শিরোনাম :
আহমদ ছফার বিয়ে ও শামীম শিকদার প্রসঙ্গ। যত চাপই আসুক ব্রিটেন কে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টেনে নেয়া যাবেনা —- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। একটি শিক্ষনীয় গল্প এবং আমাদের মানবিক চরিত্র। ৯ম পদাতিক ডিভিশনের নিষ্ক্রিয়তা: ৪ আগস্টের রহস্য ঘিরে নতুন প্রশ্ন। আধুনিক বিকৃত ইসলাম এবং মদিনা বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কারিকুলাম। জন দুর্ভোগের সূতিকাগার নরসিংদী পৌরসভা হরমুজ প্রণালী কে ইস্যু করে তেহরানের নতুন পরিকল্পনা ৩ শ্রেণীতে বিভক্ত দেশ। কূয়াকাটায় ছাত্র হিযবুল্লাহর উদ্যোগে দাখিল পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ। শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তৈরির আশঙ্কা, নিজ নিজ শর্তে ই*রান- আ*ম্রিকা দু’পক্ষই ছাড় দিতে নারাজ, সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি কোন পক্ষ। কুরআনের অপব্যাখ্যার অজুহাতে কুষ্টিয়ায় কথিত পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর কে পিটিয়ে হত্যার নেপথ্য কাহিনি।
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকা কে নাস্তানাবুদ করে এখনো টিকে আছে ইরান।

Reporter Name / ৬৩ Time View
Update : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬

জনতার দেশ ডেক্স রিপোর্ট :
অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কথার দুই পয়সার মূল্য এখন আর কেউ দিচ্ছে না।
একটু আগে এক প্রেস কনফারেন্সে ট্রা*ম্প আবার বলেছে—
“আমরা ইরানের সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনী ধ্বংস করে ফেলেছি। ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে।”
ট্রাম্প যখন এই প্রেস কনফারেন্স করছিল, ঠিক তখনই খবর আসে—
তেল আবিবে ইরানের দুটো মিসা*ইল সরাসরি আঘাত হেনেছে। সেখানে আগুন জ্বলছে।
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছে—
— “তুমি কি শুনেছ ব্যাপারটা?”
সে উত্তরে বলেছে—
— “না, শুনি নাই।”
সাংবাদিক আবার প্রশ্ন করেছে—
— “তুমি না এখনই বললে, ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে! তাহলে মিসাইল কীভাবে আঘাত হানলো?”
সে উত্তর না দিয়ে আবার বলেছে—
“ইরান শেষ হয়ে গেছে!”
তাহলে আজ সকালে যে দুবাই এয়ারপোর্টে ইরানের ড্রোন হামলা হয়েছে—
এরপর পৃথিবীর সব চাইতে ব্যস্ত এয়ারপোর্টগুলোর একটি যে অনেকটা সময় বন্ধ ছিল, কেন ছিল?
এর চাইতেও বড় কথা, আজকেই ট্রা*ম্প বলেছে—
“ন্যাটো দেশগুলো যদি হরমুজ প্রণালি খুলতে আমাদের সাহায্য না করে, তাহলে ওদের ভবিষ্যৎ খারাপ।”
মানে সে বলতে চাইছে— ইউরোপের দেশগুলোর ভবিষ্যৎ খারাপ হবে। অর্থাৎ ইউরোপকে রাশিয়ার ভয়ে থাকতে হবে।
এরপর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন—
“আমরা কোনভাবেই ইরান যুদ্ধে জড়াবো না। কারণ এই যুদ্ধ আমরা শুরু করি নাই।”
সব চাইতে মজার প্রশ্ন করেছে জার্মানির ডিফেন্স সেক্রেটারি। তিনি বলেছেন—
“আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশ। সংসদের অনুমতি ছাড়া কোন যুদ্ধে আমরা যেতে পারি না। হরমুজে আমরা যাচ্ছি না। তাছাড়া আমেরিকা নিজেই যেহেতু হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে পারছে না, আমরা সেখানে গিয়ে কীভাবে মুক্ত করবো?”
অর্থাৎ পশ্চিমা দেশগুলোর মাঝে বিভক্তি এখন চরমে পৌঁছেছে।
ইউক্রেনকে সাহায্য করার কথা বলে ট্রাম্প সাহায্য করা বন্ধ করে দিয়েছে। ইউক্রেন এখন সবার কাছে ভিক্ষা চাইছে। ট্রাম্প ইউরোপের দেশগুলোকে বলেছে— “ইউজলেস!”
এখন আবার সেই ইউরোপের সাহায্য চাইছে!
তা, ইউরোপ কোন দুঃখে আমেরিকাকে এখন সাহায্য করবে?
ওরা বুঝে গিয়েছে— আমেরিকা সবাইকে বিপদে ফেলে রেখে চলে যায়। তাই এবার আর আমেরিকার সাথে ওরা নেই।
এবার অসভ্য-বর্বর আরব দেশগুলো বুঝলেই হয়।
ন্যাটোর কাছ থেকে সাহায্য না পেয়ে ট্রা*ম্পের অবস্থা এখন প্রায় পাগলপ্রায়।
ওকে একটু আগে প্রশ্ন করা হয়েছে—
— “এই যুদ্ধে হেরে গেলে ইজরাইল কি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে?”
সে বলেছে—
— “প্রশ্নই আসে না।”
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আজও এক প্রেস কনফারেন্সে বলেছে—
“ট্রাম্প এই নিয়ে ১০ বার বিজয় ঘোষণা করেছে। ওর কথার কোন মূল্য আমাদের কাছে নাই। আমরা এখন এই যুদ্ধে জয়ী হবার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
এই যুদ্ধে ইরান জিতবে কিনা জানি না। তবে ওরা যে পরাজিত হবে না— এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
আমেরিকার সেনাবাহিনীর সাবেক কর্নেল ডেভিস আজ তাঁর নিজের চ্যানেলে বলছিলেন—
“দুই কোরিয়ার যুদ্ধে আমেরিকা উত্তর কোরিয়ার রাজধানী শহরকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। সেখানে দুটো বিল্ডিং ছাড়া কিছু অবশিষ্ট ছিল না। তাতে কি কিছু হয়েছে? উত্তর কোরিয়ার সরকারও টিকে গেছে, দেশটাও টিকে আছে।”
এরপর তিনি বলেছেন—
“এত পেছনে যেতে হবে না। ছোট্ট একটা জায়গা প্যালেস্টাইনের গাজাকে ইজরাইলিরা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এরপর আমরা কী দেখলাম? জায়গাটা এখনও হামাস*ই শাসন করছে। ওরাও টিকে আছে।”
সব চাইতে মজার বিষয়টা তিনি বলেছেন সব শেষে—
“আমেরিকা ২০ বছর আফগানিস্তানে ছিল তালেবানদের উৎখাত করতে। ২০ বছর পর ওই তালেবানের হাতেই ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছে।”
অর্থাৎ তিনি যেটা বলতে চেয়েছেন, সেটা হচ্ছে—
ইরানের মত বিশাল দেশ; যারা শুধু ভূমিতেই বিশাল না, জনসংখ্যাতেও বিশাল— এমন দেশের সরকার আর দেশকে পরাজিত করা প্রায় অসম্ভব।
বো*মা মেরে উত্তর কোরিয়ার মত দেশটা জ্বালিয়ে দেয়ার পরও সেটা সম্ভব হবে না।
আর উত্তর কোরিয়া তো ইরানের চাইতে প্রায় ১৪ গুণ ছোট একটা দেশ।
পুরো পৃথিবীর অনেক দেশ এটা বুঝে গিয়েছে। বুঝতে পারছে না সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা।
আপনাদের একটা তথ্য জানিয়ে রাখি—
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিল; কারণ তারা নিজেদের কোর (ইংল্যান্ড) এর চাইতে পেরিফেরি (কলোনিগুলোতে) বেশি নজর দিয়েছিল।
ওই সময় আমেরিকা চুপচাপ বসে ছিল।
ঠিক যখন ব্রিটিশদের সাম্রাজ্য ভেঙে যেতে থাকে, তখনই আমেরিকার সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করতে শুরু করে।
এবারের যুদ্ধে চীনকে দেখছি চুপচাপ বসে বসে দেখছে। নিজেদের জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে আমেরিকার রণতরী, এফ-১৫ বিমান থেকে শুরু করে সৈন্যরা বডি ব্যাগ হয়ে ফেরত যাচ্ছে।
অর্থাৎ আমেরিকাও নিজের দেশ ছেড়ে অন্য দেশগুলো দখলের খেলায় মেতেছে।
এখন দেখার বিষয়— এই যুদ্ধের পর কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়।
তবে এটা এখন প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়—
ইরান টিকে গেছে।
এই যুদ্ধে ইরানের আর হারাবার কিছু নেই।
তথ্যসূত্র:
*আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বিভিন্ন সাংবাদিকদের কথোপকথনের রেকর্ড
* আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্হার ব্রেকিং নিউজ
* দেশি বিদেশি সংবাদ মাধ্যম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category