ডেস্ক রিপোর্ট |জনতার দেশঃ
ইদানিং যানবাহন ও জ্বালানি সংকটে ভুগছে সারাদেশের পুলিশ বাহিনী। মাঠ পর্যায়ে পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নিয়মিত টহল ও অপরাধ দমনে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের। পুলিশ বাহিনীর বহরে থাকা যানবাহনের বড় অংশ বহু বছর ধরে ওকেজো হয়ে পড়ে আছে।বিগত ৮ বছরে যত সংখ্যক গাড়ি অকেজো হয়েছে এর বিপরীতে নতুন গাড়ি কেনা হয়েছে অর্ধেকেরও কম। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে পরিবহন সংকট কাটিয়ে পুলিশের কার্যক্রমের গতি ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৮২৯ টি অপারেশনাল যানবাহন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের ৬৩৯ টি থানায় যানবাহনের স্বল্পতা, বিদ্যমান যানবাহনের পুরনো অবস্থা এবং অপরাধ দমনে দ্রুত সারা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন যানবাহন যুক্ত হলে মাঠ পর্যায়ে পুলিশের টহল অভিযান অপরাধী গ্রেপ্তার এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ পুলিশ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপারেশনাল যানবাহন ক্রয় শীর্ষক প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের পুরো অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
কমিশন জানিয়েছে আধুনিক ও দক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য পর্যাপ্ত যানবাহন থাকা জরুরি। জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে টহলযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে একাধিক স্থানে একই সময়ে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে যানবাহনের স্বল্পতার কারণে পুলিশের কার্যক্রম আহত হতে পারে এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সারাদেশে পুলিশের যানবাহন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে বর্তমানে থানা গুলোতে গড়ে দুটি বা তার কম যানবাহন রয়েছে। সাধারণ পরিস্থিতিতেও একটি থানার বিভিন্ন এলাকায় কার্যকর ভাবে টহল পরিচালনার জন্য অন্তত চার থেকে পাঁচটি পিকআপ বা টহলযান প্রয়োজন হতে পারে। জনবহুল, ব্যস্ত ওঅবরাধ প্রবণ এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরো বেশি যানবাহনের দরকার হতে পারে।
পর্যাপ্ত যানবাহন থাকলে পুলিশ একই সময়ে একাধিক এলাকায় টহল পরিচালনা করতে পারবে। অপরাধের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের কাজেও সুবিধা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। যানবাহন কেনার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১৮৪ কোটি টাকা।
এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, পুলিশ বাহিনীকে একটি সুশৃংখল আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এরই অংশ হিসাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
তথ্যসূত্রঃ
#স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
#বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন
ছবিঃ
# প্রতীকি চিত্র।