস শহীদ জানান, খবর পেয়ে পলাশ ফায়ার সার্ভিসে দুটি ইউনিটের চেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হক জানান, ভূমিকম্পে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।
তথ্য সূত্র: দৈনিক আমার দেশ।
দৈনিক যুগান্তর।