শিরোনাম :
আমেরিকা-ইসরাইলী আগ্রাসনে নিহত মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ নেতা গণ এর তালিকা। সন্ত্রাস চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নতুন আইজিপির জিরো টলারেন্স নীতি। বিখ্যাত গিটারিস্ট কাজী অনিরুদ্ধ এবং কিছু স্মৃতিচারণ। ডিসি অফিস এলাকা থেকে ২২ মামলার আসামি ‘মাদক সম্রাট’ জসিম গ্রেপ্তার। নরসিংদীতে আলোচিত মিজান মিয়া ওরফে হৃদয় হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার। সেহরির পরপরই সং/ঘ/র্ষে জড়ালো দুই গ্রুপ, বাবা ছেলেসহ প্রাণ গেল ৪ জনের। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ক্যাপ্টেন এহতেশাম এবং তার চলচ্চিত্র জীবন। বিখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় এর অজানা তথ্য। শিক্ষা মন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের শিক্ষাগত যোগ্যতা। মন্ত্রী পরিবারের সন্তান এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামানত হারালেন।
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

গুম হত্যার নায়ক সেনা  করর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবেন সাবেক সেনাপ্রধান  ইকবাল করিম ভূঁইয়া। :

Reporter Name / ৯৪ Time View
Update : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :
গুম করে শতাধিক মানুষ হত্যার ঘটনায় মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউর আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
গতকাগুম ল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ এর  চেয়ারম্যান গোলাম গোলাম  মুর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের  ট্রাইবুনালকে এ কথা জানান চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের ওপর সদস্য হলেন —অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মহিদুল হক এনাম চৌধুরী। গতকাল সকালে জিয়াউল কে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।এর পর তাকে  proceution এর আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে বক্তব্য তুলে ধরেন তার আইনজীবী মনসুরুল হক ও নাজনিন নাহার।
আইনজীবী মনসুরুল হক বলেন, আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল  যে তিনটি অভিযোগ তুলে ধরেন তাতে অপরাধের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারেনি। সজল হোসেনকে হত্যার  ঘটনায় আসামীর বিরুদ্ধে দায় আনা হয়েছে। এই ঘটনায় করা মামলায় পুলিশের তদন্তে জিয়াউলের কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। সাক্ষীদের বক্তব্যেও আসামির নাম আসেনি।
মনসুরুল হক বলেন, দ্বিতীয় অভিযোগে নজরুল ইসলাম মল্লিক হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে ঘটনার ১৫ বছর পর তার স্ত্রী তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। এখানে Rab সদস্যদের কথা বলেছেন, কিন্তু জিয়াউলের নাম বলেননি। তাহলে তিনি কীভাবে অপরাধ করেন?
জিয়াউল এর আইনজীবী বলেন,তৃতীয়  অভিযোগে সুন্দরবনে দস্যু অভিযানের নামে গুম করে রাখা ব্যক্তিদের হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় তারা একটি পত্রিকার কাটিং  ও দুটি এফ আই আর দাখিল করেন ট্রাইব্যুনালের কাছে। এতে চার্জ সাস্টেন করে কী,না তা ট্রাইব্যুনালকে দেখার আবেদন জানান। একই সঙ্গে আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আর্জি জানান।
এরপর বক্তব্য রাখেন চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি জিয়াউলের আইনজীবীর বক্তব্যের জবাবে বলেন, ১৫ বছর কারা ক্ষমতায় ছিলেন? এত মানুষ মারা গেল.কাউকে ধরা হয়নি।  কোন বিচার হয়নি এজন্যেই
জুলাই বিপ্লব হয়েছে। এর পরই ভিকটিমের দ স্বজনরা বিচারের আশায় স্বপ্ন দেখছেন। চীফ প্রসিকিউটর বলেন,জিয়াউলের  ব্যাপারে সাবেক সেনা প্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের সময় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দেবেন। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তিনি বলেছেন ২০১২ সালে সেনা প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন Rab  থেকে সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার করে নিতে চান। পুলিশের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সেনা অফিসাররা নৈতিক বিচ্যুতির শিকার হচ্ছেন। তখন শেখ হাসিনা সম্মতি সূচক  ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, Rab জাতীয় রক্ষী বাহিনীর চেয়েও খারাপ।এরপর প্রধানমন্ত্রী কোন  ব্যবস্থা নেননি। সাবেক সেনা প্রধান তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আরো বলেন তিনি জিয়াউল হাসানকে নিয়ন্ত্রণে রেখে  ‘ক্রসফায়ার’ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এজন্য তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেজর জেনারেল মুজিব ক  অনুরোধ করেন তিনি।এরপর দেশজুড়ে প্রকাশ্যে বন্দুক যুদ্ধ কিছুটা থেমে যায়। কিন্তু আড়ালে ঠিকই  এ সব অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড করেছিলেন জিয়াউল আহসান।
এছাড়া Rab এর ‘এডিজি’ পদে আসীন হতেই স্বাভাবিক হত্যাকাণ্ড বাড়িয়ে দেন তিনি। ক্রসফায়ারের ঘটনায় ঢাকা সেনানিবাসের  গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়   জিয়াউলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া। এরপর জিয়াউল এর আচরণ আরো উশৃংখল হলে তাকে বোঝানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় উচ্চপদস্থ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে। পরে ওই সেনাকর্মকর্তারা জানান,জিয়াউলের  মস্তিষ্ক পাথর বা ইটের টুকরা দিয়ে ঠাসা, থাকে বোঝানোর কোন উপায় নেই।
তাজুল ইসলাম বলেন, এ মামলার সাক্ষী আব্বাস উদ্দিন Rab-৮ এর মালী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।তিনি আলকাস মল্লিকের ভাই। তিনি বলেন, তার ভাই ট্রলারে Rab এর সঙ্গে যেতেন।সেখানে জিয়াউল ছিলেন সবচেয়ে বড় স্যার। মেজর সাব্বির ও থাকতেন। Rab এর হত্যাকাণ্ড দেখে তিনি সহ্য করতে পারেননি। বিভিন্ন জায়গায় মুখ খুলতে থাকেন। এসব কথা Rab এর কানে যায়। পরে  তাকে  খুন করে লাশ গুম করে ফেলে Ra।
বক্তব্য তুলে ধরার পর চীফ প্রসিকিউটার আসামি জিয়াউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করে আদালত।
তথ্যঋণ: দৈনিক আ#মার দেশ।
# বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category