জুনায়েদ হোসেন:
ছবিতে যাঁদের দেখছেন তাঁরা প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও তাঁর চাচা, বাবা, মা ও ছেলে। তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য মানুষ।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বাংলার প্রধানমন্ত্রী। গণতন্ত্রের বরপুত্র বলা হয় তাঁকে। চলেন আজকে সংক্ষেপে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পরিবার সম্পর্কে জানি-
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বাঙালি জাতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁকে ছাড়া বাঙালির ইতিহাস লেখা প্রায় অসম্ভব। মানুষের অধিকারের জন্য আপোষহীন এক চরিত্র ছিলেন তিনি। আমার এ লেখা অবশ্য নেতা সোহরাওয়ার্দীকে নিয়ে না; ব্যক্তি সোহরাওয়ার্দীকে নিয়ে। অজানা বহু কিছু জানবেন আশা করি।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জন্মেছেন ১৮৯২ সালে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে। পড়াশোনা করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষা ও সাহিত্যে (স্নাতকোত্তর), এরপর যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবার বিজ্ঞানে স্নাতক এবং শেষে আইনে ব্যাচেলর অফ সিভিল ল এবং সবশেষ ১৯১৮ সালে বার এট ল ডিগ্রী অর্জন করেন।
স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী (বাবা)- ছিলেন বিখ্যাত আইনজ্ঞ। ব্রিটিশ রাণী থেকে নাইটহুড উপাধীপ্রাপ্ত ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বাবা।
খুজিস্তা আখতার বানু (মা)- ছিলেন বিখ্যাত বাঙালি লেখিকা, সমাজ সংস্কারক, প্রথম ভারতীয় সিনিয়র ক্যাম্ব্রিজ পাশ করা নারী।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নানা ছিলেন সমাজ সংস্কারক সৈয়দ আমীর আলীর শিক্ষক বিখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ওবায়দুল্লাহ আল ওবায়দী সোহরাওয়ার্দী। শহীদ সোহরাওয়ার্দীর দাদা ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী সরদার মাওলানা মোবারক আলী সোহরাওয়ার্দী।
স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দী (চাচা)- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর চাচা ছিলেন স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দী (তিনিও নাইটহুড উপাধীপ্রাপ্ত)। তিনি ছিলেন রাজনীতিক ও খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ।
হাসান শহীদ সোহরাওয়ার্দী (ভাই)- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ভাই হাসান শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন একজন বাঙালি কূটনীতিক, অনুবাদক, কবি ও শিল্প সমালোচক।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বিয়ে করেন দুইবার। প্রথম স্ত্রী ব্রিটিশ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার আবদুর রহিমের (নাইটহুড) কন্যা বেগম নেওয়াজ ফাতেমা। সেখানে তাঁদের একজন কন্যা ছিল, নাম বেগম আখতার সুলাইমান। তিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষ নেন এবং আমৃত্যু পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন।
১৯২২ সালে প্রথম স্ত্রী মারা গেলে সোহরাওয়ার্দী বিয়ে করেন পোলিশ বংশোদ্ভূত রাশিয়ান অভিনেত্রী বেগম বীরা সোহরাওয়ার্দীকে (আগে ভিন্ন নাম ছিল)। এখানে তাঁদের এক পুত্র সন্তান হয়। তাঁর নাম শুরুতে ছিল রশিদ সোহরাওয়ার্দী, পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে রাখেন রবার্ট আশবি (ছবিতে আছে), যিনি বিখ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। রবার্ট আশবি (রশিদ সোহরাওয়ার্দী) ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে সমর্থন করেন এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি আর বাংলাদেশে স্থায়ী হননি।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালে লেবাননের বৈরুতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন তিন নেতার (শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিমুদ্দিন) মাজারে সমাহিত করা হয়।
তথ্যসূত্র:
# দেশি বিদেশি জার্ণাল
# উইকিপিডিয়া