স্টাফ রিপোর্টার :
জুলাই বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদীর উপর গুলি বর্ষণের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের এই মুখপাত্রের ওপর হামলার ঘটনায় আততায়ী হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ক্যাডার ফয়সাল করিম মাসুদ ( ছদ্মনাম দাউদ বিন ফয়সাল)।তাকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা ৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এ জুলাই বিপ্লবীর কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরেছে। তবে হাদি এখনো সংখ্যা মুক্ত নন বলে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে।
গতকাল শনিবার মেডিকেল বোর্ড প্রদানের বরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার আব্দুল আহাদ এ তথ্য জানান।আজ রোববার সকাল ৯ টায় আবারো মেডিকেল বোর্ড বসার কথার রয়েছে বলে জানান তিনি।
ডাক্তার আহাদ জানান হাদীর মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যেহেতু সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপ সম্পন্ন হয়েছে তাই বর্তমানে তাকে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রাখা হয়েছে। প্রোটেকশন অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সব সাপোর্ট চালু থাকবে। শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে পুনরায় ব্রেনের সিটি স্ক্যান করা হতে পারে।
হাদীর ফুসফুসে ইনজুরি বিদ্যমান রয়েছে উল্লেখ করে এর চিকিৎসক বলেন চেস্ট ড্রেন টিউব দিয়ে অল্প পরিমাণ রক্ত নির্গত হওয়ায় তা আপাতত চালু রাখা হয়েছে।ফুসফুসের সংক্রমন ও এআরডিএস প্রতিরোধের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে সাপোর্ট অব্যাহত রাখা হবে। বর্তমানে কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরে এসেছে। এটি বজায় রাখার জন্য পূর্ব নির্ধারিত ফ্লুইড ব্যালেন্স যথাযথভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে। তার অবস্থা এখনো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে ভীড় না করার অনুরোধ জানিয়ে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।পাশাপাশি হাদির অবস্থা নিয়ে অনুমান নির্ভর তথ্য ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তারা।গত শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে রিকশা দিয়ে গন্তব্যে ফিরছিলেন ওসমান হাদী। রাজধানী বিজয় নগরের কালভার্ট এলাকায় পৌঁছলে মোটর সাইকেলে আসা সন্ত্রাসীরা পেছন থেকে খুব কাছে এসে ওসমান হাদির মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তার মাথার ডান পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তারপর হাদির পরিবারের সিদ্ধান্তে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে শুক্রবার রাতে সাড়ে সাতটার দিকে কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন এই জুলাই বিপ্লবী।