শিরোনাম :
মুসলমানদের প্রধান শত্রু মুসলমানই সৌদি,কাতার,দুবাই আরব রাষ্ট্র গুলো তার মধ্যে অন্যতম। নরসিংদী ২ আসনের এমপির যথেষ্ট যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সংসদের স্পিকার হলেন মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। শ্রীনগর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ ২০২৬ চরফ্যাশনে জুতার দাম কম বলায় ক্রেতাকে মারধর, লেদার ক্লাবের মালিক আটক। ইজরায়েল -মার্কিনী গোলা বর্ষনে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং মুজতবা খামেনি প্রসঙ্গ। কলাপাড়া (পটুয়াখালী) হত্যা মামলা তুলে নিতে পুলিশের সন্মুখে স্বজনদের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন। নার্সারি ও সামাজিক বনায়ন শিল্পে সমগ্র বাংলাদেশে রেকর্ড গড়েছেন নরসিংদির লুৎফর রহমান সরকার। বাউফলে পিপল’স রাইট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ । যুদ্ধ নয়,শান্তিই হোক মানবতার বানী। অর্থের অভাবে মৃত্যু পথযাত্রী বাউফলের জহিরুল।
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

ইজরায়েল -মার্কিনী গোলা বর্ষনে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং মুজতবা খামেনি প্রসঙ্গ।

Reporter Name / ১৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

তানিম ইশতিয়াক:
মুজতবার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যেদিন শাহাদাত বরণ করেন, একই হামলায় শহীদ হন তার মা, স্ত্রী ও বোন। জুনিয়র খামেনি মুজতবা সেদিন ওই বাসায় ছিলেন না। অনেক জায়গায় বোমা হামলা করে তাকে মারার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু এখনো বেঁচে আছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাবার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ইরানের সুপ্রিম লিডার হয়েছেন।

ঐতিহ্যগতভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার জন্য ‘আয়াতুল্লাহ’ যোগ্যতা অর্জন করা লাগে। কিন্তু মুজতবা খামেনি হচ্ছেন ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’। শিয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সাধারণত হাওজা বা সেমিনারি বলা হয়। সেখানকার আলেমদের পড়াশোনা ও যোগ্যতার আলোকে বিভিন্ন রকম উপাধি আছে।

• তালেবে ইলম (জ্ঞান অন্বেষণকারী) : ছাত্র
• সিগাতুল ইসলাম (ইসলামের বিশ্বাস) : জুনিয়র আলেম
• হুজ্জাতুল ইসলাম (ইসলামের প্রমাণ) : মাঝারি পর্যায়ের আলেম
• হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন : সিনিয়র আলেম‍। ধর্মীয় বক্তা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন‍।
• আয়াতুল্লাহ (আল্লাহর নিদর্শন) : উচ্চ পর্যায়ের আলেম, যিনি মুজতাহিদ। ইসলামি বিধানের নতুন ব্যাখ্যা দেওয়ার মতো ইজতিহাদের যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
• গ্রান্ড আয়াতুল্লাহ (আয়াতুল্লাহ আল উজমা) : বহু বছরের গবেষণা ও পাণ্ডিত্য যার আছে। তাকে বলা হয় মারাজা-ই-তাকলিদ (রেফারেন্স পার্সন)।

আলজাজিরার রিপার্টে বলা হয়েছে, মুজতবা খামেনি নেতা হবেন এমন কোনো ইঙ্গিত তিনি কখনো দেননি। নেতার ছেলে নেতা হলে অতীতের পাহলবি রাজতন্ত্রের মতো বংশগত শাসনের জন্ম দেবে এমন আশঙ্কা করা হতো। মুজতবা নিজের জন্য লো প্রোফাইল মেইনটেইন করতেন। খুব একটা প্রকাশ্যে আসতেন না, জনসমাবেশে রাজনৈতিক বক্ততা দিতেন না, জুমআর নামাজেও খুতবা দিতেন না, কোনো ইস্যুতেই কোনো আলোচনায় অংশ নিতেন না। বেশিরভাগ ইরানি কখনো মুজতবা খামেনির কণ্ঠ শোনেনি। কিন্তু তারপরও অনেক বছর ধরে সবাই জানত, সরকারের ভেতরে মুজতবা একজন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি।

মুজতবার বাবা ৮ বছর ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, ৩৬ বছর সুপ্রিম লিডার ছিলেন; কিন্তু মুজতবা তেমন কোনো পদ হোল্ড করেননি। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে অংশ নেন নাই, বড় কোনো অফিসের দায়িত্বেও ছিলেন না। কিন্তু সর্বোচ্চ নেতার ছেলে হিসেবে ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করেছিলেন। খামেনির নিজস্ব সার্কেলে একজন বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ হিসেবে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল।

শুরুটা হয়েছিল টগেবগে তরুণ বয়সে। আশির দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় মুজতবা বিপ্লবী গার্ডের হাবিব ব্যাটলিয়নে যুক্ত ছিলেন, বেশকিছু সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। তার সেই সময়ের সহযোদ্ধারা অনেকেই পরবর্তীতে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা শাখায় বড় বড় পদে চলে যান। তারাই এখন মুজতবাকে সমর্থন করছেন। সিনিয়র অনেক নেতৃত্বকে ডিঙিয়ে বয়সে ছোট মুজতবার সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার ক্ষেত্রে তাই সমস্যা হয়নি।

ইরানের ৮৮ সদস্য বিশিষ্ট এসেম্বলি অব এক্সপার্টস মুজতবা খামেনিকে সুপ্রিম লিডার নির্বাচিত করেছে। তারপর এসেম্বলি দেশের সকল ইরানিকে, বিশেষ করে এলিট বুদ্ধিজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয় পণ্ডিতদেরকে মুজতবার প্রতি আনুগত্য দেখানো ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

বড় মাপের আলেম না হয়ে এমন শীর্ষ ধর্মীয় রাষ্ট্রীয় পদে বসা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক ধারণা করছেন। তবে মুজতবার বাবা আলী খামেনিও যখন সুপ্রিম লিডার হন, তখন তিনি আয়াতুল্লাহ ছিলেন না। কিন্তু অন্যান্য যোগ্যতার আলোকে সংবিধান সংশোধন করে তাকে সর্বোচ্চ নেতা বানানো হয়েছিল। ছেলেকে নেতা বানিয়ে ইরান সম্ভবত এই বার্তা দিতে চায়, খামেনিকে হত্যা করে তার কঠোর নেতৃত্বের ধারা বন্ধ করা যাবে না।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুজতবার নাম প্রথম আলোচনায় আসে ২০০৫ সালে। তখন আহমেদিনেজাদকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে মুজতবা পর্দার আড়ালে ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিরোধী সংস্কারপন্থী নেতা মেহদি কারুবি খামেনিকে লেখা এক খোলা চিঠিতে ভোটে কারচুপি হয়েছে দাবি করেন এবং তাতে মুজতবা ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জড়িত বলে অভিযোগ করেন। চারবছর পর আহমেদিনেজাদ পুনরায় নির্বাচিত হলে বিরোধীরা সারাদেশে গ্রিন মুভমেন্ট নামে বিক্ষোভ করে।

ব্লুমবার্গের এক রিপোর্টে বলা হয়, মুজতবা বহুবছর ধরে গোপনে বিদেশে বিশাল সম্পত্তি ও বিনিয়োগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। লন্ডন, দুবাই, জার্মানি, স্পেন, অস্ট্রিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় কোটি কোটি ডলারের সম্পত্তি আছে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে মুজতবার নিজের নামে কিছু নাই। ইরানি বিজনেসম্যান আলী আনসারীর মাধ্যমে শেল কোম্পানি ও অফশোর ফার্মের নামে এসব সম্পত্তি করেছেন বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। তবে আনসারী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন‍। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র মুজতবার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

মুজতবার জন্ম ১৯৬৯ সালে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তার শৈশব জড়িয়ে আছে পাহলবীর স্বৈরতন্ত্র উৎখাত আন্দোলনের উত্তাল সময়ে। ধর্মীয় ও সাধারণ দুই ধরনের শিক্ষা নিয়েছেন। রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামরিক অনেক অভিজ্ঞতা আছে। ৫৬ বছর বয়সে মোটামুটি পরিবারের সবাইকে হারিয়েছেন। এখন আর তার হারানোর কিছু নেই। এই পর্যায়ে মুজতবার সুপ্রিম লিডার হওয়ার অর্থ খামেনির মতো একই রক্তধারায় কঠোর নীতিতে দেশ শাসন করবেন তিনি। কোনো অবস্থাতেই শত্রুপক্ষের কাছে মাথানত করবেন না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category