শিরোনাম :
বিখ্যাত গিটারিস্ট কাজী অনিরুদ্ধ এবং কিছু স্মৃতিচারণ। ডিসি অফিস এলাকা থেকে ২২ মামলার আসামি ‘মাদক সম্রাট’ জসিম গ্রেপ্তার। নরসিংদীতে আলোচিত মিজান মিয়া ওরফে হৃদয় হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার। সেহরির পরপরই সং/ঘ/র্ষে জড়ালো দুই গ্রুপ, বাবা ছেলেসহ প্রাণ গেল ৪ জনের। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ক্যাপ্টেন এহতেশাম এবং তার চলচ্চিত্র জীবন। বিখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় এর অজানা তথ্য। শিক্ষা মন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের শিক্ষাগত যোগ্যতা। মন্ত্রী পরিবারের সন্তান এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামানত হারালেন। বাউফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত। দুই ভাই এক সংগে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে।
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন

জিয়া পরিবারের চার দশকের ঠিকানা হারানোর পেছনে তৎকালীন সেনাপ্রধান মুবীন।

Reporter Name / ১১৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
The Chief of Army Staff, General Deepak Kapoor receiving the Chief of the Army Staff (COAS), Bangladesh, General Mohd Abdul Mubeen, in New Delhi on March 15, 2010.

ক্রাইম রিপোর্টার:

প্রায় চার দশক ধরে বাস করার পর ক্যান্টনমেন্টের শহীদ মঈনুল সড়কের বাড়ি ছাড়তে হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে। ২০১০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রয়াত স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ছেড়ে আসার পর খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছিলেন তাকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদে উঠে পড়ে লেগেছিল। সেসময় সেনাবাহিনী প্রধান ছিলেন জেনারেল মো. আব্দুল মুবীন। অভিযোগ রয়েছে, খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদে আব্দুল মুবীন ছিলেন অন্যতম কারিগর। তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পরিকল্পনায় তিনি খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়া করতে সকল আয়োজন করেন।

একইসঙ্গে ২০১১ সালে বয়সের কারণ দেখিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরিয়ে দেয় শেখ হাসিনা সরকার। আদালতে গিয়েও ব্যার্থ হন ইউনূস। শুধু গ্রামীণ ব্যাংকই নয়, এর সহযোগী অন্য প্রতিষ্ঠানেও কর্তৃত্ব হারাতে হয় ইউনূসকে।

অভিযোগ আছে, খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়িছাড়া এবং ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকছাড়া করতে শেখ হাসিনা সরকারকে সব রকমের সমর্থন দেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মুবীন। তিনি নিরপেক্ষ থাকলে এই দুটি ঘটনা সম্ভব হতো না। ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন ইউনূস। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম তখন থেকে বিশ্বব্যাপী ইউনূসকে পরিচিত করে তোলে। তার খ্যাতি হয় গরিবের ব্যাংকার নামে। দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখায় ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক ও ইউনূস যৌথভাবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়।

অনেকেই মনে করেন, ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় ইউনূসের দল গঠনের চেষ্টা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সম্পর্ক বৈরী করে তোলে। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের দুই বছর পরই ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে উৎখাত করা হয়। অন্যদিকে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার সরকার খলেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদে উঠেপড়ে লাগে। সেসময় সেনাপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল মুবীন আওয়ামী লীগ সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে খালেদা জিয়াকে বাড়িছাড়া করতে সকল আয়োজন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে

প্রায় চার দশক ধরে সেনানিবাসের শহীদ মইনুল সড়কের বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর প্রয়াত স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি-বিজড়িত ওই বাড়ি ছেড়ে আসার পর খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছিলেন, তাকে ‘এক কাপড়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। সেনানিবাসের বাড়ি ছেড়ে আসার পর বিএনপি চেয়ারপারসনকে কান্নারত দেখেছিল দেশের মানুষ। ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর নাটকীয় নানা পরিস্থিতির পর বিকালের দিকে খালেদা জিয়া অশ্রুনয়নে ওই বাড়ি ছেড়ে আসেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে জিয়াউর রহমান পরিবার নিয়ে শহীদ মইনুল সড়কের ৬ নম্বর ওই বাড়িতে ওঠেন। পরে সেনাপ্রধান, সামরিক আইন প্রশাসক এবং রাষ্ট্রপতি হয়েও ওই বাড়িতেই ছিলেন জিয়াউর রহমান।

১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়া চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যূত্থানে নিহ’ত হন। ওই বছরের ১২ জুন তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার সেনানিবাসের ওই বাড়িটি খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেন। ইজারা দলিলের মাধ্যমে তাকে সরকারি ওই সম্পত্তি দেওয়া হয়। ওই বাড়িতেই বাস করছিলেন খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও ক্যান্টনমেন্টের ওই বাড়িতেই থাকতেন বিএনপিনেত্রী।
২০১০ সালে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে আসার দিনই সন্ধ্যায় গুলশানের কার্যালয়ে কান্নাজনিত কন্ঠে সংবাদ সম্মেলনে ৯ মিনিট বক্তব্য দেন বিএনপি

চেয়ারপারসন। আর পুরোটা সময় তিনি রুমালে চোখ বুজে কাঁদছিলেন। সেসময় দলনেত্রীর পাশাপাশি বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদেরও কাঁদতে দেখা যায়।
খালেদা জিয়া বলেছিলেন, তার বেড রুমের দরজা ভেঙে টেনে-হিঁচড়ে তার কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির আগেই তাকে ‘জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে উচ্চ আদালতের সম্মানকে সরকার পদদলিত করছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

এরপর তিন মেয়াদে শেখ হাসিনার শাসনামলে আর সেনানিবাসে যাননি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ক্ষমতার পালাবদলের পর গতবছর এবং চলতি বছরের নভেম্বরে সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন খালেদা জিয়া। অনুষ্ঠানে তার পাশে ছিলেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

জানা গেছে, সেই সাবেক সেনাপ্রধান আব্দুল মুবীন এখন আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ইউনাইটেড গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান মালিকপক্ষ হাসান মাহমুদ রাজার সঙ্গে আব্দুল মুবীনের বেয়াই সম্পর্ক। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মুবীন নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে নানান কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে তাকে প্রতিনিয়ত সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুর ঘুর করতে দেখা গেছে। এমনকি ইউনাইটেড গ্রুপের নানা অনিয়ম, দুর্নী•তি এবং অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত আব্দুল মুবীন।

সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকর্তাকে আইনের আওয়ায় আনা হলেও খালেদা জিয়াকে গৃহহারা করা, ২০১৪ সালের বিতর্কিত কালো নির্বাচন সংগঠিত করা এবং বিডিআরের পিলখানা হত্যাকান্ড ধামাচাপা দেয়ার অন্যতম কুশীলব মুবিনকে এখনও আইনের আওতায় না আনায় জনমনে নানা সংশয় দেখা দিয়েছে৷

তথ্যসূত্র:

# জিয়া সাইবার ফোর্স।

#আমরা বিএনপি  পরিবার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category