শিরোনাম :
বাউফলে গণকবরস্থানে চাঁদা চেয়ে হামলা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবীর অভিযোগ। সাবেক ডিজিএফআই এর মহাপরিচালক জেনারেল আকবর এবং এস এসএফ প্রধান লে. জেনারেল মুজিবুর রহমান এখন ভারতে মোদির আশ্রয়ে। জিয়া পরিবারের চার দশকের ঠিকানা হারানোর পেছনে তৎকালীন সেনাপ্রধান মুবীন। আজ ১২ জানুয়ারি বিপ্লবী যোদ্ধা মাস্টার দা সূর্য সেন এর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলী। ইমাম খোমেনি ও আমেরিকার গুঁটিচাল। সম্রাট বাবরের পরাজয় এবং শানে শাহ ওবায়দুল্লাহ আহরার (রহঃ)। এক যে ছিল নেতা–দেবারতী মুখোপাধ্যায়। রাজনীতির রহস্য মানব সিরাজুল আলম খান। ভোলায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন। গ্যাস সংকটে জ্বলছে না চুলা।  সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি ভোক্তাগণ।  এটি ভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা —-ক্যাব সভাপতি। 
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন

ভোলায় গ্রাহকের স্বর্ণ ও টাকা নিয়ে ব্যবসায়ী উধাও, বিচ্ছেদ আতঙ্কে নারী গ্রাহকরা

Reporter Name / ৫১৭ Time View
Update : রবিবার, ১ জুন, ২০২৫

 

মোঃ আশিকুর রহমান সবুজ
স্টাফ রিপোর্টার ভোলা।

নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনদের বিপদে স্বামীর অজান্তে পরিবারের গচ্ছিত স্বর্ণ অলংকার বন্ধক রেখে টাকা দিয়েছে। কেউ পুত্রবধূর, কেউ বোনের বা ভাবির অলংকার না জানিয়ে বন্ধক রেখেছেন। সেই স্বর্ণসহ অসংখ্য মানুষের প্রায় ১০ কোটি টাকার স্বর্ণ ও টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার গুঞ্জন ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা জংশন বাজারের সুইটি জুয়েলার্সের মালিক সোহাগ বালার বিরুদ্ধে। শনিবার (৩১ মে) সকাল থেকে সোহাগের বন্ধ দোকানের সামনে ৫ শতাধিক নারী পুরুষ ভীড় জমিয়েছেন। অনেকে সোহাগের ইলিশা বটতলা বাড়ীতে গিয়ে ভীড় জমিয়েছেন। তবে সোহাগের বসতঘর তালাবদ্ধ করে লাপাত্তা হয়েছেন, সেই সাথে পরিবারের সদস্যরাও লাপাত্তা।

এদিকে সোহাগ গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে গেছে, নাকি অদৃশ্য কারণে আত্মগোপনে আছেন নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ। তবে ধারনা করা হচ্ছে দোকান এবং বাড়ী-ঘরে তালাবদ্ধ থাকায় পালিয়ে গেছে এমন গুঞ্জন উঠেছে। নারীদের শেষ গচ্ছিত সম্পদ হারিয়ে শত শত নারীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ইলিশা।

প্রিয়জন হারানোর মত শোক বইছে নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীদের মধ্যে। ঈদ উপলক্ষে নতুন বিবাহ অনুষ্ঠানে কেউ জামাইয়ের জন্য কেউ বা হবু বউয়ের জন্য স্বর্ণ বানাতে পুরো টাকা দিয়ে হতাশ। কেউ স্বামীকে না জানিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বিপদে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছে। আবার সে টাকা ফেরত দিয়েছে। দুইদিন পর স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পালিয়ে যাওয়ার খবরে বারবার অজ্ঞান হতে দেখা গেছে অনেক নারীদের। অনেকের স্বামী খবর জানতে পারলে সংসার বিচ্ছেদ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

হাসনুর নামের এক নারী জানান, আমার ৭ ভরি স্বর্ণ। আমার মেয়ের, ননদের স্বর্ণ এনে বন্ধক রেখেছি সব শেষ। জিনিস না নিলে আমার মাইয়ার (মেয়ে) সংসার থাকবে না। বারেক দফাদার বলেন, ঈদের পরে মেয়ের বিবাহ, তাই দেড় ভরি স্বর্ণ দিয়ে জিনিস বানাতে দিয়েছি। টাকাও পরিশোধ করেছি। এখন আমার সব শেষ। এছাড়া নাজমা, ফাতেমা, হাজেরা, খালেক, অদুদ মাঝিসহ অসংখ্য গ্রাহক বার বার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। তবে সোহাগের বাড়ীতে গিয়ে ও কেউ না থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভোলা জুয়েলার্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ নন্দী জানান. সোহাগের খবরটি আমি শুনেছি। সোহাগ আমাদের সংগঠনের সদস্য নয়, তবুও যেহেতু স্বর্ণ ব্যবসায়ী তার এ ঘটনা দুঃখজনক। আমাদের দীর্ঘ বছরের সুনামকে এ ধরনের কিছু অসাধু চক্রের জন্য বদনাম হচ্ছে। আমি প্রশাসনকে বলবো সোহাগকে খুঁজে বের করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীদের স্বর্ণ ও টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় যেন কোন নিরপরাধ সাধারণ ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য প্রশাসন ও বাজার কমিটির প্রতি অনুরোধ জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category