সিলেট থেকে খালেদ আহমদ :আমেরিকায় প্রধান উপদেষ্টার সফর সঙ্গীদের হেনস্থার চেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে ডিম নিক্ষেপ করে আটক মিজানুর রহমান চৌধুরী অনিক ওরফে মিজান ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক ও সিলেট জেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য।তিনি সিলেটের ছাত্রলীগ -যুবলীগের নাশকতায় অর্থের যোগানদাতা বলে একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে উঠে এসেছে।মিজানের বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ থানার রসুলপুর গ্রামে। তার বাবার নাম হাবিবুর রহমান চৌধুরী।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় সপরিবারে বসবাস করছেন মিজান। তার ভাই ব্যবসায়ী অলিউর রহমান চৌধুরী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ এবং নিউইয়র্কে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত.। ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি গণভবনে প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মতবিনিময় সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন।
একটি গোয়েন্দা সংস্থা অনিকের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে ও তথ্য সংগ্রহ করছে। জানা গেছে, তার পুরো পরিবারেই আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। চিত্র নায়িকা মৌসুমীর সঙ্গেও অনিকের ছবি ও ঘনিষ্ঠতার তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। কট্টর সমর্থক মিজান আওয়ামী লীগের অর্থের যোগানদাতা। ৫ আগস্ট এর পর আত্মগোপনে থাকা আওয়ামীলীগের কর্মী সমর্থকদের জন্য তিনি অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছেন। তার ইন্ধনে ও অর্থায়নে জকিগঞ্জে মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মী সমর্থকরা। সে তার বাড়িতে শুধু আওয়ামী সমর্থক লোকজনকে ডেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে বলে এলাকা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এলাকার বড় ভাই সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পলাতক নাছির উদ্দিন খান ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পলাতক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে জানা গেছে। ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের খোঁজ খবরের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। বিদেশ টাকা পাঠিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে ঈদের সময় বেশ বড় পরিমানের বরাদ্দ তার লোকজনকে পৌঁছে দিয়েছেন। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ওপর দিন নিক্ষেপের কথা নিজেই স্বীকার করেছেন মিজানুর রহমান অনিক। এ ঘটনায় একটি ভিডিও জুড়ে দিয়ে ফেসবুকে তিনি লিখেন খাইয়া দিছি।টেরোরিস্ট আখতার কে।
পুলিশ তাকে আটকের পরও ফেসবুকে আবার একটি স্ট্যাটাস দেন মিজানুর রহমান চৌধুরী অনিক।বাংলাদেশ সময় বেলা বারোটায় তিনি ফেসবুকে লিখেন, আমি কারাগার থেকে বলছি শেখ হাসিনার কর্মী মিজানুর রহমান চৌধুরী। জয় বাংলা।
মিজানের বিরুদ্ধে বিএনপির কর্মীকে ছুরি দিয়ে মারার এটার অভিযোগ রয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী সোলায়মান হক জানান, বিএনপি সমর্থিত এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন মিজানুর রহমান তাকে ছুরি দিয়ে মারতে এসেছেন এরপর নিউইয়র্ক পুলিশ তাকে আটক করে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
ছবি ক্রেডিট: ইন্টারনেট।