শিরোনাম :
টাইম ম্যাগাজিনের জরিপে ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান। দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট পেট্রোল পাম্পে হাহাকার, সরকার বলছে মজুদ সন্তোষজনক, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পুলিশের তথ্য : ওসমান হাদী হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তল কেনা হয় ২ লাখ টাকায় শেষ পর্যন্ত পিস্তলটি উদ্ধার হয় নরসিংদী থেকে। কলাপাড়ায় (পটুয়াখালী) পড়া না পারায় অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থীকে মারধর, অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি । লালন ধর্মের অনুসারী কুষ্টিয়ার কথিত পীর শামীম ওরফে বাবা জাহাঙ্গীর হত্যার অন্ত:রালে। আহমদ ছফার বিয়ে ও শামীম শিকদার প্রসঙ্গ। যত চাপই আসুক ব্রিটেন কে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টেনে নেয়া যাবেনা —- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। একটি শিক্ষনীয় গল্প এবং আমাদের মানবিক চরিত্র। ৯ম পদাতিক ডিভিশনের নিষ্ক্রিয়তা: ৪ আগস্টের রহস্য ঘিরে নতুন প্রশ্ন। আধুনিক বিকৃত ইসলাম এবং মদিনা বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কারিকুলাম।
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

ইমাম খোমেনি ও আমেরিকার গুঁটিচাল।

Reporter Name / ২০২ Time View
Update : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬

শামিম হোসাইন:

হোক খোমেনি স্বৈরাচার, হোক তিনি ফ্যাসিস্ট (তাদের ভাষায়)। এই অভিধান আমার বিবেক কাঁপায় না। কারণ; ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে– যারা সাম্রাজ্যবাদের চোখে ‘স্বৈরাচার’, তারাই নির্যাতিত মানুষের শেষ আশ্রয়। আমার আপত্তি নেই সেই শাসকের প্রতি, যিনি ধর্মীয় অনুশাসনকে রাষ্ট্রীয় মেরুদণ্ড বানান; আমার আপত্তি নেই সেই নেতৃত্বের প্রতি, যে ক্ষমতার নেশায় নয়, আদর্শের দায়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

যিনি ফিলিস্তিনের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে কাঁদেন না, বাঙ্গু ফেসবুকীয় কী-বোর্ড মুজাহিদদের মতো ভেজিটেবল শুটকির রচনা লেখেন না। খোমেনি হাতিয়ার তুলে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

যিনি মুসলমান নির্যাতনের খবর পেলে আগে পরিচয়পত্র খোঁজেন না– কে সুন্নী, কে শিয়া! তিনি প্রশ্ন করেন, “কে জালিম, কে মজলুম?” যে নেতৃত্ব পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে, সমান শক্তিতে যুদ্ধ করে তথাকথিত অজেয় মার্কিন বাহিনীকে কুপোকাত করে দিতে পারে, সে নেতৃত্বকে আমি অবজ্ঞা করতে পারি না।

যিনি ডলারের শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেলে স্বর্ণে লেনদেনের কথা বলেন, সুন্নাতী মুদ্রা-ব্যবস্থার দিকে ফিরে তাকান, বৈশ্বিক আর্থিক দাসত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়ান– তিনি আমার কাছে শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ক নন, তিনি এক রাজনৈতিক প্রতিবাদ।

আমি ইরানে দেশদরদী খোমেনিকে চাই। আমি চাই এমন এক ইরান, যে ওয়াশিংটনের অনুমতি ছাড়া শ্বাস নিতে শেখে। আমি চাই না আমেরিকার দালাল রেজা পাহলভিকে, যে রাজসিংহাসনে বসলে ইরান শুধু একটি সেক্যুলার রাষ্ট্রেই পরিণত হবে না, পরিণত হবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের উপনিবেশে।

পাহলভি মানেই– তেলসম্পদের উপর বিদেশি পাহারা। পাহলভি মানেই– ইসরায়েলের দিকে তাকিয়ে নতজানু কূটনীতি। পাহলভি মানেই– আমেরিকার সামরিক ঘাঁটির ছায়ায় বন্দী সার্বভৌমত্ব।

পাহলভি ফিরে এলে ইরান আর কখনো ইসরায়েলের ওপর চড়াও হবে না, আর কখনো মার্কিন ঘাঁটি চূর্ণ করবে না, আর কখনো ফিলিস্তিনের পক্ষে বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে না, আর কখনো বিশ্ব মুসলমানদের প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নেবে না। সেক্যুলারিজমের মোড়কে তখন বিক্রি হবে দাসত্ব। গণতন্ত্রের নামে চাপিয়ে দেওয়া হবে আনুগত্য। আর ‘স্বাধীনতা’ শব্দটা হয়ে যাবে ওয়াশিংটনের লাইসেন্স।

আমি সেই ইরান চাই না। আমি সেই ইরান চাই, যে একা দাঁড়াতে জানে, একা লড়তে জানে। আমি সেই ইরান চাই, যে সাম্রাজ্যবাদের মুখে থুতু ছুড়ে দিতে পারে। আমি সেই ইরান চাই, যে মজলুমের পাশে দাঁড়ানোকে অপরাধ ভাবে না। হোক সে খোমেনি।

হোক সে অস্বস্তিকর। হোক সে পশ্চিমা অভিধানে ‘স্বৈরাচার’। কিন্তু সে অন্তত দালাল নয়। সে অন্তত মাথা নত করে না। সে অন্তত ইতিহাসের ভুল পাশে দাঁড়ায় না। খোমেনির সবচেয়ে বড় অপরাধ কী? তিনি আমেরিকার কথা শোনেন না। ডলারের কাছে মাথা নত করেন না। ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র নীতি বানান না। এই অপরাধগুলোই তাকে পশ্চিমা মিডিয়ায় ‘ভিলেন’ বানিয়েছে।

দালাল পাহলভি ও ট্রাম্প প্রশাসন নিপাত যাক, সেপাহসালার খোমেনি মসনদে আসীন থাক।

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category