গাজী শাহনেওয়াজ :রাতের ভোটের কারিগর কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ভোটের প্রতি আস্থা তলানিতে গিয়েছিল। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের মাধ্যমে অপচয় করা হয় রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি হুদার আমলে ৪২ কোটি টাকায় একটি বিশেষ যন্ত্র বা পাসওয়ার্ড মেশিন কেনা হয়েছিল যা কোন কাজে আসেনি। এখন সেটি অযত্ন অবহেলায় ভাঙারিতে পরিণত হয়েছে।ভোট গ্রহনের কাজে ব্যবহারের জন্য কেনা যন্ত্রটির নাম পাসওয়ার্ড বা স্মার্ট কার্ড ফ্রি পার্সোনালাইজেশন পারসোনালাইজেশন সিস্টেম এন্ড মেশিন। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সেটি কিনেছিল বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি বিএমটিএফ।
নির্বাচন কমিশনের ইসি অর্থ বরাদ্দ ছাড়া এ যন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা ছিল না। বিপ্লবী কমিশনের কর্মকর্তারা এর সম্পর্কে অন্ধকারে আছেন এমন কি তারা স্বীকার করেন, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়কেনা মেশিনটি ইসির
জন্যএখন বিষ ফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন( ইভিএম) প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করেছে এ এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন। এর আগে মেয়াদ না বাড়ানো এক প্রকল্পের জিনিসপত্র থেকে সব যন্ত্রাংশ বুঝে নেয়া হয়।পাশাপাশি সাড়ে ৪২ কোটি টাকার মেশিনটি বিএমটিএফ থেকে বুঝে নেন বর্তমান
ইসি।কিন্তু এসব যন্ত্রাংশের পেছনে মাসে মাসে বড় অংকের টাকা গচ্ছা দিচ্ছে সংস্থাটি। গুদাম ভাড়া নিয়ে মেশিনগুলো সংরক্ষণের পেছনে এর অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ইভিএমে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য কেনা দুর্লভ এই মেশিনের অবস্থা খুবই শোচনীয়। অরক্ষিত,অযত্নে আগারগাঁও এর নির্বাচন ভবনের বেজমেন্টে ফেলে রাখা হয়েছে।এর যন্ত্রাংশ মরিচা ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে এখন পরিত্যক্ত ঘোষণার অপেক্ষায় আছে। নতি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যন্ত্রটি চালানোর মত জনবল নেই ইসির। যারা এক্সপার্ট বা বিশেষজ্ঞ আছেন তারাও এ সম্পর্কে অজ্ঞ।এ কারণে টাকা উসুল করার জন্য অন্য কাজে এটি ব্যবহার করাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান অধিক মূল্যের এ মেশিন কার্যকর রাখার জনবল নেই। কিভাবে চালাতে হয় তাও কেউ জানে না। এটি চালানোর পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল বিটিএমএফ এর কব্জায়।তারা কি করেছে না করেছে আমরা কেউ জানি না। জানা গেছে তিনটি কাজে পাসওয়ার্ড মেশিন ব্যবহারের সুযোগ ছিল এর একটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট কার্ড আইসিসি বা আইসিসি কার্ড। ডিজিটাল কার্ড বা এসডি কার্ড এবং পুলিং কার্ড। যেকোনো ভোটে ইভিএম মেশিনে তথ্য লোড আনলোড এর কাজে ব্যবহার করা হতো। এ ব্যাপারে বক্তব্য দেয়ার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইলেকশন কমিশনের এক উপসচিব গণমাধ্যমকে জানান, একটি মেশিনের নতুন একই প্রকল্প হয়। দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশীকে ভোটার করার জন্য সর্বশেষ ইসির নেয়া প্রকল্পটির বরাদ্দ ৪৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা।ডিপিপি অনুমোদিত হলেও বড় কর্মযজ্ঞের এ প্রকল্পের ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। সেখানে যাচাই- বাছাই ছাড়াই ইভিএম এর কার্ড ম্যানেজমেন্ট মেশিনটি কেনাহয় সাড়ে ৪২ কোটি টাকায়। বলা যায় ওই টাকার পুরোটাই রাষ্ট্রের গচ্ছা।
তথসূত্র: দৈনিক আমার দেশ।