মাহবুবুর রহমান খান:গ্রামে থাকলে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’কে
সুর সম্রাট নয়, বাজাইন্না বলেই ডাকতো সবাই!
.
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ বাদ্যকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আঞ্চলিক ভাষায় যাকে বলে ‘বাজাইন্না’। সুরের টানে ঘুরে বেরিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। আবিষ্কার করেছেন নতুন সুর, রাগ, সরুদের মত অসংখ্য যন্ত্রসংগীত। সেদিনের ঘর পালানো ছেলেটি ঘরে ফিরেছেন সুর সম্রাট হয়ে!
কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ যদি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুর গ্রামেই পড়ে থাকতেন তিনি কি সুর-সম্রাট হতে পারতেন? নাকি তাকে সারাজীবন থাকতে হতো দলিত সম্প্রদায়ের ‘বাজাইন্না’ হয়েই?
কারণ যে সমাজে সন্তানকে মূল্যায়ণ করা হয় পিতার অর্থ-বিত্ত, যশ-খ্যাতি, ক্ষমতা দেখে। যে সমাজে ধরে নেওয়া হয় শিক্ষকের ছেলেই শিক্ষক হবে, মন্ত্রীর ছেলে হবে মন্ত্রী। আর মেথরের ছেলে আজীবন মেথর থেকে যাবে, মুছির ছেলে থেকে যাবে আজীবন মুচি! পিতা-মাতা বা গোত্রের কারণে অনেকে তো তাদের মানুষ ভাবতেই ভুলে যায়!
যে সমাজে কেউ বড় হতে চাইলে ছেঁটে ফেলা হয় বনসাইয়ের মতো। অঙ্কুরেই নির্মূল করে দেয়া হয় সত্য, সুন্দর, স্বপ্নের বাগান। সেখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে ক’জন?
এ দেশে যাঁরা বড় হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই নিগৃহীত ছিলেন তাঁদের জন্মস্থানে। এক আকাশ অবহেলা নিয়ে প্রায় নির্বাসিত জীবন-যাপন করেছিলেন অন্য কোনো শহরে, অন্য কোনো দেশে।
তারপর তাঁদের সাধনার ফলে পথের ধূলা থেকে তাঁরা হয়েছেন মানুষের মাথার তাজ। তিতাস পাড়ের কবি আল মাহমুদ তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ” শহর ভয় পেতাম, কিন্তু শহরই আমাকে কবি বানিয়েছে”। তিতাস পাড়ে থাকলে হয়তো তাকে গাবরের ছেলে বলেই ডাকতো আজ।
কথা হলো জন্মের আগে কারো জানার সুযোগ নেই কে কোন পরিবার, কোনো গোত্রে, কোন দেশে জন্মগ্রহণ করবে। তবুও আমরা কেনো জন্ম দিয়েই তাকে বিচার করবো?
.
তথ্য সূত্র :বইমজুর, নকল বাড়ি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।