মাহবুবুর রহমান খান:
নরসিংদীর রায়পুরাতে পুলিশের তালিকা ভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী অপু (৪২) কে রাতের আঁধারে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি সকালে রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের বশির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ‘স’ মিল কারখানা থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আহমেদুল কবির অপু উপজেলার মরজাল গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। রায়পুরা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা অস্ত্র ও মাদকসহ মোট ৯টি মামলা চলমান রয়েছে। স্থানীয় এলাকা এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে,১৯জুলাই ২০২৪, নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনার দিন বন্দি অবস্থায় পালিয়ে যান অপু। পলাতক অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলে জানা গেছে।
অপুর পারিবারিক সূত্রেজানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হন অপু। এ সময় তার সঙ্গে আর ৫/৬ জন সহযোগী ছিল। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেন নি। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী বিদ্যালয় সংলগ্ন ‘স’ মিলে একটি অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনার স্হল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি একটি রক্তাক্ত ছুরি ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আধাঁরে কোন এক সময় দুর্বৃত্তরা অপুকে ওই ‘স’ নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহতের মাথায় একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঐদিন ঘটনার রাতে ‘স’মিলের পাশে হিন্দু পাড়ায় কীর্তন অনুষ্ঠান চলছিল বলে জানা গেছে।
অপূর বোন মিতা জানান, সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মরদেহের ছবি দেখে তিনি তার ভাইকে সনাক্ত করেন। তবে কে বা কারা তাকে খুন করেছে সেই ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোন তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।
এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমানের সাথে ঘটনার সত্যতা জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি ‘দৈনিক জনতার দেশ’ কে জানান,আহমেদুল কবির পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা চলমান রয়েছে। তিনি আরো জানান,গত ১৯ জুলাই, ২০২৪ নরসিংদী জেলা কারাগারে (ভেলানগর জেলখানা) হামলা হলে অপু কারাগার থেকে অস্ত্র লুট করে পালিয়ে যান বলে শুনেছি।আমি রায়পুরা থানায় নতুন জয়েন করেছি।তার ক্রাইম হিস্ট্রি থেকে জানতে পারি,সন্ত্রাসী অপু একটি হত্যা মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে ছিল।তার বিরুদ্ধে ১টি হত্যা মামলা বিচারাধীন এবং ২টি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা ছিল।কে বা কারা তাকে খুন করেছে পুলিশ সেই রহস্য উদঘাটনে নিবীড় ভাবে কাজ করছে।তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল,কারাগার থেকে পালিয়ে আসা একজন দুর্ধর্ষ ক্রিমিনাল কীভাবে আত্মগোপনে থেকে এলাকাতে নিয়মিত যাতায়াত করতো? এই দীর্ঘ সময়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতারে উদ্যোগী হয়নি কেন? এ প্রসংগে ওসি মুজিব এই প্রতিনিধিকে জানান, আমি রায়পুরাতে জয়েন করার পর তাকে গ্রেফতার করতে দু’বার অপারেশন চালিয়েছি।কিন্ত এলাকাটি পাহাড়ি অবকাঠামো হওয়ায় গাছপালা, বাগানের ভিতর দিয়ে উল্টা পথে সরু রাস্তা দিয়ে পাশে শিবপুর এলাকায় চলে যেতো।এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্হা ঝুঁকি পূর্ণ থাকায় তাকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়নি। এটা কি রাজনৈতিক হত্যা বলে মনে করেন? তিনি বিনয়ের সাথে জানান,সন্ত্রাসীর আবার রাজনৈতিক পরিচয় কি?এই হত্যাকাণ্ড কে রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত করার কোন সুযোগ নেই। তারপর মরদেহ আপনি কীভাবে দেখেছেন এখন কোন অবস্হায় আছে জানতে চাইলে তিনি জানান,নিহতের মাথায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি,মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদক-
সম্পাদক – প্রকাশক, ‘ দৈনিক জনতার দেশ’।