মন্তব্য প্রতিবেদনঃ একজন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী তরুনের
নাম সোহাগ।জীবন জীবীকার তাগিদে পুরাণ ঢাকায় মিটফোর্ড হাসপাতালের গলিতে ভাঙারি ব্যবসা করে সংসার চালাতো। স্ত্রী নেই,বছর দুয়েক আগে মারা গেছে।
এক কন্যা এক পুত্রের জনক ছিল সোহাগ মিয়া।মেয়ের
বয়স ১৩ এবং ছোট ছেলেটির বয়স ৮। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় যুবদলের নামধারী কতিপয় সন্ত্রাসি তাকে
দিন দুপুরে জনসম্মুখে রাস্তায় ফেলে পাথর মেরে কীভাবে নৃশংস ভাবে খুন করেছে তার ভিডিও ফুটেজ দেশ বাসী দেখেছেন।শত শত লোক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই
দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলেও কেউ প্রতিবাদ করে সোহাগ কে
বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।কোন রাজনৈতিক দলের চরিত্র
যদি এমন হয় যে,কাঙ্ক্ষিত চাঁদা না দিলে তাকে মেরে
ফেলা হবে তাহলে সাধারণ খেঁটে খাওয়া মানুষের জিবনের নিরাপত্তা কোথায়? এটার নাম কি রাজনীতি?
এটাই কি গণতন্ত্র? প্রিয় পাঠক- দেশবাসী আপনারা একটি বার ভেবে দেখুন তো পিতৃ-মাতৃহীন এই ইয়াতিম
দুটি সন্তানের ভবিষ্যৎ কি?তারা কার আশ্রয়ে বড় হবে?
তাদের ভরনপোষণের দায়ভার কে নেবে?সিসি ক্যামেরা
ফুটেজে দেখা গেছে ৮ জন সন্ত্রাসি সোহাগ কে রাস্তায়
ফেলে অনবরত একটা বড় পাথরের টুকরা দিয়ে ঢিল ছুড়ছে। এখন গ্রেফতার দেখা যাচ্ছে ০২ জন।বাকি ০৬
জন কোথায়? তারা কি আদৌ গ্রেফতার হবে নাকি রাজনৈতিক দলীয় বিবেচনায় অধরাই থেকে যাবে?
সারা দেশের মানুষ সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী
( ঢাকা,চট্রগ্রাম,রাজশাহী,জাহাঙ্গীরনগর,বুয়েট)তারা এই
হত্যা কাণ্ডের বিচার দাবিতে রাজপথে নেমেছে।গত শুক্রবার রাতে সেই দৃশ্য আমরা দেখতে পেয়েছি।
নির্বাচনে ক্ষমতায় যাবার আগে রাজনৈতিক দল গুলো
দেশবাসীকে কি বার্তা দিচ্ছেন তা বোধগম্য হচ্ছেনা।
লাখো জনতার প্রশ্ন ক্ষমতায় যাবার আগেই কোন রাজনৈতিক দল যদি চাঁদাবাজি করতে গিয়ে এভাবে
মানুষ কে রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে মেরে
ফেলতে পারে ক্ষমতায় গিয়ে কি করবে তাতো বুঝাই
যাচ্ছে।বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির উচিৎ
এবং করণীয় কাজটি টি হতে পারে দলের সুনাম ক্ষুন্ন করে দলের নাম ভাঙিয়ে,যারা চাঁদাবাজি লুটতরাজ করছে,ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনসাধারণের দুর্ভোগ
সৃষ্টি করছে তাদের কে দল থেকে বহিঃস্কার করে চুড়ান্ত
শাস্তি নিশ্চিত করা। তা না হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে
তাদের জনমতে ভাঁটা পড়বে এমন বার্তাই শোনা যাচ্ছে
মাঠ থেকে। দলমত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দলকেই
যে কোন অপরাধী, সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজ কে গ্রেফতার করত: পুলিশবাহিনীকে আন্তরিক ভাবে সহযোগিতার হাত
প্রসারিত করতে হবে।অপরাধী ছাড়িয়ে নিতে উপর মহল থেকে থানায় ফোন তদ্বির থেকে বিরত থাকতে হবে।
মনে রাখতে হবে সন্ত্রাসিদের কোন রাজনৈতিক দল নেই।
যখন যে দল ক্ষমতায় আসবে সেই দলের নাম ভাঙিয়ে
অপরাধ, অপকর্ম করবে। রাজনৈতিক নেতাদের মাঠে টিকে থাকতে সন্ত্রাসি বাহিনী লালন পালন করার মনমানসিকতার পরিবর্তন না হলে সমাজে শান্তি- শৃঙ্খলা
কোনদিন ফিরে আসবে না।সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে অন্যায় ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে খুন হওয়া সোহাগ
এর ২ অনাথ সন্তানের ভরণ পোষণ, লিখাপড়ার খরচের
দায়ভার এখন কে নেবে?জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নাকি সরকার?২০ কোটি জনতার কাছে এই প্রশ্নটি এখন
ঘুরপাক খাচ্ছে।
প্রতিবেদক: সম্পাদক-প্রকাশক
দৈনিক জনতার দেশ ও জনতার
দেশ টিভি।