শিরোনাম :
বিখ্যাত গিটারিস্ট কাজী অনিরুদ্ধ এবং কিছু স্মৃতিচারণ। ডিসি অফিস এলাকা থেকে ২২ মামলার আসামি ‘মাদক সম্রাট’ জসিম গ্রেপ্তার। নরসিংদীতে আলোচিত মিজান মিয়া ওরফে হৃদয় হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার। সেহরির পরপরই সং/ঘ/র্ষে জড়ালো দুই গ্রুপ, বাবা ছেলেসহ প্রাণ গেল ৪ জনের। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ক্যাপ্টেন এহতেশাম এবং তার চলচ্চিত্র জীবন। বিখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় এর অজানা তথ্য। শিক্ষা মন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের শিক্ষাগত যোগ্যতা। মন্ত্রী পরিবারের সন্তান এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামানত হারালেন। বাউফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত। দুই ভাই এক সংগে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে।
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন

রবি ঠাকুরের ‘প্রিয় দর্শনী’ শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী ও কিছু অজানা তথ্য

Reporter Name / ১৫৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

 

বিনোদন ডেক্স:

ইন্দিরা গান্ধীর বিখ্যাত একটা কথা আছে সুচিত্রা মিত্র কে নিয়ে। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলতেন, ” সুচিত্রার কন্ঠে ‘ যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলরে ‘ শুনে আমি একলা চলার প্রেরণা পাই।”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় রবীন্দ্রনাথই তাঁর নাম রাখেছিলেন ‘প্রিয়দর্শনী’। সংস্কৃততে এর অর্থ দয়াপূর্ণ দৃষ্টিতে সব কিছু দেখা।
জওহরলাল নেহেরুর একমাত্র সন্তান ইন্দিরার জন্ম ১৯ নভেম্বর ১৯১৭, ভারতের এলাহাবাদে।

ইন্দিরার পড়াশোনা বাড়িতেই। ১৯৩৪ সালে ম্যাট্রিকুলেশনের পর তিনি বিশ্বভারতীতেও পড়াশোনা করতে যান। এক বছর পরই অসুস্থ মায়ের পাশে দাঁড়াতে ইউরোপে চলে যান। এরপর অক্সফোর্ডের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার কৃতকার্য হননি, দ্বিতীয়বার তাকে পরীক্ষায় বসতে হয়।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের ফিরোজ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তার প্রেম। ফিরোজকে এলাহাবাদ থেকেই চিনতেন। ফিরোজ জরাথ্রুস্টবাদী পারসিক। এ বিয়েতে নেহেরু পরিবার রাজি ছিল না। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ফিরোজের নতুন নামায়ন ফিরোজ গান্ধী করে ইন্দিরার বিয়ের মধ্যস্থতা করেন। তিনি দুই সন্তান রাজীব ও সঞ্জয়ের জননী হন। ভারতীয় নারীর জীবনে স্বামী যত গুরুত্বপূর্ণই হোক না কেন, ইন্দিরার বেলায় ফিরোজ গান্ধীর সেই গুরুত্ব ছিল না।
১৯৮৪ সালের আজকের দিনেই (৩১ অক্টোবর) নিজের দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী গুলিতে মৃত্যু হয় ভারতের একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর।

আজ তাঁর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে
গভীর শ্রদ্ধা জানাই 🙏

একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলা ও বাঙালির একটা আন্তরিক, আত্মীক সম্পর্ক রয়েছে। ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে যোগ রয়েছে বাংলার সংস্কৃতির পীঠস্থান শান্তিনিকেতনের।
১৯৩৪ সাল থেকেই শান্তিনিকেতনে গুরুদেবের আশ্রমের (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের) তাঁর যোগাযোগ।
১৯৫০ থেকে ১৯৬৪ পর্যন্ত বাবা জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে ও পরবর্তীতে দীর্ঘদিন আচার্য থাকাকালীন প্রায় প্রতি বছরই ইন্দিরা গান্ধী পৌষ–মাঘ মাসে শান্তিনিকেতনে আসতেন।
রবীন্দ্রনাথের গুণগ্রাহী জওহরলাল নেহরুর সম্পূর্ণ আস্থা ছিল কবির শিক্ষা দর্শনে। জওহরলাল অবগত ছিলেন বিশ্বভারতীর শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে। ১৯৩৪ সালের জানুয়ারিতে নেহরু দম্পতি শান্তিনিকেতনে এসে বিশ্বভারতীতে ইন্দিরাকে ভর্তির বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের কাছে অনুরোধ জানান।

ভারতের প্রথম এবং এখনও পর্যন্ত একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধি। তাঁর বাবা ভারতীয় রাজনীতির আরেক দিকপাল জওহরলাল নেহরু – বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। মা কমলা নেহরুও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনে। ইন্দিরার ছাত্রজীবন কেটেছে নানা জায়গায়। কিছুদিন দিল্লিতে পড়াশোনা করে তিনি চলে যান এলাহাবাদ। ছোটোবেলাতেই সত্যাগ্রহ আন্দোলনে অংশ নেন। তারপর ভর্তি হলেন পুনের এক স্কুলে। বম্বে থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৩৪ সালে তাঁর বাবা-মা শান্তিনিকেতনে এসে রবীন্দ্রনাথকে জানান, মেয়েকে তাঁরা বিশ্বভারতীতে ভর্তি করতে ইচ্ছুক।

সেবছরই ৭ জুলাই মা কমলার হাত ধরে বিশ্বভারতীতে আইএ পড়তে এলেন ইন্দিরা। বয়স তখন ১৭। শ্রীসদনে বসবাস করতে শুরু করলেন। প্রতিদিন ভোর ৪টেয় ঘুম ভাঙত। মাথার ওপর ফ্যান ছিল না। ভোর ৬টায় খেতে হত পুরী আর ডাল। নন্দলাল বসু তাঁর ‘লোকাল গার্জেন’। ইন্দিরা চেয়েছিলেন, শান্তিনিকেতনে তাঁর থাকা-খাওয়ার আলাদা ব্যবস্থা হোক। জওহরলাল চিঠি লিখে বোঝান, তাহলে কোনো সহপাঠীই ইন্দিরার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে না। শিক্ষক-অধ্যাপকরাও অপমানিত বোধ করবেন। মেয়েকে যে কোনো পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার উপদেশ দেন তিনি। ইন্দিরাও বাবার কথামতো সাধারণ শাড়ি পরে খালি পায়ে আশ্রমকে আপন করে নিলেন। বন্ধু হিসেবে পেলেন অশোকা সিংহ, জয়া আপ্পাস্বামী, সোমা যোশি, সুশীলা বাদকারের মতো সহপাঠিনীদের। অধ্যয়ন করলেন ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস। শিল্পকলা, নৃত্য, রবীন্দ্রসংগীতও শিখলেন। ক্ষিতিমোহন সেন, নন্দলাল বসুর মতো মণীষীদের পেয়েছিলেন শিক্ষক হিসেবে। প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের কাছে বাংলা শিখতেন। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও ছিলেন তাঁর শিক্ষক। তবে লাজুক ইন্দিরা কখনও নিজের ছোটোখাটো সমস্যা নিয়ে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথকে অভিযোগ জানাতে যাননি। কবিগুরু তাঁর নাম দেন ‘প্রিয়দর্শিনী”।
অন্য ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিজের কাপড় কাচা, বাসন মাজা, ঘর পরিষ্কার – সবই করতেন ইন্দিরা। বনভোজন, পৌষ উৎসব, বসন্ত উৎসবে যোগ দিতেন মনের আনন্দে। সহপাঠীদের নিয়ে একবার ত্রিবেণী ঘুরতে গেলেন। এত ভালো লাগল, উচ্ছ্বসিত হয়ে চিঠি লিখলেন বাবাকে।

এরই মধ্যে ইন্দিরার মা কমলা নেহরুকে ধরল গুরুতর রোগে। ইংল্যান্ডে গিয়ে চিকিৎসা করানো দরকার, কিন্তু জওহরলাল আলমোড়া জেলে বন্দি তখন। অগত্যা জওহরলাল চিঠি লিখলেন রবীন্দ্রনাথকে। ১৯৩৫ সালের মে মাসে শান্তিনিকেতনকে বিদায় জানিয়ে ইন্দিরা মায়ের কাছে চলে যান। যদিও আশ্রমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল চিরকালীন। ১৯৩৭ সালে বাবার প্রতিনিধি হিসেবে আসেন বিশ্বভারতীর চিনা ভবন উদ্বোধন করতে। ১৯৩৯ সালে হিন্দি ভবনের দ্বারোদঘাটনে বাবার সঙ্গে হাজির ছিলেন ইন্দিরা। রবীন্দ্রনাথ তখনও জীবিত। পরবর্তীকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্বভারতীর আচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন ইন্দিরা গান্ধি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গুরুদেবের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনের সঙ্গে ছিল তাঁর নিরবচ্ছিন্ন সম্পর্ক।

তথ্যসূত্র – সৌম্যেন্দ্র ব্যানার্জি, বিশ্বজিৎ রায়, কোলকাতা,ভারত থেকে সংগৃহিত।

ছবি ক্রেডিট: ইন্টারনেট প্রযুক্তি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category