স্টাফ রিপোর্টারঃ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ১৩ নভেম্বর বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানা গেছে। ওই দিনটিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নাশকতার পরিকল্পনা ফাঁস করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করা হয়। এরপর রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে ৩৭ ক্যাডারকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার ‘১৩ নভেম্বর নাশকতার ছক আওয়ামী লীগের লীগর’ নামে আমার দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল প্লাটফর্মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ফ্যাসিবাদী দলটির নাশকতার পরিকল্পনা র্ফাঁস করে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ জানা যাবে আগামী তের নভেম্বর। তাই নাশকতার মাধ্যমে সরকার পতন ঘটাতে চায় আওয়ামীলীগ। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।তারই অংশ হিসেবে আদালত পাড়া ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় বোমাবাজির টার্গেট করা হয়েছে। ঢাকায় নাশকতা পরিকল্পনার মূল সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতে পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। তাকে কৌশলগত সব সহযোগিতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতে পলাতক পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মনিরুল ইসলাম এবং ডিএমপির পলাতক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে।এস এস এফ এর সাবেক( ডিজি) ও সাবেক (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মুজিবুর রহমানসহ একাধিক সেনা কর্মকর্তা এই পরিকল্পনায় যুক্ত আছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরীর মিশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিতে পলাতক সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত শিকদার, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ওরফে ক্যাসিনো সম্রাট কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়েও প্রতিবেদন সতর্ক করা হয়েছে। সরকার পতনের লক্ষ্যে ক্ষমতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাছাই করা নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনা শুরু হয়েছে। ঐদিন ঢাকায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটাতে চায় আওয়ামীলীগ।তারা অস্ত্রবাজী করতে পারে বলে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে। যদি হাসিনার মামলার রায় হয়ে যায়, গোপালগঞ্জ মাদারীপুরে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরির ছক তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ কারণে মাঠ পর্যায়ে এখনি সেনা না উঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সেনা ইউনিট গুলো কে । এ প্রেক্ষাপটে গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিএমপি মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ -পুলিশ কমিশনার মোঃ তালেবুর রহমান ঢাকা থেকে ছয় জনকে গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করেন। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, তেজগাঁও এর মনিপুরী পাড়া, নন্দীপাড়া ব্রিজ, আগারগাঁও, বসুন্ধরা, ডেমরা ও লালবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে ঢাকা মহানগরীর পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জ, সাভার, নবাবগঞ্জ, দোহার, আশুলিয়া ও ধামরাই থানা এলাকা থেকে অস্ত্রসহ ৩১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ। গতকাল গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এসপি আনিসুজ্জামান। আটক ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। ঢাকা জেলার ৭ টি থানায় এক যোগে চালানো এ অভিযানে সাভার থেকে ৪ জন,আশুলিয়া থেকে ৩ জন ধামরাই থেকে ১ জন, কেরানীগঞ্জ মডেল এলাকা থেকে ৬ জন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ৮ জন নবাবগঞ্জ থেকে ৭ জন এবং দোহার থেকে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আনিসুজ্জামান বলেন, আটক সবাই সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী। তারা মিছিল বা বিক্ষোভের প্রস্তুতির সময় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি গণমাধ্যম কে জানান, কেউ আইন বিরোধী কার্যকলাপে জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী আটক ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনা করছিলেন।
বর্তমানে তাদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত আছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তথ্যসূত্র :১। দৈনিক আমার দেশ
২।দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
৩।দৈনিক মানব জমিন
৪। দৈনিক নয়া দিগন্ত
৫। দৈনিকযুগান্তর