স্টাফ রিপোর্টার :
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইন অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এমনকি নির্বাচন কমিশনও দলটিকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে।গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গে বৈঠকে এমনটা জানান তিনি।গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট এবং বিমান ও সামুদ্রিক খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। প্রধানউপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক এবং ভোটার উপস্থিতি হবে ব্যাপক। স্বৈর শাসনের ১৬ বছরে বিকৃত তিনটি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ না পাওয়া কোটি কোটি যুবক এবার প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই চার্টার বাংলাদেশের জন্য এক নতুন সূচনা হবে। গত বছরের জুলাই -আগস্ট এর ঐতিহাসিক আন্দোলনে লাখ লাখ মানুষের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে। ব্রিটিশ মন্ত্রী চ্যাপম্যান ড. ইউনুস এর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে জুলাই সনদ সম্পর্কিত চলমান সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি অভিবাসীদের ব্রিটিশ আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনেরউপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ডক্টর ইউনুস বলেন, তার সরকার নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ এবংবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে আরো বেশি বাংলাদেশিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিতে উৎসাহিত করবে। দুই নেতা রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশে আশ্রয় শিবিরে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করেন।বৈঠকে ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যে বাণিজ্য ও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলাপ হয় বাংলাদেশ উপকূলীয় ও সমুদ্র সংক্রান্ত গবেষণার জন্য একটি ব্রিটিশ গবেষণা জাহাজ কিনছে। চ্যাপম্যান দুই দেশের বিমান খাতের সম্পর্ক শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এয়ারবাস ইন্টারন্যাশনাল এর প্রধান শিগগিরি বাংলাদেশে সফরে আসবেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান,এস ডিজি কো-অর্ডিনেটর লামিয়া মোরশেদ এবং ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারা কুক।
তথ্যসূত্র ও ছবি ক্রেডিট : দৈনিক প্রথম আলো।◊