বিনোদন ডেস্ক :
উপমহাদেশের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ( মুল নাম দিলসাদ ইয়াসমিন এবং ডাক নাম রোজী ) ১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। পৈত্রিক নিবাস সাতক্ষীরায়। তাঁর পিতার নাম : লুৎফর রহমান, মায়ের নাম : বেগম মৌলুদা খাতুন।
কবীর সুমন (সুমন চট্টোপাধ্যায়) তাঁর বর্তমান স্বামী, যিনি ওপার বাংলার (ভারত) একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার। শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের দুই সন্তান; তাঁরা হলেন: ইয়াসমীন ফাইরুজ বাঁধন (মেয়ে) বাঁধনও একজন সঙ্গীতশিল্পী বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে কর্মরত আছেন। পুত্র রাফি হোসেন শ্রাবণ তিনি বর্তমানে তিনি লন্ডনে পেশাজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন। কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন উস্তাদ পি সি গোমেজ এর নিকট ১০বছর যাবৎ ধ্রুপদী ও উচ্চাঙ্গসংগীতের তালিম গ্রহন করেন। সাবিনা ইয়াসমিনের মাতা বেগম মৌলুদা খাতুন ছিলেন একজন সঙ্গীতশিল্পী যিনি উস্তাদ কাদের বক্সের কাছে গান শিখেছিলেন। শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন পারিবারিক ভাবেই গানের জগতে প্রবেশ করেন। তাঁর বোনেরা ফরিদা ইয়াসমিন, ফৌজিয়া খান, নাজমা ইয়াসমিন ও নিলুফার ইয়াসমিন বাংলাদেশের নামকরা সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে পরিচিত। কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন পনেরো হাজারের উর্ধ্বে গানে কন্ঠ আরোপ করেছেন। তাঁর গাওয়া প্রতিটি গানই প্রচুর জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মাননাএকুশে পদক: শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮৪ সালে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পান।স্বাধীনতা পুরস্কার: ১৯৯৬ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত হন।বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা: ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক তাঁকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়। জাতীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক চলচ্চিত্র পুরস্কারজাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, তিনি বাংলাদেশের একমাত্র কণ্ঠশিল্পী হিসেবে রেকর্ডসংখ্যক ১৫ বার শ্রেষ্ঠ নারী নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। বাচসাস পুরস্কার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) থেকে তিনি মোট ৬ বার পুরস্কার অর্জন করেন। জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার, চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য এই সম্মাননা লাভ করেন। পূর্বাণী চলচ্চিত্র পুরস্কার: চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার পান।আজীবন সম্মাননামেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার: ২০২২ সালে সঙ্গীত জগতে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।বিএমজেএ মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস: ২০২০ সালে বাংলাদেশ মিউজিক জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন তাঁকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করে।আন্তর্জাতিক ও অন্যান্য সম্মাননাসম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি: ১৯৮৫ সালে ভারতের বিশ্ব উন্নয়ন সংসদ থেকে তিনি এই সম্মানজনক ডিগ্রি লাভ করেন।সংসদ রত্ন উপাধি: ১৯৮৩ সালে বিশ্ব উন্নয়ন সংসদ কর্তৃক এই উপাধিতে ভূষিত হন।উত্তম কুমার পুরস্কার: ভারত থেকে এই সম্মাননা লাভ করেন।এইচএমভি ডবল প্লাটিনাম ডিস্ক: সঙ্গীত বিক্রির রেকর্ডের জন্য এই সম্মাননা পান।বেস্ট সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড: আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন।বুলবুল আহমেদ স্মৃতি সম্মাননা: ২০২৫ সালে তিনি এই পদক লাভ করেন।
কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। আমি তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি।
তথ্যসূত্র:
# সংগৃহিত।