বিনোদন ডেস্ক |জনতার দেশঃ
চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ‘সুলতানা’এর জন্ম পাবনা জেলায় এক সাংস্কৃতিকমনা মুসলিম পরিবারে।
উনার মা কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন এবং পিতা ছিলেন বাংলাদেশী।। বাবা সুলতানাকে আদর করে ডাকতেন চাঁদ সুলতানা।। তিনি ৭ ভাই বোনের মধ্যে ছিলেন সবার বড়।। শোনা যায় সুলতানার স্বামী ছিলেন একশনধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাতা মমতাজ আলী।।
শৈশবে তিনি পাবনায় স্কুলে লেখাপড়া করতেন এবং স্কুল জীবন থেকেই তিনি সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নাচ-গান করতেন,
যার ফলে উনি লেখাপড়ায় বেশিদূর এগোতে পারেনি।। স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে সুলতানার চমৎকার পারফরম্যান্স দেখে গুণী অভিনেত্রী রানী সরকার সুলতানাকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন এবং মাত্র ১৪ বছর বয়সেই, ১৯৬৬ সালে রানী সরকারের হাত ধরেই শিশু শিল্পী হিসেবে “অপরিচিতা” ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি রূপালী পর্দায় প্রথম প্রবেশ করেন।। ৭০ এবং ৮০ দশকে তিনি মূলত নায়িকার বান্ধবী কখনো নায়ক কিংবা নায়িকার ছোট বোন কখনো ভাবীর চরিত্রে কখনো বা খলনায়িকা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা পান।। উনি তখনকার জনপ্রিয় নায়ক রাজ রাজ্জাকের সহ নায়িকা হিসেবে আনুমানিক ৩০ টির মত ছবিতে অভিনয় করেন।। সুলতানা রূপ গুণ থাকা সত্ত্বেও চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে তিনি কখনোই একক নায়িকা হওয়ার সুযোগ পাননি।। তবে এতে তিনি দমে যাননি তিনি সহ নায়িকার হিসাবেই নিয়মিত অভিনয় করে যান।। তিনি নৃত্য, অসাধারণ অভিনয় এবং গ্ল্যামারাস দিয়ে উনার অবস্থান সবসময় ধরে রাখেন।। তাছাড়া উনি দর্শকদের কাছে যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন।। কলকাতার জনপ্রিয় নায়ক প্রসেনজিতের পিতা নায়ক বিশ্বজিতের বোনের চরিত্রে “রক্তাক্ত বাংলা” ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন।। ওই
ছবির কিংবদন্তি কন্ঠ শিল্পী লতা,জীর গাওয়া একটি গান “দাদা ভাই ও দাদা ভাই হাত বানাও পাও বানাও বৌদ্ধ যীশু তাও বানাও” চমৎকার এই গানটি আজও শ্রোতাদের কাছে সমাদৃত।। তিনি সহ-অভিনেত্রী কিংবা খল অভিনয়ে এত বেশি প্রয়োজনীয় ছিল যে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছে উনাকে ছাড়া বাণিজ্যিক ছবির কথা চিন্তাই করা যেত না।। সুলতানা টার দীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ১০০ টির ও অধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত উনার চলচ্চিত্রে এত অবদান এবং দর্শকদের অফুরন্ত ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও ইন্ডাস্ট্রির নোংরা রাজনীতির কারণে উনি কখনো জাতীয় পুরস্কার অর্জন করতে পারেননি
তবে বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের কাছ থেকে তিনি অনেকবার বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন তাছাড়া বেশ কয়েকবার তিনি বাচসাস পুরস্কার পান।। সুলতানা জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি না পেলেও দর্শকদের কাছে আজও সমান জনপ্রিয় এবং অবিস্মরণীয় এক নাম।। উনার বেশ অনেক ব্যবসা সফল এবং উল্লেখযোগ্য ছবি আছে তার মধ্যে থেকে কিছু উল্লেখযোগ্য ছবির নাম আমি উল্লেখ করছি ——
পিচ ঢালা পথ,, ছদ্মবেশী,, সন্তান,, আঁকাবাঁকা,, আবার তোরা মানুষ হ,, নাচের পুতুল,, কি যে করি,, মাসুদ রানা,,নয়ন মনি,, যাদুর বাশী,, নিশান,, অনুভব,, রাজকুমারী চন্দ্রবান,, তৃষ্ণা,, নবাব সিরাজউদ্দৌলা সুয়োরানী দুয়োরাণী,, অগ্নিশিখা, বেহুলা,, সেতু বন্ধন,,ব্যথার দান,, কুচ বরণ কন্যা,, এতটুকু আশা,, আবির্ভাব,, সংসার,, দুই ভাই,, নীল আকাশের নিচে,, বড় ভালো লোক ছিলেন,, ইনসাফ,, আয়না মতি,, রঙ্গিন সাত ভাই চম্পা,, ভরসা,, হিসাব চাই,, অশান্তি,, দোলনা,, তাকদিরের খেলা,, চাকর,, রঙ্গিলা,, রাজার মেয়ে বেদেনী,, দিল তো পাগল
ছবিগুলোতে অভিনয় করে তিনি
নিজেকে সহ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অঙ্গনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।।উনি এখনও ভালো আছেন সুস্থ আছেন।দৈনিক জনতার দেশ পরিবারের পক্ষ থেকে বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রীকে বর্ণালী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।