সাব্বির আহমেদ,
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহ্যেরান্দী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বোমা বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোররাত থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলা এ সহিংসতায় প্রায় অর্ধশত বাড়িঘরে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মোড়ল ও লাভলু মোড়লের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এমদাদ মাতুব্বরের পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহ্যেরান্দী গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মোড়ল ও লাভলু মোড়লের সঙ্গে একই এলাকার এমদাদ মাতুব্বরের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি বাহ্যেরান্দী জামে মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধটি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জের ধরে বুধবার ভোররাত থেকে সকালে হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাচ্চু মোড়ল ও লাভলু মোড়লের লোকজন বিভিন্ন বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং একাধিক বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়। এমদাদ মাতুব্বর, বোরহান মাতুব্বর ও জসিম মাতুব্বরের বাড়িসহ প্রায় অর্ধশত বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য, হামলাকারীরা বাড়িঘরে ঢুকে মালামাল লুট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে পরিবারগুলো আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের আরও অভিযোগ, ঘটনার সময় সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তাদের সামনেই ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা এবং পক্ষপাতের অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার অভিযুক্ত বাচ্চু মোড়লকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।