স্টাফ রিপোর্টার : বিরল প্রজাতির দেশি-বিদেশি বাহারি রং এর ফুলের গাছ,ফলজ-বনজ উদ্ভিদের একটি জাতীয় মানের ন্যাচারাল হর্টিকালচার সেন্টারের দেখা মিলেছে নরসিংদীতে। এই হর্টিকালচার সেন্টার টি নরসিংদী জেলা শহর থেকে ৮/৯ কিলোমিটার দূরে নরসিংদি- শিবপুর জেলা সড়কের পাশে গড়ে ওঠেছে।যেটি শিবপুর উপজেলার নিবৃত পল্লী বান্ধারদিয়া গ্রামে অবস্হিত। কারো দৃষ্টিতে মনে হবে এটি বোধহয় কোন বোটানিক্যাল গার্ডেন কিংবা কোন সরকারি হর্টিকালচার সেন্টার। বাস্তবে তা দৃশ্যমান হলেও এটির নাম দেয়া হয়েছে মেসার্স পল্লী নার্সারি সেন্টার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,১৯৯৪ সনে বান্ধার দিয়া গ্রামের এক কলেজ স্টুডেন্ট লুৎফর রহমান সরকার শখের বশে তার কিছু বন্ধু -বান্ধব নিয়ে কিছু দেশীয় ফুল-ফলের চারা নিয়ে একটি ছোট নার্সারি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।অনেক কষ্ট আর পরিশ্রম করে নার্সারি করার মত ধৈর্য্যে তারা পিছিয়ে গেলে অবশেষে ১৯৯৮ সনে লুৎফর রহমান একক ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেন।মাত্র ৪ শতাংশ পৈত্রিক জমিতে তিনি ফুল-ফল এবং দেশীয় গাছের চারা,বীজ বপন করতে থাকেন। সেখান থেকে অন্কুরিত চারা গাছ একটা সময় খোলা বাজারে বিক্রি করতে থাকেন।তার অদম্য ইচছা শক্তি এবং শ্রমের ফসল এই নার্সারি শিল্প ধীরে ধীরে প্রসারিত হতে থাকে।তার সামাজিক বনায়ন
সৃষ্টির প্রসার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।বিভিন্ন জাতের ফল ফুল ঔষধি গাছের বিক্রয় লব্দ অর্থ দিয়ে এই বৃক্ষ প্রেমী লুৎফর রহমান আজ ৭ বিঘা জমি কিনে এই নার্সারি শিল্পের প্রসার ঘটিয়েছেন। গত ৯ মার্চ,২০২৬ খ্রি. দৈনিক জনতার দেশ পোর্টালের সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খান এর সাথে তার অতীতের কষ্টের জীবন এবং বর্তমান সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে জানান, এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যেতো,অর্থাভাবে তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন নি। কিন্ত আজ এই শিল্প তাকে অর্থ সম্মান,যশ,খ্যাতি সবই এনে দিয়েছে। তিনি জাতীয় বৃক্ষ মেলায় পরপর ৩ বার বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ নার্সারি শিল্পের উদ্যোক্তা হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত ধার্মিক ও পরহেজগার। দৈনিক জনতার দেশ এর সাথে একান্ত আলাপ চারিতায় তিনি জানিয়েছেন,তার ১ ছেলে এবং ২ মেয়ে সহ তিনজনকেই কোরআনের হাফেজ সহ মাওলানা বানিয়েছেন।নিজে আকবরী হজ্জ্ব পালন করেছেন। সবই এই নার্সারি শিল্পের আয় থেকে রহমত,বরকতের ফসল।
এখন তার নার্সারিতে বিশ্বের বিরল প্রজাতির ফলজ,বনজ এবং ঔষধি গাছের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক চারা রয়েছে। রকমভেদে এমন ও চারা আছে যার মূল্য লাখ টাকার কাছাকাছি।তা ছাড়া ৭ বিঘা জমি জুড়ে রয়েছে কয়েক লক্ষাধিক বাহারি ফুল,ফল,ঔষধি গাছের ছড়াছড়ি।বাগানের প্রবেশ দ্বারে ঢুকতেই হরেক রকমের বাগান বিলাস আপনাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে ভিতরে নিয়ে যাবে। মনে হবে যেন আপনি ব্যবিলনের শূন্যোদ্ধানে পরিভ্রমন করছেন। একটি অজ পাড়া গাঁয়ে এমন নান্দনিক দৃশ্য কল্পনাতীত। এই শিল্পের প্রসারে সরকারের কী করণীয় বলে মনে করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জনতার দেশ কে জানান,১।পরিবেশ সুরক্ষায় এবং সামাজিক বনায়ন তৈরিতে নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তা কল্পে চারাগাছ গুলো বাজারজাত করণে খামারিদের প্রতি
সরকারের নমনীয় নীতি প্রদর্শন করতে হবে।
২। খোলা হাঁট বাজারে এ গুলি বিক্রির ক্ষেত্রে বিট প্রতি খাজনা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে।
৩। খামারিদের প্রতি বাজার ইজারাদারদের অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধে স্হানীয় জেলা প্রশাসক কর্তৃক একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
৪। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, পরিবেশ অধিদপ্তর, বনজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাৎসরিক প্রণোদনা হিসাবে প্রতিটি খামারিকে বিনা শর্তে ২% সুদে চাহিদা মোতাবেক ব্যাংক ঋণের ব্যবস্হা করে দিতে হবে।
৪। প্রতিটি সরকারি বৃক্ষ মেলায় বিনা শর্তে কৃষি প্রদর্শণীতে অংশ গ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।
৫।প্রতিটি এলাকায় নার্সারি শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট খামারিদের বিপন্ন প্রজাতির ফুল,ফল,ঔষধি গাছ সহ বিরল প্রজাতির চারাগাছ উদ্ভাবনে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তত্বাবধানে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা নিশ্চিত করতে হবে।
৬। শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা নির্বাচিত করে সরকারি ভাবে স্বীকৃতির পাশাপাশি প্রয়োজনে তাদের কে দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক বৃক্ষ মেলা প্রদর্শনীতে অংশ গ্রহণের সুযোগ তৈরিতে সরকারকে নমনীয় নীতি চালু করতে হবে।
৭। পরিবেশ -প্রতিবেশ সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রতিটি মানুষ কে নিজেদের বসত ভিটায় কিংবা সরকারি পতিত জায়গায় অন্তত: পক্ষে ৫টি গাছ লাগানো বাধ্যতা মূলক করতে হবে। চারা গাছ ক্রয়ে অক্ষম ব্যক্তিদের কে সরকারি খরচে বিতরণের ব্যবস্হা নিশ্চিত করতে হবে।
এই নীতিমালা গুলো বাস্তবায়িত হলে দেশে একটি প্রাকৃতিক সবুজ বনায়নের আবাসভূমি তৈরি হবে। প্রচুর অক্সিজেন তৈরি হবে।প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভূমিকম্প, সাইক্লোন, টর্নেডো, ঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে আমাদের আবাস ভূমি সুরক্ষিত হবে,যার কোন বিকল্প নেই।
পরিবেশ -প্রতিবেশ সুরক্ষায় লুৎফর রহমান সরকার এর
এই মহতি উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির একটি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে,শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের মধ্যে নার্সারি শিল্প প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভুমিকা নিশ্চিত করবে এমনটিই প্রত্যাশা দেশবাসীর। দেশে এমন হাজারো- লাখো লুৎফর রহমান তৈরি হয়ে ফুল ফলের বাগানে সবুজ বৃক্ষে ভরে তুলবে আমাদের আবাসভূমি সোনার বাংলাদেশ কে।দৈনিক জনতার দেশ পরিবারের পক্ষ থেকে জাতীয় বৃক্ষ প্রেমী লুৎফর রহমান সরকার কে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
বি.দ্র. ছবিতে দৈনিক জনতার দেশ ও জনতার দেশ টিভির সম্পাদক -প্রকাশক মাহবুবুর রহমান খান এর সাথে একই ফ্রেমে লুৎফর রহমান সরকার।