শিরোনাম :
দুই ভাই এক সংগে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে। ১১৪ পটুয়াখালী ৪ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য  এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভার সদস্য করার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ও সমকালীন রাজনৈতিক প্রসঙ্গ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে Alliance for Educational Society Development, Bangladesh এর স্বেচ্ছাসেবী ভূমিকা। বাউফলে বিএনপি জামায়াতের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত প্রায় অর্ধশত। পাসপোর্টের জন্য পঙ্গু বিদেশিনিকে বিয়ে করা কি প্রতারণা? কলাপাড়ার উন্নয়নে ৩৭ দফা প্রস্তাবনা।   পায়রা বন্দরকে আরও আধুনিকায়ন করা হবে…মিট দ্যা প্রেসে কেন্দ্রীয় নেতা  এবিএম মোশাররফ হোসেন। নেত্রকোনা কেন্দুয়ায় ধানের শীষের পক্ষে মাঠে কেন্দ্রীয় নবীন দল। বাউল গানের বরেণ্য শিল্পী কেন্দুয়ার সুনীল কর্মকার চলে গেলেন পরপারে। ট্রেনে প্রতিনিয়ত অনিয়ম দুর্নীতির কারণে সরকার কে বছরে কোটি কোটি টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে—তারিকুল ইসলাম,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (বাঞ্ছারামপুর)।
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন

মরমী শিল্পী ও জমিদার দেওয়ান হাছন রাজা চৌধুরী এবং তাঁর আধ্যাতিক দর্শন

Reporter Name / ১৫০ Time View
Update : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫

মাহবুবুর রহমান খান :সিলেটের এক ঐতিহাসিক ব্যক্তি দেওয়ান হাছন রাজা চৌধুরী। তিনি ছিলেন একজন বাঙালি মরমী কবি এবং বাউল শিল্পী। তিনি সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। হাছন রাজা জমিদার ছিলেন, কিন্তু পরে তিনি আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং গান রচনার মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করেন। তার গানগুলি আজও জনপ্রিয় এবং বাঙালি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে বিবেচিত।

জন্ম ও বংশ:
হাছন রাজার জন্ম ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর (৭ পৌষ ১২৬১) তৎকালীন সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ শহরের কাছে তেঘরিয়া গ্রামে।

তার পিতার নাম দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরী, যিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী জমিদার।
হাছন রাজা জমিদার পরিবারের সন্তান ছিলেন।

বাল্য ও যৌবনকাল:
হাছন রাজা জমিদার পরিবারের সন্তান হওয়ায় তখনকার অবস্থাপন্ন মুসলিম সমাজের প্রচলিত শিক্ষা লাভ করেন।
তিনি ফার্সি, বাংলা এবং আরবি ভাষায় শিক্ষা লাভ করেন।

বাল্যকালে হাছন ছিলেন খুবই সুদর্শন এবং বাবরি চুল, লম্বা বাহু, ধারালো নাক, জ্যোতির্ময় চোখ সহ এক সৌম্যদর্শন পুরুষ ছিলেন।
যৌবনে তিনি ছিলেন বিলাস ও আমোদ-প্রমোদে মত্ত।
বৈরাগ্য ও আধ্যাত্মিকতা:

জীবন সম্পর্কে গভীর বৈরাগ্যের সূচনা হয় যখন তিনি তার জমিদারির কাজকর্ম পরিদর্শনে গিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও পশু-পাখির মৃত্যু দেখেন।
কেউ কেউ বলেন, তিনি একটি আধ্যাত্মিক স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং এরপরই তার জীবনে পরিবর্তন আসে।

বৈরাগ্য গ্রহণ করার পর তিনি গান রচনা শুরু করেন।
সঙ্গীত সাধনা:

হাছন রাজা মূলত মরমী গান রচনার জন্য পরিচিত।
তার গানে বাউলীয় দর্শন ও আধ্যাত্মিকতার প্রভাব সুস্পষ্ট।

তিনি প্রায় ৫০০টিরও বেশি গান রচনা করেছেন।
তার গানগুলো “হাসন রাজা সমগ্র” নামক গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তার গান দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।

মৃত্যু:
হাসন রাজা ১৯২২ সালের ৬ ডিসেম্বর (২২ অগ্রহায়ণ ১৩২৯ বঙ্গাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন।
মূল্যায়ন:

হাসন রাজার গান ও দর্শন আজও বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তার গানগুলো লোকমুখে আজও গাওয়া হয় এবং বিভিন্ন মাধ্যমে (যেমন চলচ্চিত্র) উপস্থাপিত হয়েছে।
তাকে “মরমী কবি” এবং “বাউল শিল্পী” হিসেবে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।
তাঁর একটি বিখ্যাত গান,
লোকে বলে,বলেরে ঘর-বাড়ি
ভালা নাই আমার জানতো যদি
হাছন রাজা বাঁচবে কতদিন
বানাইতো দালান কোঠা করিয়া রঙিন লোকে বলে——
তথ্য সূত্র:
১। হাছন রাজা ও তাঁর আধ্যাতিক দর্শন
২।তাঁর জীবন, সংগীত নিয়ে
প্রকাশিত বিভিন্ন জার্ণাল ও পত্র-পত্রিকা।
৩।দৈনিক যায় যায় দিনে প্রকাশিত একটি নিবন্ধ।
৪।ছবি ক্রেডিট দৈনিক যায় যায় দিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category