মাহবুবুর রহমান খান: ইদানিং নরসিংদির রায়পুরা উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৮ টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংকট
চরম আকার ধারণ করেছে। গত ৩/৪ মাস যাবৎ এই
জনদুর্ভোগের কবলে লক্ষাধিক মানুষ। ২/১ দিন পর পর
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে
জানিয়ে দেয়া হচ্ছ আগামীকাল সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকিবে।সাথে
সাথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত নির্দেশনায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ
( Rural Electricity Authority)দুঃখ ও প্রকাশ
করছেন। জন ভোগান্তিপূর্ণ ৮ টি ইউনিয়ন গুলো হচ্ছে
১।আমিরগঞ্জ ২। আদিয়াবাদ ৩। ডৌকারচর ৪।হাইরমারা
৫।পলাশতলী ( আংশিক) ৬। চরশুবুদ্ধি আর নদী বেষ্টিত
দুটি দুর্গম চরাঞ্চলবর্তী ইউনিয়ন হচ্ছে ৭। চরআড়ালিয়া
ও ৮। নিলক্ষা।
এই বিদ্যুৎ সংকটের কারণ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে,
নরসিংদীর আরশিনগর থেকে রায়পুরা পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্হ
করার কারণে রাস্তার মাঝখানের বড় বড় গাছপালা কাটা
এবং বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের কারণে এই জনদুর্ভোগ
সৃষ্টি হয়েছে।কারণ বিদ্যুৎ সংযোগ বহাল রেখে এই কাজ
গুলো করা যাচ্ছেনা। এটা বিদ্যুৎ ঘাটতি কিংবা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিজস্ব কোন দিক নির্দেশনা নহে।
যদিও বা এই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে মিল ফ্যাক্টরীর
উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার কারণে টেক্সটাইল
পাওয়ার লুম ইন্ডাস্ট্রি সহ স মিলের মালিকগণ অনেক
ক্ষতিগস্হ হচ্ছেন।সরকার ও কোটি কোটি টাকা রাজস্ব
আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর এই প্রচণ্ড গরমে তাপদাহ তো আছেই। যেহেতু বিষয় টি বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা কৃত নহে তাই বৃহৎ স্বার্থে সাধারণ ক্ষমা
করাই যেতে পারে।
এ বিষয়ে এই অঞ্চলের দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারী জোনাল ম্যানেজার মো: আবদুল কাইয়ূম এর সাথে আজ ১২ আগস্ট সকাল ১১ টায় চরশুবুদ্ধি সাব জোনাল অফিসে
এক সৌজন্য সাক্ষাতে বর্তমানে ঘণ ঘণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার
কারণ জানতে চাইলে তিনি দৈনিক জনতার দেশ কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান,রাস্তা প্রশস্হ করার কারণে রাস্তার মাঝখানের গাছপালা কাটা সহ বৈদ্যতিক
খুঁটি গুলো অন্যত্র সরাতে চলমান বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়।বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে এই কাজটি
করা সম্ভব নয় বিধায় এই ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
চলমান সংকট নিরসনে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন জানতে
চাইলে তিনি জানান,আমাদেন কার্য পরিধির তুলনায় জনবল যথেষ্ট নয়।তারপরও অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে
আমরা খুঁটি সরানোর কাজ টি সম্পন্ন করবো ইনশাআল্লাহ। এ ব্যাপারে আমাদের কাজে কোন অবহেলা নেই।কারিগরি বিভাগের দক্ষ লাইনম্যানরা দিন-রাত কাজ
করে যাচ্ছে।বর্তমানে চরশুবুদ্ধি সাব- জোনাল অফিসের আওতাধীনে বর্তমান গ্রাহকের সংখ্যা জানতে চাইলে
তিনি অতি বিনয়ের সাথে জানান,বর্তমানে আমাদের
গ্রাহক সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দিন দিন
গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে
আপনার আগামী দিনের পরিকল্পনা কি? এ বিষয়ে তিনি
জানান,বর্তমানে আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকায় একটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন রয়েছে।
সেখানে থেকেই পশ্চিমাঞ্চলের ৮ টি ইউনিয়নের বিদ্যুত
চাহিদা মেটানো হচ্ছে। আর পরিপূর্ণ ভাবে বিদ্যুত চাহিদার
ঘাটতি পূরণে আগামীতে আরো একটি সাব স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।আর সেটি হাইরমারা
অথবা তার আশে পাশে নির্মিত হলে দুর্গম চরাঞ্চল
গুলো ও সহজে কভার দেয়া যাবে।আমরা জমি দেখার
কাজ শুরু করেছি। উপযুক্ত স্হান পেলে জমি ক্রয় করে
সাব স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু করবো।
তার সাথে আলাপ চারিতায় তার বিনয়ী স্বভাবের কিছ
দৃষ্টান্ত তাৎক্ষণিক উপলব্ধি করেছি। কিছু গ্রাহকের অভিযোগ আমলে নিয়ে সংগে সংগে তিনি সমাধান করে
দিয়েছেন। কথা প্রসংগে জানতে পারি এই সাব জোনাল
ম্যানেজার আবদুল কাইয়ূম চরশুবুদ্ধি তে আসার আগে
তিনি রায়পুরাতে কর্মরত ছিলেন।গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
তারিখে তিনি চরশুবুদ্ধিতে Assistant zonal Manager হিসাবে যোগদান করেছেন।
তিনি এই সাব- জোনাল অফিস টিকে একটি পূর্ণাঙ্গ
জোনাল অফিস হিসাবে রূপ দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। আবদুল কাইয়ূম তিনি তাঁর সততা আর
কর্তব্যনিষ্ঠার মাধ্যমে তার দায়িত্ববোধ কে আরো প্রসারিত
করে উন্নত গ্রাহক পরিষেবা নিশ্চিত করবেন দৈনিক দেশ
ও জনতার দেশ টিভি এর পক্ষ থেকে এমনটিই প্রত্যাশা।