ফাতিহা আয়াত:
আজ নিকোলাস মাদুরোকে তার নিজের দেশ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে আমি কোনো বিচ্ছিন্ন খবর হিসেবে দেখি না। দেখি ক্ষমতার নির্মম মানচিত্রে আঁকা আরেকটি কালো দাগ হিসেবে।
একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে যদি তারই মাটি থেকে টেনে নিয়ে যাওয়া যায়, তবে প্রশ্নটা শুধু একজন ব্যক্তিকে ঘিরে থাকে না। প্রশ্নটা দাঁড়ায় সার্বভৌমত্বের মর্যাদা নিয়ে, রাষ্ট্রের আত্মসম্মান নিয়ে, এবং বিশ্বব্যবস্থার নৈতিকতার মুখোশ নিয়ে।
আজ যে শক্তি নিজেকে “ন্যায়বিচারের ধারক” বলে পরিচয় দেয়, সেই শক্তিই আবার সবচেয়ে বেশি ভয় পায় জনগণের রায়কে। তাই তারা আদালতের ভাষায় কথা বলে, কিন্তু আচরণে উপনিবেশের ছায়া লুকিয়ে রাখে। আইনের নামে ক্ষমতার অপহরণ আমাদের সময়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রতারণা।
আমি অবাক হই না।
ইতিহাস আমাকে শিখিয়েছে যখন কোনো রাষ্ট্র নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে চায়, যখন কোনো নেতা বৈশ্বিক নির্দেশ মানতে অস্বীকার করে, তখনই তাকে “অপরাধী” বানানোর স্ক্রিপ্ট লেখা হয়।
আজ মাদুরো, গতকাল অন্য কেউ, আগামীকাল হয়তো আরও কেউ। নাম বদলায়, পদ্ধতি বদলায় না।
এই ঘটনাটি আমাকে মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা কোনো উপহার নয়। এটি প্রতিদিন রক্ষা করতে হয়, প্রশ্ন তুলতে হয়, এবং অন্যায়ের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে হয়।
আমি Faatiha Aayat, আমি এই নীরবতাকে মেনে নিই না। কারণ আজ যদি অন্য দেশের মাটিতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা না বলি, আগামীকাল হয়তো আমার দেশের মাটিও নিরাপদ থাকবে না।
বি.দ্র.
ফাতিহা আয়াত, একজন মানবাধিকার উন্নয়ন কর্মি ও প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণী।