শিরোনাম :
আহমদ ছফার বিয়ে ও শামীম শিকদার প্রসঙ্গ। যত চাপই আসুক ব্রিটেন কে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টেনে নেয়া যাবেনা —- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। একটি শিক্ষনীয় গল্প এবং আমাদের মানবিক চরিত্র। ৯ম পদাতিক ডিভিশনের নিষ্ক্রিয়তা: ৪ আগস্টের রহস্য ঘিরে নতুন প্রশ্ন। আধুনিক বিকৃত ইসলাম এবং মদিনা বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কারিকুলাম। জন দুর্ভোগের সূতিকাগার নরসিংদী পৌরসভা হরমুজ প্রণালী কে ইস্যু করে তেহরানের নতুন পরিকল্পনা ৩ শ্রেণীতে বিভক্ত দেশ। কূয়াকাটায় ছাত্র হিযবুল্লাহর উদ্যোগে দাখিল পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ। শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তৈরির আশঙ্কা, নিজ নিজ শর্তে ই*রান- আ*ম্রিকা দু’পক্ষই ছাড় দিতে নারাজ, সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি কোন পক্ষ। কুরআনের অপব্যাখ্যার অজুহাতে কুষ্টিয়ায় কথিত পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর কে পিটিয়ে হত্যার নেপথ্য কাহিনি।
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

বাসায় অপরিচিত অতিথি কিংবা ভাড়াটিয়ার ছদ্মবেশধারী থেকে সাবধান।

Reporter Name / ৫৪ Time View
Update : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬

ডা: ফারহানা—
এখনো ভাবলে আমার বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠছে, আতঙ্কে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে! চোখের সামনে সাক্ষাৎ সর্বনাশের হাত থেকে গতকাল কীভাবে যে বেঁচে ফিরেছি, তা শুধু উপরওয়ালাই জানেন।

ঢাকায় সারাদিন আমি বাসাতেই একা থাকি। চারদিকের যা অবস্থা, অপরিচিত কেউ নক করলে ভয়ে দরজা খোলার সাহসই পাই না। কিন্তু গতকাল কী মনে করে যেন আব্বু বাসায় ছিলেন। আর ঠিক ওই দিনই দুপুরবেলা দরজায় কড়া নাড়লো এক বিশাল বিপদ!

দরজা খুলতেই দেখি তিনজন ছিমছাম, অত্যন্ত ভদ্র চেহারার মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেখে বোঝার কোনো উপায়ই নেই যে এই নিরীহ চেহারার আড়ালে কী ভয়ংকর রূপ লুকিয়ে আছে! খুব মিষ্টি হেসে তারা বললো, “বাড়িওয়ালা আঙ্কেল পাঠালেন, পাঁচ তলার ফ্ল্যাটটা খালি হবে তো, উনারা বাসায় নেই। তাই আঙ্কেল বললেন আপনাদের ফ্ল্যাটের লেআউটটা একটু দেখে যেতে। ভেতরের ডিজাইন নাকি একই রকম।”

আমি একটু অবাক হয়ে বললাম, “কিন্তু আমাদের ফ্লোর তো টাইলস করা না, আর পাঁচ তলা তো পুরো টাইলস করা ফ্ল্যাট।” ওরা মুহূর্তের মধ্যে এমনভাবে কথা ঘুরিয়ে দিলো যে আমি কিছু ভাবার বা সন্দেহ করার সুযোগই পেলাম না। হাসিমুখে বললো, “আরে আপু সমস্যা নেই, শুধু রুমের সাইজটা আর জানালাগুলো দেখলেই হবে…”

এরপর শুরু হলো তাদের আসল সাইকোলজিক্যাল খেলা। তিনজন মিলে আমাকে এমন কথার জালে, এমন ধাঁধায় আটকে ফেলল যে আমি যেন একপ্রকার সম্মোহিত হয়ে গেলাম। একজন এটা জিজ্ঞেস করে, তো আরেকজন ওটা। আমাকে টুঁ শব্দ করার বা স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করার কোনো সুযোগই তারা দিচ্ছিল না। একটানা কথার ঘোরের মধ্যেই তারা আমাকে ঠেলে ভেতরের রুমের দিকে নিয়ে যেতে চাইলো। আমি সরল মনে বললাম, “আচ্ছা আসুন, ভেতরে আসুন।”

কিন্তু ভেতরের রুমে পা রাখতেই ওদের চোখ ছানাবড়া! কারণ খাটের ওপর আব্বু বসে ছিলেন। আব্বুকে দেখে মুহূর্তের মধ্যে ওদের মুখের সেই মিষ্টি হাসি মিলিয়ে গিয়ে মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। চরম থতমত খেয়ে, তোতলে গিয়ে কোনোমতে বললো, “অ্যাঁ… আচ্ছা ঠিক আছে, আমরা বাড়িওয়ালা আঙ্কেলের সাথেই কথা বলে নেবো।” বলেই একপ্রকার পড়িমরি করে দ্রুতপায়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল তারা।

তখনো আমি ঘটনার ভয়াবহতা কিছুই বুঝিনি। বিকেলে বাড়িওয়ালা আঙ্কেলের সাথে দেখা হতে ক্যাজুয়ালি জিজ্ঞেস করলাম, “আঙ্কেল, মেয়েগুলোকে পাঠিয়েছিলেন যে ফ্ল্যাট দেখতে?”

আঙ্কেল যেন আকাশ থেকে পড়লেন! বললেন, “কই মা, আমি তো কাউকেই পাঠাইনি!”

কথাটা শোনার পর আমার পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে গেল। বুকটা ধড়ফড় করে উঠলো। কিন্তু আসল ধাক্কাটা খেলাম আজ সকালে।

শুনতে পেলাম, ঠিক আমাদের পাশের বাসাতেই গতকাল ওই একই তিন মেয়ে ঢুকেছিল। একই বাড়িওয়ালার রেফারেন্স, একই ফ্ল্যাট দেখার বাহানা, একই কথার জাল। আর সেই সুযোগে পাশের বাসার মানুষদের বোকা বানিয়ে তাদের সর্বস্ব—নগদ টাকা, সোনার গহনা, দামি মোবাইল সব লুট করে নিয়ে পালিয়েছে!

খবরটা শোনার পর থেকে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছি। গতকাল যদি আব্বু বাসায় না থাকতেন? প্রতিদিনের মতো যদি আমি একা থাকতাম? আমার আব্বুর তিল তিল করে জমানো ব্যবসার পুরো টাকা, আর মায়ের রেখে যাওয়া শেষ সম্বল গহনাটুকু… সব, সব নিয়ে যেত ওরা! বাধা দিতে গেলে হয়তো আমাকে বড় কোনো শারীরিক আঘাত করতেও তারা পিছপা হতো না। আমরা এক নিমিষেই পথে বসে যেতাম! আল্লাহ নিজ হাতে গতকাল আমাদের এই মহাবিপদ থেকে রক্ষা করেছেন।

ঢাকার পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চোর-ডাকাতেরা এখন আর রাতের অন্ধকারে গ্রিল কেটে আসে না, দিনের আলোয় ভদ্রবেশে আমাদের ড্রয়িংরুমে ঢুকে পড়ছে। আপনাদের সবার কাছে আমার হাত জোড় করে অনুরোধ, বাসায় একা থাকলে চেনা মানুষ ছাড়া ভুলেও কাউকে দরজা খুলে দেবেন না। বাড়িওয়ালার নাম বললেও আগে বাড়িওয়ালাকে ফোন দিয়ে কনফার্ম হয়ে নিন।

দয়া করে এই পোস্টটি যতটা সম্ভব শেয়ার করে আপনার পরিচিতদের সতর্ক করুন। আপনার একটি শেয়ার হয়তো কোনো নিরীহ পরিবারকে পথে বসার হাত থেকে, কিংবা কোনো বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। সবাই খুব সাবধানে থাকবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category