মাহবুবুর রহমান খান :
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক কিশোর নিহত হয়েছে। বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ফায়দাবাদ গ্রামে এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার উৎপত্তি । নিহত কিশোর মোস্তাকিম মিয়া( ১৪) ওই গ্রামের মাসুদ মিয়ার ছেলে এবং স্হানীয় একটি হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র বলে জানা গেছে।
স্হানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এরশাদও হানিফ মাস্টার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই ঘটনার জের ধরে ভোরের দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হলেও কতজন আহত হয়েছেন প্রাথমিকভাবে তা জানা যায়নি। সংঘর্ষের সময় মুস্তাকিম মিয়া গুলি বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তবে নিহত মোস্তাকিম কোন গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ছিল না বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
নিহতের মা শাহনাজ বেগম জানান,ভোর ৬ টার দিকে তিনি ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় বাড়ির পাশের সড়কে এসে দুর্বৃত্তরা ঘরের পাশ থেকে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়, এতে তার ছেলে মুস্তাকিম গুলি বিদ্ধ হয়। তিনি আরো জানান, তার স্বামী মাসুদ মিয়া প্রবাসে থাকেন ৩.ছেলের মধ্যে বড় ছেলে বিদেশে কর্মরত এবং মেঝো ছেলে সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। তাদের পরিবার কোন দল বা গ্রুপের সাথ সম্পৃট নয়। তিনি ছোট ছেলে মুস্তাকিমকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করতেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক বিমল বরণ ঘোষ বলেন, আজ সকালে মোস্তাকিম নামে গুলিবিদ্ধ এক কিশোরকে তার স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর কোন প্রানের স্পন্দন না পাওয়ায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তার শরীরের বাম পাশে একটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমানের সঙ্গে তার মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।তিনি ‘জনতার দেশ’ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত ও গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।তবে এই সংঘর্ষে কতজন আহত হয়েছেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্রীনগর,বাঁশগাড়ি চাঁনপুর,মির্জারচর, নিলক্ষা, চরমধুয়া, চর আড়ালিয়ার অসংখ্য আমজনতা (জনতার দেশ কে জানান,, রায়পুরা থানা পুলিশের সাথে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সুসম্পর্ক থাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা সব সময় থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপটে নরসিংদী কারাগার থেকে ( ভেলানগর,জেলখানা) লুণ্ঠিত অস্ত্রের ১৭২ টি এখনো উদ্বার হয়নি। যার মধ্যে শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চলে রক্ষিত আছে।চরাঞ্চলে কোথাও মারামারি লাগলেই অস্ত্র প্রকাশ্যে আসে।বিগত দিনের প্রত্যেকটি মারামারির ঘটনা তার বাস্তব প্রমাণ।
তারা আরো জানান,রায়পুরা থানাতে ৩/৪ বছর ধরে যারা এখনো কনস্টেবল থেকে শুরু করে ওসি, ওসি তদন্ত পর্যন্ত বহাল তবিয়তে আছেন নির্বাচনের আগে তাদের অপসারণ করা না হলে আরো কত লাশ পড়বে তার কোন হিসাব নেই।কারণ দীর্ঘদিন রায়পুরাতে থানাতে থাকার কারণে তাদের সাথে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজ, বালুমহাল দখলধারীদের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।যে কোন অপারেশনের সংবাদ এই ঘনিষ্ঠ সোর্সদের মাধ্যমে তারা জেনে যায়।তা ছাড়া তাদের সাথে একটা মাসোহারা চুক্তি তো আছেই।
তারা আরো ক্ষোভের সংগে জানান,রায়পুরাতে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হচ্ছে থানার পুরাতন স্টাফ। তারাই এখন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের বিষফোঁড়া।নির্বাচনের আগে বিষয়টি সুরাহা না হলে রায়পুরাতে যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার
দাযভার পুলিশ কে নিতে হবে।তারা ( রায়পুরা থানা পুলিশ) এই দায়ভার কোন ভাবে এড়াতে পারবেনা।
বি.দ্র.
প্রতিবেদক-
সম্পাদক-প্রকাশক
#দৈনিক জনতার দেশ।
# জনতার দেশ টিভি ( আইপিটিভি,আবেদিত)