কেন্দুয়া ( নেত্রকোণা)থেকে
মামুনুল হকখান হলি:
কেন্দুয়ার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকার (৮৯) বছর বয়সে আজ
১৩ আগস্ট বিকাল পৌনে ৩টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
যতীন সরকার ১৯৩৬ সালের ১৮ আগস্ট নেত্রকোনা জেলাধিন কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের চন্দপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক এই শিক্ষক সুদীর্ঘকাল ধরে মননশীল সাহিত্যচর্চা এবং প্রগতিশীল আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তিনি দুই মেয়াদে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
লেখক সাহিত্যক হিসাবে যতীন স্যারের অর্জন:
লেখক হিসেবে যতীন সরকার ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার♥️
২০০৭ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পদক,
২০০৫ সালে ‘পাকিস্তানের জন্ম-মৃত্যু দর্শন’ গ্রন্থের জন্য প্রথম আলো বর্ষসেরা গ্রন্থপুরস্কার,
ড. এনামুল হক স্বর্ণপদক,
খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার,
মনিরুদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন।
তার প্রথম গ্রন্থ ‘সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে।
এরপর ধারাবাহিকভাবে একের পরে এক প্রকাশিত হয় #বাংলাদেশের কবিগান
#বাঙালির সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য
#সংস্কৃতির সংগ্রাম
#মানবমন
#মানবধর্ম
#সমাজবিপ্লব’।
এছাড়াও শিশুদের জন্য একটি ব্যাকরণ গ্রন্থও রচনা করেন তিনি।
বাংলা একাডেমির জীবনী গ্রন্থমালার মধ্যে চারটি গ্রন্থ রচনা করেন তিনি।
যথাক্রমে-
#কেদারনাথ মজুমদার
#চন্দ্রকুমার দে
#হরিচরণ আচার্য
#সিরাজউদ্দিন কাসিমপুরী’।
তার সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘রবীন্দ্রনাথের সোনার তরী’, ‘প্রসঙ্গ মৌলবাদ’ ও ‘জালাল গীতিকা সমগ্র’।
এ ছাড়া তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আরও রয়েছে ‘পাকিস্তানের জন্মমৃত্যু দর্শন’, ‘দ্বিজাতিতত্ত্ব, নিয়তিবাদ ও বিজ্ঞান-চেতনা’, ‘সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবী সমাচার’, ‘সাহিত্য নিয়ে নানাকথা’ আরো অনেক কিছু ।
প্রখ্যাত সাহিত্যিক, কেন্দুয়ার গুণীজনের চিরবিদায়ে আমরা কেন্দুয়াবাসী আজ গভীরভাবে শোকাহত।
বি.দ্র.মামুনুল হক খান একজন মানবাধিকার উন্নয়ন কর্মী,স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক ও ফ্রিল্যান্স রাইটার এণ্ড জার্ণালিস্ট।