ক্রাইম রিপোর্টার ( জনতার দেশ):
প্রলয় কুমার জোয়ারদার, বাংলাদেশ পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, তার কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে গুরুতর অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছেন। বিশেষ করে নরসিংদীতে পুলিশ সুপার হিসেবে এবং পরবর্তীতে ঢাকায় এআইজি (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্সপেক্টর জেনারেল) থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিচে তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগগুলো তুলে ধরা হলো:
ছাত্র আন্দোলনে গুলির নির্দেশদাতা:
অভিযোগ রয়েছে যে, প্রলয় কুমার জোয়ারদার ঢাকায় এআইজি থাকাকালীন ছাত্র বিক্ষোভের সময় গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার ফলে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এই ধরনের নির্দেশ যদি প্রমাণিত হয়, তবে এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি হেলিকপ্টার থেকে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি RAB-এর সরাসরি গুলি চালানো এবং অন্যান্য জোরপূর্বক পদক্ষেপের সংবাদ প্রচার বন্ধ করার জন্য গণমাধ্যমকেও হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নরসিংদী থেকে কোটি কোটি টাকা লুট:
নরসিংদীর পুলিশ সুপার থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি বড় উদাহরণ।
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের গডফাদার:
অভিযোগকারীরা তাকে নরসিংদীতে কর্মরত “সন্ত্রাসের গডফাদার” এবং “চাঁদাবাজ পুলিশ সুপার” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই ধরনের অভিযোগ পুলিশের মতো একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়।
অবৈধ নিয়োগ ও দুর্নীতি:
বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, প্রলয় কুমার জোয়ারদার বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পদোন্নতি ও পোস্টিংয়ের অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির সিন্ডিকেটের মূল নেতা হওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যেখানে তিনি বিপুল অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করেছেন। এছাড়াও পুলিশ সদর দফতরে আইসিটি শাখায় থাকাকালী ব্যাপক অনিয়ম করেছেন বলে জানা গেছে।
বি.দ্র. তথ্য সূত্র: বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট। অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।