এ এম এম আহসানঃ
সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার পেছনে কখনো কখনো সাংবাদিকরাই ভূমিকা রাখেন—এ বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
একজন সাংবাদিকের অপমান, হয়রানি, হামলা কিংবা মামলার পেছনেও যখন সহকর্মী সাংবাদিকদের ইন্ধন বা ভূমিকার অভিযোগ ওঠে, তখন প্রশ্ন জাগে—সাংবাদিকতার শত্রু কি শুধু বাইরে, নাকি আমাদের ভেতরেও?
প্রবাদ আছে, কাক নাকি কাকের মাংস খায় না। অথচ সাংবাদিকতার অঙ্গনে কখনো কখনো দেখা যায়, একজন সাংবাদিকের পেশাগত ক্ষতি করতে আরেকজন সাংবাদিকই সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
মতের অমিল হলেই শুরু হয় কুৎসা, অপপ্রচার আর চরিত্রহননের প্রতিযোগিতা। তিলকে তাল বানিয়ে একজন সহকর্মীকে হেয় করা হয়, এমনকি রাজনৈতিক তকমা দিয়ে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ বানানোর অপচেষ্টাও চলে।
প্রশ্ন হলো—মতপার্থক্য কি অপরাধ? ভিন্নমত পোষণ করলেই কি একজন সাংবাদিকের পেশাগত মর্যাদা ও আত্মপরিচয় কেড়ে নেওয়া যায়?
সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হাতিয়ার নয়। এটি সত্য প্রকাশের পেশা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি। অথচ সেই পেশার মানুষই যদি সহকর্মীর বিপদে পাশে না দাঁড়িয়ে বরং তার বিপদ বাড়িয়ে দেন, তাহলে সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করবে কে?
মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকদের বিভক্তি অন্যায়কারীদের শক্তিশালী করে, আর সাংবাদিকদের ঐক্য অধিকার আদায়ের পথ সুগম করে।
ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নয়, পেশাগত সততা হোক আমাদের পরিচয়। রাজনৈতিক তকমা নয়, মূল্যায়নের মাপকাঠি হোক কাজ ও সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা।
সাংবাদিকের প্রতিপক্ষ হতে পারে ভিন্নমত, কিন্তু সহকর্মীর সর্বনাশ কামনা কখনোই সাংবাদিকতার আদর্শ হতে পারে না।
প্রতিবেদক-
একজন গণমাধ্যম কর্মী।