রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জে চুরির অপবাদে মব করে রূপলাল দাস ও তার ভাগ্নি জামাই প্রদীপ দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ৫ মাস পর মূলহোতা ইউনুস আলীকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলা এবি পার্টির সদস্য সচিব। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারাগঞ্জ থানার ওসি রুহুল আমিন।
এবি পার্টির তারাগঞ্জ উপজেলার সদস্য সচিব ইউনুস আলীর বাড়িও একই উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের মামুনপাড়া গ্রামে।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিঠাপুকুরের ছড়ান বালুয়া এলাকা থেকে আসা ভাগ্নি জামাই প্রদীপ লাল দাসকে সঙ্গে নিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন রূপলাল দাস। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে তাদের গতি রোধ করে তাদের তল্লাশি করে বাংলা মদ পাওয়া যায়। রূপলাল দাস জানান, তার মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে তারা মুচি সম্প্রদায়ের প্রথা অনুযায়ী বাংলা মদ নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এলাকার কিছু ব্যক্তি তাদের ভ্যান চোর অপবাদ দিয়ে পার্শ্ববর্তী স্কুলের মাঠে নিয়ে মব তৈরি করে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
খবর পেয়ে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও তাদের উদ্ধার না করে ফিরে যায় বলে স্বজনদের অভিযোগ। পরে রূপলাল দাস ও প্রদীপ দাসকে উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রূপলালকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে গুরুতর আহত প্রদীপ দাসকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এদিকে মুচি সম্প্রদায়ের দুই জনকে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় পর দিন রূপলালের স্ত্রী আরতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করা হলেও পুলিশ তদন্তকালে ১১ জনকে গ্রেফতার করে। তবে ঘটনার পর বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এতে রূপলাল দাস ও প্রদীপ দাসের ওপর মবের নিষ্ঠুর নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেককে শনাক্ত করে পুলিশ।
তবে ঘটনার মূলহোতা এবি পার্টির তারাগঞ্জ উপজেলার সদস্য সচিব ইউনুস আলী ৫ মাস ধরে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ালেও তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছিল না বলে রূপলালের স্ত্রী আরতী রানীসহ স্বজনরা অভিযোগ করছিলেন। অবশেষে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে নিশ্চিত হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় তাকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ, ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও তথ্য মিলিয়ে দেখা গেছে, ঘটনার সঙ্গে ইউনুস আলী সরাসরি জড়িতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের পাকড়াও করতে অভিযান চলছে। রবিবার তাকে আদালতে চালান দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
তথ্য সূত্র:
# ভয়েজ বাংলা।
ছবি: বাংলা ট্রিবিউন।